× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শনিবার

৩০ বছর আগে সগিরা মোর্শেদ হত্যায় চার আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ১৭ জানুয়ারি ২০২০, শুক্রবার, ৯:০১

৩০ বছর আগে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সামনে সগিরা মোর্শেদ সালাম (৩৪) হত্যার ঘটনায় তদন্ত শেষে গতকাল আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পারিবারিক তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়। হত্যার পরিকল্পনা করা হয় রাজধানীর রাজারবাগের একটি বাসায় ও ইস্কাটন রোডের একটি ফার্মেসীতে। ইতিমধ্যেই এ ঘটনায় নিহতের ভাসুর, জাসহ চার আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। যা ঘটনার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার সঙ্গে মিলে গেছে বলে জানিয়েছেন, পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার।
চার্জশিট দাখিলের আগে গতকাল দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই সদরদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ওই হত্যাকান্ডে জড়িত চারজনকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের আসামি করে আদালতে ‘চার্জশিট’ দেয়া হচ্ছে। তারা হচ্ছে, সগিরার ভাসুর ডা. হাসান আলী চৌধুরী, তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহিন, শাহিনের ভাই আনাছ মাহমুদ ওরফে রেজওয়ান ও কিলার মারুফ রেজা। তারা সবাই হত্যাকান্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

তিনি বলেন, আলোচিত এই হত্যা মামলাটি ডিএমপির ২৫ জন কর্মকর্তা তদন্ত করেছেন। একজন কর্মকর্তা গড়ে সন্দেহজনক হিসেবে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছেন। জলিল মিন্টু ওরফে মিন্টু নামে একজনকে আসামি করে চার্জশিটও দেয়া হয়েছিল। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে গত বছরের ১৭ই জুলাই মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। তদন্তের শুরুতে আদালতে দীর্ঘদিন মামলাটি স্থগিত বা স্টে অর্ডার দাখিলকারী হিসাবে মারুফ রেজার নাম দেখে সন্দেহ শুরু হয়। কারণ ভিকটিম বা বাদীর নিকট আত্মীয় না হয়েও সে কেন স্টে অর্ডার করতে গেলো। এই সন্দেহের জেরে মারুফ রেজাকে আটক করলে বেড়িয়ে আসে আসল খুনিরা।
বড় জায়ের ঈর্ষার কারণে সগিরা মোর্শেদকে হত্যা করা হয় জানিয়ে ডিআইজি বনজ কুমার বলেন, পিবিআই তদন্ত করে হত্যার পেছনে আটটি কারণ খুঁজে পেয়েছে। তা হলো, সগিরা মোর্শেদের পরিবারের সঙ্গে আসামিদের পরিবারের সাংসারিক বিভিন্ন দ্বন্দ্ব, আসামিরা তৃতীয় তলা থেকে বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনা নিচে ফেললে সগিরার রান্নাঘর ও বারান্দায় পড়া নিয়ে দ্বন্দ্ব, সগিরা মোর্শেদকে শাশুড়ির বেশি পছন্দ করা, আসামি শাহিনের চেয়ে সগিরার শিক্ষাগত যোগ্যতা বেশি থাকা, আসামিদের ফ্ল্যাট থেকে সগিরা মোর্শেদের ফ্ল্যাট সুন্দর ও গোছানো হওয়া, তিন তলা ভবনের ছাদ ব্যবহার করা নিয়ে দ্বন্দ্ব, আসামি শাহিনকে ‘তুমি’ বলা নিয়ে মনোমালিন্য ও সগিরা মোর্শেদের কাজের মেয়ে জাহানুরকে মারধর নিয়ে দ্বন্দ্ব। পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, এসব থেকে সগিরা মোর্শেদকে খুন করতে ওই সময় ২৫ হাজার টাকা দিয়ে আসামি মারুফ রেজাকে ভাড়া করে নিহতের ভাসুর ডা. হাসান আলী চৌধুরী। মারুফ রেজা হাসান আলীর রোগী ছিল। আসামিদের জবানবন্দি অনুযায়ী, ১৯৮৯ সালের ২৫শে জুলাই বিকালে স্কুল থেকে মেয়েকে আনতে রিকশায় করে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সামনে যাওয়া সগিরা মোর্শেদের পথ আটকায় মটরসাইকেল আরোহী মারুফ ও রেজওয়ান। হাতব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার পর হাতের বালা নিতে উদ্যত হলে রেজওয়ানকে চিনে ফেলার কথা বলেন সগিরা। তারপরই তার বুকে গুলি চালিয়ে দেয় মারুফ রেজা। নিহত সগিরা মোর্শেদা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক ছিলেন।
বর্তমানে আবাসন ব্যবসায়ী ও বেইলি রোডের বাসিন্দা মারুফ রেজা এরশাদ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসানের ভাগ্নে। ওই সময়ই সে গ্রেপ্তার হলেও তার নাম বাদ দিয়ে মন্টু নামে একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছিল পুলিশ। এরপর বিচার শুরু হলেও সাক্ষ্যে মারুফ রেজার প্রসঙ্গ উঠে আসায় অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন বিচারিক আদালত। কিন্তু উচ্চ আদালতে গিয়ে মামলা আটকে যায়। মারুফের আবেদনে ১৯৯১ সালের ২রা জুলাই হাই কোর্ট মামলাটির অধিকতর তদন্তের আদেশ ও বিচারকাজ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করার পাশাপাশি অধিকতর তদন্তের আদেশ কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে। পরের বছর ২৭শে অগাস্ট জারি করা ওই রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই মামলার বিচারকাজ স্থগিত থাকবে বলে আরেকটি আদেশ দেয় হাইকোর্ট।
২৮ বছর আগের মারুফের ওই আবেদন গত বছর জুনে খারিজ করে দিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে প্রথমে মামলার বাদী সগিরা মোর্শেদের স্বামী আব্দুস সালাম চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করে পিবিআই। অনেক চেষ্টার পর বের করা হয় সগিরাকে বহনকারী সেদিনের যুবক রিকশাচালককে। তার মাধ্যমে হত্যাকারীদের একজন ডা. হাসানের শ্যালক আনাছ মাহমুদ রেজওয়ানকে সনাক্তের পর গত ১০ই নভেম্বর রামপুরা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বাকি তিনজনকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পিবিআই প্রধান বনজ কুমার বলেন, মামলাটি নষ্ট করতে প্রতারণামূলক কাজ করা হয়েছে। আমরা তদন্তকারী সংস্থা হিসেবে চার জনেরই ফাঁসি চাইবো।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর