× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শনিবার

অর্ধেক কাজ বাকি রেখেই ফায়ার স্টেশন উদ্বোধন

বাংলারজমিন

শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি | ২২ জানুয়ারি ২০২০, বুধবার, ৮:২২

সুনামগঞ্জের শাল্লায় অর্ধেক কাজ বাকি রেখে ২ কোটি ৫৬ লাখ টাকার স্থাপনা প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে উদ্বোধন করানো হয়েছে। ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে ভবন নির্মিত হয়েছে উল্লেখ করে শাল্লা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন উদ্বোধন করা হয়। অথচ উদ্বোধনের ১ বছর পেরিয়ে গেলে ও এখন পর্যন্ত এই ভবনের ৪০ ভাগ কাজই শেষ হয়নি। তবে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ৮০ ভাগ কাজ হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন জানান- ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শাল্লা উপজেলা সদরের গোবিন্দ চন্দ্র সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে শাল্লা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কাজ শুরু হয়। সিলেটের আক্তার টেডার্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রথম বছর কাজ করলেও দ্বিতীয় বছর থেকেই কাজে গাফিলতি শুরু করে। কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০১৮ সালে কাজ শেষ হবার কথা থাকলেও কাজ অসমাপ্ত রেখেই এক বছর আগে ঠিকাদারের লোকজন সবকিছু গুটিয়ে চলে আসে।
সুনামগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়- ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আক্তার টেডার্স কাজ না করেই এই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কাজ শেষ দেখিয়ে সিংহভাগ বিল ইতিমধ্যে উত্তোলন করেছে। শাল্লা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু বলেন, এই ফায়ার সার্ভিস স্টেশন আদৌ হবে কি-না, এই নিয়ে শঙ্কিত শাল্লার মানুষ। তিন তলা পর্যন্ত শেওলা পড়ে পুরাকীর্তির আকার ধারণ করেছিল।
দেওয়ালের কোথাও কোথাও গাছ গজিয়েছিল। এখন আবার কাজ ধরেছে, তবে কাজ চলছে ঢিমেতালে।
শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি আব্দুর সাত্তার বলেন, শাল্লা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নিয়ে কেবল প্রধানমন্ত্রী’র সঙ্গে প্রতারণাই করা হয়নি, কাজ শেষের আগে ঠিকাদারকে বিলও দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শুরু হওয়া অন্য ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কাজ একই পরিমাণ বরাদ্দে শেষ হয়ে গেছে। শুনেছি, এই স্টেশনের কাজ শেষ করার জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, কবে যে কাজ শেষ হবে কেউ সঠিক বলতে পারছে না ।
 উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মুক্তাদীর হোসেন বলেন, শাল্লা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের জন্য বরাদ্দ কত টাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়কে কখনো জানানো হয়নি। কাজ শুরু থেকে নির্মাণাধীন ভবনের পাশে বরাদ্দের বা প্রকল্পের কোনো সাইনবোর্ড ছিলো না। আমি শাল্লায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে যোগদান করেছি ২০১৮ সালের ১০ই নভেম্বর। এর এক-দুই দিন আগে দেশের অন্য এলাকার কিছু প্রকল্পের সঙ্গে শাল্লা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ভবন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করানো হয়।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আল আমিন চৌধুরী বলেন, আমি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবার পর গত জুন মাসে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছি। এরপরও কিছু না হওয়ায় জুলাই মাসের সমন্বয় সভায় আমি বলেছিলাম, এই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কাজ নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। প্রয়োজনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি জানাবো আমি। জেলা প্রশাসক মহোদয়ও ওই সভায় গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর ওপর ক্ষুব্ধ হন। তিনি এই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেন। এরপর কচ্ছপ গতিতে কাজ শুরু হয়েছে।  এখনও প্রায় ৪০ ভাগ কাজ বাকি রয়েছে।
শাল্লা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুল অদুদ বললেন, ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কাজ নিচু এলাকায় করায় এই স্টেশনের সীমানা দেওয়াল নরমালভাবে করা যাচ্ছে না। রডের কাজ করতে হবে। যোগাযোগের সড়কও আরসিসি করতে হবে। এজন্য এই স্টেশনের কাজ শেষ করতে আরো ৩৮ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হচ্ছে। কাজ চলমান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধনের বিষয়ে এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ভাল বলতে পারবেন বলে জানান উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুল অদুদ। সুনামগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবিল আয়ান বলেন, আমি সুনামগঞ্জ থেকে কাল বদলি হয়ে গেছি। শাল্লা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কাজ চলমান রয়েছে। কাজ শুরুর সময় এর ব্যয় নির্ধারণ হয়েছিল প্রায় দুই কোটি টাকা। এখন দেখা যাচ্ছে ওই বরাদ্দে কাজ শেষ হবেনা, বরাদ্দ আরো চাওয়া হয়েছে।  ঠিকাদারকে পুরো বিল দেয়া হয়নি। নির্মাণ শেষ হয়েছে, এটি আমরা কখনই বলিনি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর