× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ঢাকা সিটি নির্বাচন- ২০২০ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২০ জানুয়ারি ২০২০, সোমবার

চট্টগ্রামে অপহৃত প্রবাসীকে উদ্ধার

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে | ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, শনিবার, ৭:৪৭

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় শওকতুল ইসলাম (৩৫) নামে পর্তুগালের এক প্রবাসীকে ফিল্মি স্টাইলে অপহরণের পর মারধর করা হয়েছে। তবে খবর পেয়ে আনোয়ারা থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। গত বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক জহিরুল হক এ তথ্য জানান। গুরুতর আহত প্রবাসী শওকতুল ইসলাম আনোয়ারা উপজেলার আইরমঙ্গল ৭নং ওয়ার্ডের মো. সিরাজুল ইসলামের তৃতীয় পুত্র। এ ঘটনায় ১৩ জনের নাম ও ৭-৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে তার ভাই ছগীরুল ইসলাম আনোয়ারা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ছগীরুল ইসলাম জানান, শওকতুল ইসলাম পর্তুগালের নিউ ইউনিভারসিটি অব লিজবেনে ডাটা সাইন্সে অধ্যায়নরত আছে। সম্প্রতি সে দেশে ফিরে। এরপর থেকে কতিপয় চিহ্নিত দুষ্কৃতকারী তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে।
অন্যথায় বাবার ক্রয়কৃত জমি ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেয়।  চাঁদা না দেয়ায় গত ১১ই ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ২০-২১ জনের একদল দূষ্কৃতিকারী মোটর সাইকেল যোগে প্রবাসী শওকতুল ইসলামকে অপহরণ করে। খবর জানাজানি হলে ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে বিষয়টি আনোয়ারা থানা পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ রাতে অভিযান চালিয়ে একটি ঘর থেকে শওকতুল ইসলামকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। শওকতুল ইসলাম জানান, অপহরণের আগে তিনি নিজ বাড়ী থেকে চট্টগ্রাম শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে তার গতিরোধ করে একটি ঘরে তুলে নিয়ে গিয়ে বেদম মারধর করতে থাকে। এমনকি তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্রের আঘাত করতে থাকে। একপর্যায়ে নিজের কাছে থাকা ৭০ হাজার টাকা, পুর্তগালের ক্রেডট কার্ড, মোবাইল ফোন, মোটর সাইকেল ও যাবতীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়। অভিযানে পুলিশ মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করলেও বাকি জিনিসপত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এমনকি কাউকে গ্রেপ্তারও করতে পারেনি পুলিশ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ দুলাল মাহমুদ বলেন, অপহরণের ঘটনা শোনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রবাসী শওকতুল ইসলামকে উদ্ধার করে। তাকে মারধর ও হত্যাচেষ্টা চালানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। মোবাইল ফোনটি কিভাবে উদ্ধার হলো প্রশ্ন করা হলে সে বিষয়ে সঠিক কোন তথ্য দিতে পারেননি তিনি। তবে এ ঘটনায় ১৩ জনের নামে ও ৭-৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখিয়ে একটি মামলা করা হয়। আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি। স্থানীয় লোকজন জানান, সম্প্রতি শওকতুল ইসলমের বাবা সিরাজুল ইসলাম নিজ এলাকায় কিছু জমি ক্রয় করেন। ওই জমি দখলের বিনিময়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন দুষ্কৃতকারীরা। এ বিষয়ে এর আগে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অভিযোগও দায়ের করেন শওকতুল ইসলাম।  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জোবায়ের আহমদ নিজেই ওই জায়গার দখল বুঝিয়ে দেন। ফলে ক্ষিপ্ত হয়ে দৃষ্কৃতকারীরা প্রবাসী শওকতুল ইসলামকে অপহরণ ও মারধর করে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা চালায়। উপেজলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জুবায়ের আহেমদ এ প্রসঙ্গে বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত। অভিযোগ আসেলই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর