× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ঢাকা সিটি নির্বাচন- ২০২০ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২৭ জানুয়ারি ২০২০, সোমবার

মিয়ানমার নৌ বাহিনীর হাতে আটক ১৭ বাংলাদেশি জেলেকে ফেরত

অনলাইন

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি | ৭ ডিসেম্বর ২০১৯, শনিবার, ১১:৩৫

গভীর বঙ্গোপসাগরে মিয়ানমার জলসীমা থেকে আটক হওয়া ১৭ বাংলাদেশি জেলেকে কোস্টগার্ডের কাছে হস্তান্তর করেছে মিয়ানমার নৌবাহিনী। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের অদূরে গভীর সাগরে কোস্টগার্ডের তাজউদ্দিন নামক জাহাজে তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। মিয়ানমার নৌবাহিনীর দাবি গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশি ১৭ জেলেকে নিজেদের জলসীমা থেকে উদ্ধারপূর্বক আটক করেছিলো তারা।

এদিকে কোস্টগার্ড সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশি মাছ ধরার ট্রলার ‘এফবি গোলতাজ-৪’ গত তিনদিন আগে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে সাগরে মাছ শিকারে যায়। দু’দিন পর ট্রলারটি ইঞ্জিন বিকল হয়ে সাগরে ভাসতে ভাসতে মিয়ানমার জলসীমায় পৌঁছলে মিয়ানমার নৌবাহিনীর জাহাজ ‘ইন-লে’ ১৭ জন জেলেসহ বাংলাদেশি ট্রলারটি উদ্ধার করেন।

পরে খবরটি জেনে মিয়ানমারে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস কোস্টগার্ডকে বিষয়টি অবহিত করে। এরপর আটক জেলেদের উদ্ধার করার জন্য কোস্টগার্ড উদ্যোগ নেয়। অবশেষে ১৭ জেলেকে উদ্ধার করার পর কোস্টগার্ড এক সংবাদ ব্রিফিংএর আয়োজন করে।
ওই ব্রিফিংএ কোস্টগার্ড তাজউদ্দীন জাহাজের কর্তব্যরত কমান্ডার এসএম মেজবাহ উদ্দিন জানান, সরকার ও সংশ্লিষ্ট বাহিনীর প্রচেষ্টায় মিয়ানমার নৌবাহিনীর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ফিশিং ট্রলারসহ ১৭ বাংলাদেশি জেলেকে ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছি। তিনি আরও জানান, ইঞ্জিন বিকল হয়ে বাংলাদেশী ট্রলারটি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রাথিডং উপকূলের মাইও নদীর মোহনায় ঢুকে পড়েছিলো এবং এই প্রথম গভীর সাগরের মাঝখানে দুই দেশের বাহিনী পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আটক বাংলাদেশি জেলেদের দ্রুত সময়ে ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছে কোস্টগার্ড।

উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশি জেলেরা হচ্ছেন, ভোলা জেলার সদরের চুন্নাবাদ এলাকার মো. মিলনের ছেলে জাকির হোসাইন (৪৪), একই জেলার চরফ্যাশন উপজেলার নোরাবাদ এলাকার আবদুল লতিফ ব্যাপারীর ছেলে আবুল কালাম (৫৬), গোলদার হাট এলাকার মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে কামাল সওদাগর (৪৯), উত্তর মাদ্রাজ এলাকার জয়নাল আবেদীনের ছেলে নুরুল ইসলাম (৫৯), নীলকমল এলাকার মৃত নজির আহমদের ছেলে মোতাহার (৫৫), একই এলাকার আবদুল মালেকের ছেলে বেলাল হোছাইন (২৭), মৃত নজির আহমদের ছেলে মো. ফারুক (৪৩), আবদুল বারেক চৌকিদারের ছেলে মো. ছলিম (৪০), চরফ্যাশন সদরের নুর মোহাম্মদ পাটোয়ারীর ছেলে মো. জসিম (৫১), চরফ্যাশন পৌর এলাকার আবি আবদুল্লাহ’র ছেলে আবুল কালাম (৫৭), একই এলাকার মকবুল আহমদের ছেলে মো. নেছার (৪৬), দৌলতখান উপজেলার কলাখোপা এলাকার মো. আলমগীরের ছেলে মো. আলামীন (১৯),  চরখলিফা এলাকার আবদুর রাজ্জাকের ছেলে মো. জহিরুল ইসলাম (২৯), চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার মৃত আবদুল জলিলের ছেলে মো. শাহ আলম (৬১), একই উপজেলার শোভনদন্দী এলাকার মৃত সোলায়মানের ছেলে মো. জসিম (৩৩), মুন্সীগঞ্জের টঙ্গী বাড়ি উপজেলার জাহের আলীর ছেলে আবু সায়েদ (৩৬) ও ঝালকাঠি রাজাপুর উপজেলার আবদুল কাদেরের ছেলে মো. নুরুজ্জামান (৪৬)।

ফেরত আসা জেলেরা জানান, গত ২৯শে নভেম্বর ভোলা এলাকা থেকে গভীর সাগরের মাছ শিকার করার জন্য বের হন তারা। এরপর রাতের অন্ধকারে হঠাৎ ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে সাগরে ভাসতে ভাসতে গত ৩০শে নভেম্বর মিয়ানমার জলসীমা ঢুকে পড়লে সেদেশের নৌবাহিনী তাদের আটক করে।

অবশেষে বাংলাদেশ সরকার ও কোস্টগার্ড সদস্যদের সার্বিক সহযোগিতায় আমরা খুব কম সময়ের মধ্যে স্বদেশে ফেরত আসতে সক্ষম হয়েছি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর