× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার
গার্ডিয়ানের সম্পাদকীয়

আজীবন ক্ষমতার পথে পুতিন

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৭ জানুয়ারি ২০২০, শুক্রবার, ৭:৪৭

প্রায় বছর খানেক আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট  ভ্লাদিমির পুতিনকে এক সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন করা হয়েছিল-২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার মেয়াদ শেষ হলে রাশিয়ার অবস্থা কী হবে? পুতিনের উত্তর হতবাক করা ছিলো না। ক্ষুদে ওই প্রশ্নকারীর দিকেই প্রশ্ন ছুড়েছিলেন- তোমার এতো তাড়া কিসের? আমি কোথাও যাচ্ছি না এখনো।

স্টালিনের পর রাশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি শাসক হচ্ছেন পুতিন। তার ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার ইচ্ছা নিয়ে বিশ্লেষকরা বহু আগ থেকেই সতর্কতা দিয়ে আসছেন। রাশিয়ার পুরো একটি প্রজন্ম তাকে ছাড়া অন্য কোনো শাসক দেখেনি। অদূর ভবিষ্যতে দেখার সম্ভাবনাও কম। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে দিমিত্রি মেদভেদ ও তার মন্ত্রিসভার পদত্যাগ সে ধারণাকে আরো জোরদার করেছে। মেদভেদের এমন পদক্ষেপে অনেকেই অবাক হয়েছেন। আরো অবাক হয়েছেন, পুতিনের সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবে।
তবে সবচেয়ে বড় হতবাক করা বিষয় হচ্ছে, এই পদক্ষেপের সময় ও ধরন। এতে বেশ   স্পষ্টতই   বোঝা যায় যে, পুতিন ২০২৪ সালের পরও ক্ষমতায় থাকতে চান। আর নিজের এ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত তিনি।

প্রথমত, তিনি ফর্মে আছেন। রুশ প্রেসিডেন্টরা সর্বোচ্চ টানা দুইবার ক্ষমতায় থাকতে পারেন। এটা হিসেব করেই, পুতিন ২০০৮ সালে প্রেসিডেন্ট মেয়াদ শেষ করে চার বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পদ গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু তখনো আড়াল থেকে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে তিনিই ছিলেন। এরপর ২০১২ সালে ফের আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট পদে ফিরে আসেন।

দ্বিতীয়ত, স্বৈরাচারী শাসকরা আদতে অবসর পছন্দ করেন না। বিশেষ করে, দুই দশক ক্ষমতার শীর্ষে থাকার পর তা আরো কঠিন হয়ে পড়ে। ৬৭ বছর বয়সী পুতিনের নিজেকে ও নিজের ‘লিগ্যাসি’ রক্ষা করতে হবে। এক্ষেত্রে, কেবল বর্তমান স্বার্থগুলো বিবেচনা করা যথেষ্ট নয়। পাশাপাশি এমন একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে যেটি তাকে ছাড়া পরিচালনা সম্ভব নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেশটিতে অভিজাতদের মধ্যে ক্ষমতার টানাটানি দেখার পর এটা আরো   স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পুতিনের ক্ষেত্রে ঝুঁকির সংখ্যা একাধিক। তার মিত্ররা মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেনতো বটেই, একইসঙ্গে তার পুরো শাসনব্যবস্থাই ধসে পড়তে পারে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কীভাবে সমালোচনা সৃষ্টি না করেও ক্ষমতার শীর্ষে থাকা যায়। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তার প্রেসিডেন্সিয়াল মেয়াদের ব্যবস্থাই গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। পুতিনকে তার পথ অনুসরণ করতে হলে, আগে সাংবিধানিক সংশোধনের আয়োজন করতে হবে। ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রিত্ব শেষে পুতিনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফেরার ঘোষণা ও নির্বাচনের পর রাশিয়ার রাস্তায় নেমে এসেছিল বিক্ষোভকারীরা। নিশ্চিতভাবেই পুতিন ফের একই কৌশলে আশ্রয় নেয়ার মতো বোকা নন।

বুধবার ‘স্টেট অব দ্য ন্যাশন’ ভাষণে পুতিন গণভোটের মাধ্যমে সংবিধানে বড় ধরনের সংশোধনী আনার প্রস্তাব দেন। তার প্রস্তাবে প্রেসিডেন্টের অনেক ক্ষমতা পার্লামেন্টের কাছে হস্তান্তরের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া, প্রেসিডেন্টের দুই মেয়াদের নিয়ম সংশোধন করা, বিদেশি নাগরিকত্ব কিংবা বিদেশে বসবাসের অনুমতি থাকা ব্যক্তিদের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হতে নিষিদ্ধের আইন সুসংহত করা কথাও বলেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তিনি এতদিন ধরে যে ‘প্রেসিডেন্সি’কে জোরদার করেছেন, বুধবারের প্রস্তাবিত পদক্ষেপ সেসবকিছুকে দুর্বল করে দেবে। অপরদিকে, এসব সংশোধনীতে বাড়বে প্রধানমন্ত্রী ও পার্লামেন্টের ক্ষমতা। ইতিমধ্যেই গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে, পুতিন কাজাখস্তানের নূর সুলতান নাজারবায়েভকে অনুকরণ করতে চলেছেন। নাজারবায়েভ গত বছর প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে গিয়ে দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের প্রধানের পদ গ্রহণ করেছেন। নিজের উপাধি রেখেছেন ‘জাতির নেতা’। পুতিনের প্রস্তাবে রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এতে এই গুঞ্জন আরো জোরদার হয়েছে।

দেশের শীর্ষ ক্ষমতার পদ থেকে সরে আসা পুতিনের জন্য একদিক দিয়ে বেশ ভালো হতে পারে। তিনি দেশীয় রাজনীতির চেয়ে সামরিক ও বৈশ্বিক বিষয় পছন্দ করেন। তার শাসনামলের প্রথম দশকে রাশিয়া তেল খাতে উন্নতি দেখেছে। একইসঙ্গে বেড়েছে অর্থনীতিও। কিন্তু বর্তমানে দেশজুড়ে বেকারত্ব ও আয়ের হার হ্রাস পাওয়া নিয়ে সমালোচিত তার সরকার। গত বছর তার অনুমোদনের হার ১৩ বছরে সর্বনিম্নে পৌঁছেছে। তা সত্ত্বেও ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ তাকেই পছন্দ করে।

পুতিনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী হবে তা ঘিরে অস্পষ্টতা বিরাজ করছে। এটা একদিক দিয়ে ভালো। তার হাতে জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া দমিয়ে রাখার বহু অপশন খোলা থাকবে। আগেভাগে কাজ শুরু করায় প্রস্তুতি নেয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবেন তিনি। নিজের উত্তরসূরি বাছাই, গণভোটের মাধ্যমে সাংবিধানিক সংশোধন, আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনে আশানুরূপ ফলাফল অর্জন সহ বহু কাজ বাকি রয়েছে এখনো। তবে রাশিয়ার ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট ও অভিজাতদের জন্য নতুনভাবে ব্যবস্থা গড়ে তোলা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে উঠতে পারে। পুতিনের বিরুদ্ধে যাওয়া অবশ্যই বোকামি। কিন্তু এমনটা ভাবাও ঠিক হবে না যে, তিনি আজীবন প্রশ্নাতীত থাকবেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Md. Ataher Ali Sarka
২০ জানুয়ারি ২০২০, সোমবার, ১০:২৮

All things come to him who waits.

অন্যান্য খবর