× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, রবিবার

প্রবাস জীবনের উপলব্ধি

প্রবাসীদের কথা

আব্দুল মোমিত (রোমেল)ফ্রান্স থেকে | ৩ জানুয়ারি ২০২০, শুক্রবার, ১২:০১

পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আন্তরিকতা এবং সর্বোচ্চ সহনশীলতার মাধ্যমে প্রবাসে সুন্দর সামাজিক পরিবেশ তৈরি করা উচিত। প্রবাস জীবন শেখায় জীবনকে উপলব্ধি করতে। নিজের পরিবার ছাড়াও আত্মীয় স্বজন, বন্ধুবান্ধবের গুরুত্ব কতখানি তা প্রচণ্ডভাবে উপলব্ধি করা যায় প্রবাস জীবনে।
প্রবাসে পরিজন-খুব বেশি প্রয়োজন। জীবনসঙ্গীকে বছরের পর বছর অপেক্ষার মধ্যে রেখে কীভাবে আশপাশে ঘটে যাওয়া অনেক কিছুকেই এড়িয়ে জীবনযুদ্ধে এগিয়ে যেতে হয় তা শিখিয়েছে প্রবাস জীবন।

মানুষ কখনো একা জীবন যাপন করতে পারে না। মানুষ চায় জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে কেউ না কেউ তার পাশে থাকুক। কারণ মানুষ ‘সামাজিক জীব’।
মায়ের গর্ভ থেকেই শুরু হয় নতুন একটি জীবনের পথ চলা। এভাবে ধীরে ধীরে জীবনের সান্নিধ্যে থেকে বাড়তে থাকে মানব জীবন। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে আরও নতুন নতুন জীবন সান্নিধ্য পাবার আকাঙ্খা।
যে জীবনের পথ চলা শুরু হয়েছিল মায়ের গর্ভ থেকে, পরবর্তীতে স্থান পায় পরিবারে, পরিবার থেকে প্রতিবেশি, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এভাবেই চলতে থাকে। সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করে।

আমরা নিজের পরিবার থেকে, নিজের প্রতিবেশি থেকে, নিজের আত্মীয় স্বজন থেকে যখন অনেক দূরে নিজের চির চেনা দেশ, পরিবেশ ছেড়ে প্রবাসে বসবাস করি তখন আমরা মানবিক কারণেই অন্য কারো সান্নিধ্য প্রত্যাশা করে থাকি। এটাই মানব জীবনের সহজাত প্রবৃত্তি।
সাধারণত প্রবাস জীবন শুরু করতে হয় কখনো একেবারেই একা নয়তো শুধুমাত্র নিজের একক পরিবার নিয়ে। কিন্তু শুধু একা কিংবা নিজের পরিবারের মধ্যে বেঁচে থাকা কখনই সম্ভব নয়। শুধুমাত্র একা কিংবা নিজের পরিবারের মধ্যেই যদি বেঁচে থাকা সম্ভব হতো তাহলে মানুষের সমাজে বসবাস করার প্রয়োজন হতো না। একা কিংবা নিজের পরিবার ছাড়াও জীবনে আত্মীয় স্বজন, বন্ধুবান্ধবের গুরুত্ব কতখানি তা প্রচণ্ডভাবে অনুভব করা যায় প্রবাস জীবনে।

আর সে কারণেই প্রবাসী মন খুঁজে ফেরে নতুন বন্ধুবান্ধব আত্মীয় স্বজন। শুরু হয় নতুন সমাজে মিলে মিশে থাকার প্রয়োজনে নানা আয়োজন।
অবচেতন মনেই আমরা নতুন সমাজে মিলে মিশে থাকার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করি। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো আমরা অনেক সময় মিলেমিশে থাকার যতটুকু প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করি ঠিক ততটুকু গুরত্ব দেই না। আর এই গুরত্ব না দেওয়ার কারণে একে অন্যের প্রতি যথেষ্টৎ শ্রদ্ধা এবং আন্তরিকতা থাকে না। আমরা ভুলে যাই আমাদের সহজাত প্রবৃত্তির কথা; যে কারণে আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা, সে কারণ আমাদের অলক্ষ্যে  থেকে যায়। সামাজিকতার নামে আমরা কখনো মেতে উঠি একে অন্যের অর্থনৈতিক অবস্থানের প্রতিদ্বন্দিতায়, আবার কখনো মেতে উঠি নোংরা পরচর্চায়। কখনো কখনো মিথ্যা অহমিকা এবং ভুল নেতৃত্ব আমাদের স্বাভাবিক সুন্দর জীবন ধারাকে করে বিঘ্নিত।

যার ফলে আমাদের আসল উদ্দেশ্য যেটা ছিল সামাজিকভাবে জীবন যাপন করা সেখানে নেমে আসে বিপর্যয়। আমরা প্রবাসীরা খুব ভাল করেই জানি, প্রবাস জীবনে প্রতিবেশি-পরিজন কত বেশি প্রয়োজন। প্রবাসীর এ উদ্যম দেখে ঘড়ির কাঁটা নিজেই যেন ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
শত কষ্ট, ব্যস্ততার মাঝেও প্রবাসীদের খুশি হতে খুব বেশি কিছু লাগে না। দেশে সবাই ভাল আছে, তার হাসিমাখা কণ্ঠস্বরই ভরিয়ে দেয় প্রবাসীদের প্রাণ।
প্রবাসে চরিত্রগুলো ভিন্ন হতে পারে কিন্তু তাদের জীবনযুদ্ধ, গল্পকথা  মোটামুটি একই রকম। প্রতিটি জীবনই প্রবাসে এসে বদলে যায়, সজ্জিত হয় সম্পূর্ণ এক নতুন ধাঁচে।
প্রবাস জীবন শেখায় জীবনকে উপলব্ধি করতে, শত বাধা উপেক্ষা করে এগিয়ে চলতে। আর ‘আদু ভাই’-এর মতো আমি/ আমরা শিখে যাচ্ছি বছরের পর বছর। এ শিক্ষা জীবনের শেষ কোথায়?

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
আবুল হোসেন ভূইয়া
৩ জানুয়ারি ২০২০, শুক্রবার, ৩:৪০

প্রবাসীরা হল পরগাছার মত। ওরা না ডাকলেও আমারা ওদের দেশে গিয়ে পরিবার নিয়ে ঝাপিয়ে পরছি বলে ওদের নাক সিটকানো লক্ষ করেছি।যার কারনে আমরা পরগাছাদের ইউরোপ, আমেরিকায়, মধ্যপ্রাচ্যের স্থানীয় নাগরিকরা আমাদের আপন করে নিতে পারেনা। কোন অনুষ্ঠান দাওয়াত করেনা. হায় হ্যালো মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আমাদের দেশের মানুষের মত আবেগ প্রবন তারা না। তার পরেও লক্ষ করেছি, প্রবেশে বাংলাদেশি শিক্ষিতর সংখা অতি কম. যার কারণে এই লোক গুলো স্থানীয় দের সাথে মেলা মেশায় সংকোচ বোধ করে।

অন্যান্য খবর