× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার

সূর্যসেনের স্মৃতি বিজড়িত পাহাড়টিও কেটে ফেলছে দুর্বৃত্তরা

দেশ বিদেশ

ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রাম থেকে | ১৮ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার, ৮:৩০

 চট্টগ্রামের পাহাড়গুলো যেন অনেকের শত্রু। এরমধ্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক), সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ), স্থানীয় সরকার পরিষদ (এলজিআরডি)সহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থা রয়েছে। তবে পাহাড়গুলো নিধনে সবচেয়ে বেশি জড়িত সরকারি দলের নেতা পরিচয়ে অসংখ্য দুর্বৃত্ত। যারা পাহাড় কেটে গড়ে তুলছে বহুতল বাড়ি, দোকান পাট, বিলাস বহুল মার্কেটসহ আয়ের বিভিন্ন স্থাপনা। আর সড়ক ও আবাসনের জন্য প্লট তৈরির নামে পাহাড় কেটে সাবাড় করছে চউক, সওজ, এলজিআরডিসহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। গত ১১ই জানুয়ারি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এর পুণর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পাহাড় কাটার দায়ে চউকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতি উষ্মা ও দুর্বৃত্তদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। কিন্তু এর মাত্র কয়েকদিন যেতে না যেতেই চট্টগ্রামে মাস্টারদা সূর্যসেনের ব্রিটিশ বিরোধী যুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত জালালাবাদ পাহাড়টিও কেটে ফেলছে দুর্বৃত্তরা। পাহাড়ের চারপাশে টিনের উঁচু ঘেরা-বেড়া দিয়ে প্রতিদিন রাতের আঁধারে কেটে সাবাড় করছে এই পাহাড়।
অথচ এ বিষয়ে কিছুই জানে না বলে জানান, সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ। পরিচালকের অসুস্থতার কারনে উদাসীন পরিবেশ অধিদপ্তরও। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট থানা প্রশাসনসহ অনেককে ম্যানেজ করে এই পাহাড় কাটছে লোহাগাড়া হাউজিং সোসাইটি নামে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। গত পাঁচদিন ধরে নগরীর খুলশী থানার জালালাবাদ এলাকার এই ঐতিহাসিক পাহাড়ের একাংশ কেটে ফেলেছে মোহাম্মদ জসিম, মনির ওরফে কালা মনির ও তাহের। স্থানীয়রা জানান, রাতের অ্বাধারে দুইটি এস্কেভেটর দিয়ে তারা পাহাড়টির একাংশ কেটে খোলা মাঠে পরিণত করেছে। আর কয়েকদিনে মাস্টারদা সূর্যসেনের স্মৃতিবিজড়িত এই পাহাড়টি বিলীন হয়ে যাবে। তবে টিনের উঁচু ঘেরা-বেড়ার কারনে এবং বাইরে থেকে কাউকে ঢুকতে না দেওয়ায় ভেতরে ঠিক কী হচ্ছে বুঝা মুশকিল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ জসিম বলেন, পাহাড়টি খুলশী থানার জালালাবাদ মৌজার ২৩ নম্বর খতিয়ানের ২৭ নম্বর দাগের লোহাগাড়া হাউজিংয়ের মালিকানাধীন। তাদের অধীনে পাহাড়টি কাটা হচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনসহ অনেককে ম্যানেজ করে এই পাহাড় কাটা হচ্ছে বলে জানান তিনি। আর বিষয়টি অস্বীকার করে খুলশী থানার অফিসার (ওসি) প্রণব চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না। তবে খবর নিয়ে গতকাল শুক্রবার সকালে পাহাড় কাটার স্থানে ফোর্স পাঠিয়েছি। জসিম, মনির, তারেক নামে কাউকে আমি চিনি না। কেউ যদি বলে থানাটা আমি কিনে ফেলেছি, তাহলে আপনি কি বিশ্বাস করবেন? পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পরিচালক সংযুক্তা দাশ গুপ্ত এ প্রসঙ্গে বলেন, পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর যথেষ্ট তৎপর। তবে আমাদের পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিক স্যার একটি দুর্ঘটনায় অসুস্থ থাকায় ওনার বিকল্প কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তবুও এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ১৯৩০ সালের ২২শে এপ্রিল বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রামের খুলশী থানার জালালাবাদ পাহাড়ে ব্রিটিশ সৈন্যদের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সম্মুখযুদ্ধ হয়। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুট করার পর সূর্যসেন ও তার সহযোদ্ধারা জালালাবাদ পাহাড়ে আশ্রয় নিলে গোপনে সংবাদ পেয়ে ব্রিটিশবাহিনী সেখানে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালায়। এ যুদ্ধে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। শহীদ হন ১৪ জন বিপ্লবী। এদের মধ্যে হরিগোপাল বল টেগরা, প্রভাস বল, নরেশ রায়, ত্রিপুরা সেন, বিটু ভট্টাচার্য, মতি কানুনগো, অশোক দত্ত, নির্মল লালা, জিতেন দাশগুপ্ত, মধুসূদন দত্ত, পুলিন ঘোষ ও অর্ধেন্দু দস্তিদারের নাম উল্লেখযোগ্য।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর