× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, রবিবার
কলকাতার ডায়েরি

হাওড়া সেতুতে চালু হলো লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো

চলতে ফিরতে

পরিতোষ পাল | ১৩ জানুয়ারি ২০২০, সোমবার, ৭:২৩

কলকাতা ও হাওড়া যমজ শহর বলেই পরিচিত। আর এই যমজ শহরের মধ্যে যোগসূত্র তৈরির লক্ষ্যে ১৯৪৩ সালে তৈরি হয়েছিল হাওড়া ব্রিজ। বর্তমানে এটি সরকারিভাবে রবীন্দ্র সেতু হিসেবে পরিচিত হলেও সকলের মুখে মুখে এটি হাওড়া ব্রিজ হিসেবেই বেশি পরিচিত। দেশ বিদেশের মানুষ কলকাতায় এসেই শহরের এই আইকনটিকে দেখতে ছুটে যান হুগলি নদীর ধারে। বিশ্বের ব্যস্ততম এই ক্যান্টিলিভার ব্রিজটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় এক লক্ষ গাড়ি চলাচল করে। এছাড়াও প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ পায়ে হেঁটে এই ব্রিজের উপর দিয়ে যাতায়াত করেন। ৭৬ বছরের পুরনো এই ব্রিজটি রক্ষণাবেক্ষণের ভার ন্যস্ত দেড়শতবর্ষী কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের উপর। ক্যান্টিলিভার এই ব্রিজটির বৈশিষ্ট্য হলো, এটিতে কোনো নাট-বল্টু ব্যবহৃত হয়নি।
আর এই ব্রিজটি তৈরি করতে প্রায় ২৬ হাজার ৫০০ টন স্টিল ব্যবহৃত হয়েছে। এর মধ্যে ২৩ হাজার টনই উন্নতমানের স্টিল। এবং এই স্টিলের মাত্র ৩ হাজার টন এসেছিল বিলেত থেকে। বাকি স্টিলের পুরোটাই সরবরাহ করেছিল টাটা স্টিল। গত ৭৬ বছর ব্রিজটির শরীরে কোনো মলিনতার আস্তরণ পড়তে দেয়া হয়নি। প্রতিবছর নিয়ম করে রঙের আস্তরণ দেয়া হয়েছে। এমনকি পথচারীদের গুটকা ও পানের পিক থেকে পিলারগুলোকে রক্ষা করতে বিশেষ ঘেরাটোপ তৈরি করা হয়েছে। এরই মধ্যে আলো দিয়ে আলোকিত করা হয়েছে ব্রিজটিকে। তবে এবার থেকে চালু করা হলো লাইট এন্ড শো। শনিবারই প্রধানমন্ত্রী এটির উদ্বোধন করেছেন। এখন থেকে সন্ধ্যার পর আলোর ঝর্ণাধারায় ভাসবে এই ঐতিহাসিক ব্রিজটি। লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শোতে উজ্জ্বল হয়ে উঠবে এর গর্বিত ইতিহাস। কোনো ব্রিজে ভারতে এই প্রথম কোনো লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো চালু হলো বলে জানা গেছে।

ছাত্রদের প্রতিবাদের নতুন ভাষা
প্রতিবাদ আন্দোলনের নানা ধরনের ভাষার সঙ্গে আমরা পরিচিতি হয়েছি। তবে সম্প্রতি বাম-কংগ্রেসের শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকা ধর্মঘটে অংশ নেওয়া ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতিবাদের এক নতুন ভাষার সঙ্গে আমাদের পরিচয় করিয়েছেন। ধর্মঘটে অংশ নেয়া যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা গত ৮ই জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের গড়িয়াহাটমুখী রাস্তা পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল। আর নিয়ন্ত্রিত সেই পথে ছাত্র-ছাত্রীদের দেখা গেছে ক্যারম খেলতে। কেউ বা খেলছে ব্যাডমিন্টন। আবার কোথাও চলছে চুটিয়ে ক্রিকেট খেলা। মনোসংযোগে দাবা খেলাতেও অনেককে নিবিষ্ট দেখা গেছে। আবার অনেকেই রাস্তায় বসে ‘আজাদি’র স্লোগান দিয়েছেন, গেয়েছেন আদিবাসীদের লড়াইয়ের গান। ধর্মঘটের সমর্থনে রাস্তায় ছাত্র-ছাত্রীরা খেলাধুলায় অংশ নিয়ে কি ছুটির মেজাজে দিনটি কাটালো? সাংবাদিকরা এই প্রশ্ন রাখা মাত্রই ছাত্র-ছাত্রীরা সোচ্চারে জানিয়েছে, মোটেই তা নয়। বরং এটাই আমাদের প্রতিবাদের ভাষা। তাদের বক্তব্য, রাস্তায় খেলাধুলা করে বোঝাতে চেয়েছি, এমন খোলামেলা পরিবেশেই আমরা আনন্দের সঙ্গে বাঁচতে চাই। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের নয়া নাগরিকত্ব আইনসহ বেশকিছু ভ্রান্ত নীতি মানতে পারছি না। আর এক ধর্মঘট সমর্থক ছাত্র জানিয়েছে, রাস্তায় বসে দাবা খেলে আমরা এটাই বোঝালাম যে, হিংসার পথে নয়, বুদ্ধির মাধ্যমেই আমরা যুদ্ধে জিততে চাই। নতুন প্রজন্মের ছাত্র-ছাত্রীরা একটা কথা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আন্দোলনে প্রতিবাদের ভাষা অনেক রকম হতে পারে। আসলে প্রতিবাদটাই হলো বড় কথা। প্রতিবাদ মানেই স্লোগান বা  পতাকা হাতে মিছিলই শেষ কথা নয়। প্রবীণ এক ট্রেডইউনিয়ন নেতা জানিয়েছেন, আন্দোলন একটি সুনির্দিষ্ট পথ ধরেই চলবে সেটা এই সময়ে মোটেই তা হচ্ছে না। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে সোশ্যাল মিডিয়াও আন্দোলনের ভাষা হয়ে উঠেছে। আর ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের মতো করেই প্রতিবাদে শামিল হচ্ছে। সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা এটাই বুঝিয়ে দিয়েছে যে, সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে বুদ্ধিদীপ্তভাবেও প্রতিবাদ জানানো যায়।

এসিড হামলায় দেশের শীর্ষে
সুরক্ষার নিরিখে কলকাতার সাফল্য নিয়ে পুলিশ গর্ব অনুভব করলেও এসিড হামলায় এখনো পশ্চিমবঙ্গ শীর্ষে। ২০১৮ সালের ‘ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো’ (এনসিআরবি)-র রিপোর্টে জানানো হয়েছে, এসিড হামলায় ভারতে শীর্ষে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, ওই বছরে রাজ্যে এসিড হামলার ঘটনা ঘটেছে ৫০টি। আক্রান্ত হয়েছেন ৫৩ জন। শুধু তা-ই নয়, এসিড হামলার চেষ্টা হয়েছে আরো ১২টি ক্ষেত্রে। অর্থাৎ এসিড হামলার ঘটনা কমছে না কিছুতেই। এসিড হামলার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো সোচ্চার হওয়া সত্ত্বেও এই হামলার শিকার হয়ে নারী মুখ লুকোতে বাধ্য হচ্ছেন। অবশ্য অনেকে আবার মাথা তুলে সমাজে নিজেদের প্রতিষ্ঠার লড়াই করে চলেছেন। তবে নারীদের উপর এসিড হামলা বন্ধ করতে প্রকাশ্যে এসিড বিক্রি বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে বিভিন্ন স্তর থেকে। এমনকি সুপ্রিম কোর্ট এসিড বিক্রির ওপর নজরদারির নির্দেশ দেয়া সত্ত্বেও যে মানা হচ্ছে না তা পুলিশের একাংশ স্বীকার করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবেই নির্দেশ দিয়েছেন, লাইসেন্স ছাড়া কোনো দোকানে এসিড রাখা বা বিক্রি করা যাবে না। আর লাইসেন্স থাকলেও কোন দোকান এসিড বিক্রি করছে, কাকে করছে, সব তথ্য রাখতে হবে স্থানীয় থানাকে। কিন্তু কোনো থানার কাছেই এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকে না। বরং সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশকে উপেক্ষা করেই দেদার বিক্রি হচ্ছে এসিড। এমনকি, তা পাওয়া যাচ্ছে অনলাইনেও। এসিড আক্রান্তদের নিয়ে কাজ করা একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অন্যতম কর্তা দিব্যালোক রায় চৌধুরী জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরে যে ক’টি এসিড হামলার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, সবগুলোই মিউরিয়টিক এবং নাইট্রিক এসিড-হামলার ঘটনা। প্রায় প্রতি ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, হামলাকারীরা সোনার দোকান থেকে ওই এসিড সংগ্রহ করেছে। ফলে সোনার দোকানগুলোর উপরে পুলিশের নিয়মিত নজরদারি দরকার। পাশাপাশি যে সব কারখানায় এসিড তৈরি হচ্ছে, সেগুলোর উপরেও দরকার কড়া নজরদারি। তবে শুধু নজরদারি বা সচেতনতা প্রচারে এসিড হামলা বন্ধ সম্ভব নয় বলে মনে করেন আক্রান্তরা। তাদের বড় অংশের দাবি, শাস্তি না হওয়ায় হামলাকারীদের সাহস বেড়ে যাচ্ছে। তা দেখে অন্যরা মনে করছে, সহজেই হামলা চালিয়ে পার পাওয়া যায়। এক আক্রান্ত তরুণী বলেছে, যে-হারে এসিড হামলার ঘটনা বাড়ছে, তাতে মনে হচ্ছে আমরা শুধু চিৎকারই করে যাচ্ছি। হামলাকারীদের আটকানো যাচ্ছে না, প্রশাসনেরও এ ব্যাপারে কোনো সদিচ্ছা নেই। অথচ প্রতিবেশী বাংলাদেশে এসিড হামলার ক্ষেত্রে কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করে তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের এক কর্ত্রী।

ব্যাক্টেরিয়া ও উদ্ভিদের প্রয়োগে নোংরা পানি শোধন
গঙ্গা দূষণ ঠেকাতে দু’পারের নিকাশি নালা ও খালের মুখে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট করেও পানি পরিশোধনের কাজে বড় রকমের সাফল্য আসেনি। আবার অনেক জায়গাতেই ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরির জন্য জমির সমস্যা রয়েছে। বর্ষার সময় ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের জন্য পানি আটকে রাখার সমস্যাও রয়েছে। এই অবস্থায় বিকল্প হিসেবে আধুনিক পদ্ধতিতে ব্যাক্টেরিয়া (বায়ো রেমেডিয়েশন) অথবা উদ্ভিদের (প্ল্যান্ট রেমেডিয়েশন) মাধ্যমে নিকাশির নোংরা পানি পরিশোধন করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (কেএমডিএ) শহর এবং শহরতলির আটটি খালকে চিহ্নিত করে এই প্রক্রিয়া চালু করবে বলে ঠিক করেছে। কেএমডিএ-র এক আধিকারিক জানিয়েছেন, নাজির খাল, মোক্তারপুর খাল, বাগ খাল, বাগের খাল, খড়দহ খাল, চড়িয়াল খাল এবং বালি ও বৈদ্যবাটি খালের পানি পরিশোধনের জন্য নতুন পরিশোধন ব্যবস্থাকে কাজে লাগানো হবে। জলজ উদ্ভিদ এবং ব্যাক্টেরিয়া বিষয়ের গবেষক প্রসেনজিৎ দা বলেছেন, বিশেষ কিছু ব্যাক্টেরিয়া পানির দূষণ কমাতে সাহায্য করে। কিছু উদ্ভিদও পানির দূষণ কমায়। ব্যাক্টেরিয়া মূলত পানির দূষণের উপাদান ভেঙে দেয়। উদ্ভিদ নোংরা পানি শুঁষে নেয়। এছাড়াও কচুরিপানা, উইলো, পপলার, সূর্যমুখী এবং এক ধরনের বিশেষ প্রজাতির ঘাসও দ্রবীভূত দূষণের অংশ শুঁষে নেয়। নতুন পরিশোধন পদ্ধতি নিয়ে বিজ্ঞানীরা আশাবাদী হলেও বাস্তবে তা কতটা কার্যকরী হবে তা সময়ই বলবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর