× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার
ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদন

করোনা ভাইরাস ঠেকাতে ভারতে প্রস্তুতি তুঙ্গে

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ২২ জানুয়ারি ২০২০, বুধবার, ৮:৫৯

করোনা ভাইরাসে এখনো ভারতে কেউ আক্রান্ত হননি। কিন্তু এই প্রাণঘাতী ভাইরাস ঠেকাতে ভারতে  প্রস্তুতি তুঙ্গে। বন্দর ও বিমানবন্দরে চালু থার্মাল স্ক্রিনিং। সেই সঙ্গে নেয়া হয়েছে একগুচ্ছ ব্যবস্থা। উহানে ভারতীয় শিক্ষিকা  প্রীতি মাহেশ্বরী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। দিল্লির মেয়ে প্রীতি উহানে শেনজেন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষিকা। তিনিই হলেন এই ভাইরাসে আক্রান্ত  প্রথম বিদেশি। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে সেখানে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রীতি এবং উহানে থাকা পাঁচ শ’ ভারতীয় ছাত্রছাত্রীকে রীতিমতো চিন্তিত কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। তারা ইতিমধ্যেই করোনা ভাইরাসের মোকাবিলায় একগুচ্ছ ব্যবস্থা নিয়েছেন। কলকাতা, মুম্বই, দিল্লি, চেন্নাই, ব্যাঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও কোচিতে থার্মাল স্ক্রিনিং চালু হয়ে গেছে। বিমানবন্দরের আশেপাশের হাসপাতাল চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ভাইরাসে কেউ আক্রান্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে ভর্তি করে উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমানে ঘোষণা করা হচ্ছে, কেউ অসুস্থ বোধ করলে সঙ্গে সঙ্গে জানাতে। বিমানবন্দরে তাকে বিশেষভাবে পরীক্ষা করে দেখা হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের আধিকারিক জানিয়েছেন, বিদেশ মন্ত্রককে চিঠি লিখে বলা হয়েছে, তারা যেন ৩১শে ডিসেম্বর থেকে উহানের যে বিদেশিদের ভিসা দেয়া হয়েছে, তাদের তালিকা দেন। দৈনিক ভিত্তিতে যেন এই তালিকা পাঠানো হয়। প্রবীণ সাংবাদিক ও স্বাস্থ্য বিষয়ক সংবাদ বিশেষজ্ঞ সুরেশ উপাধ্যায় ডয়েচে ভেলেকে বলেছেন, ‘চীন ও তার  প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য ট্র্যাভেল অ্যাডভাইসারি বা পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য সচিব  প্রতিদিন রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এই ভাইরাসে কেউ আক্রান্ত হলেই তার চিকিৎসা কীভাবে করতে হবে, কীভাবে অন্যরা যাতে আক্রান্ত না হন, তা দেখতে হবে, সেই বিষয়গুলো নিয়ে তিনি কথা বলছেন। এক কথায়, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে। একটি জয়েন্ট মনিটরিং গ্রুপও বানানো হয়েছে। তারা দু’বার বৈঠক সেরে ফেলেছেন।’
এই  প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিক অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায় ডয়েচে ভেলেকে জানিয়েছেন, পুনেতে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজিকে বলা হয়েছে, সেরকম পরিস্থিতি দেখা দিলে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য তাদের কাছে পাঠানো হবে। তারাও তৈরি আছে। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল রিসার্চ বা আইসিএমআর- এর ভাইরাল রিসার্চ ল্যাবকেও বলে রাখা হয়েছে। প্রতিটি রাজ্যে র‌্যাপিড অ্যাকশন টিমকে  প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। বলা যেতে পারে, ভারত তৈরি।
কলকাতা বিমানবন্দরের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ডিজিসিএ দেশের  প্রতিটি বিমানবন্দরে অ্যাডভাইজারি বা পরামর্শক পাঠিয়েছে। চীন বা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া থেকে আসা পর্যটকদের জন্য বেশকিছু বিশেষ নিয়মের কথা বলা হয়েছে সেখানে। প্রতিটি বিমানবন্দরে তা পালনও করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, চীনে করোনা ভাইরাস দ্রুত ছড়াচ্ছে। চারজন এখনো পর্যন্ত মারা গিয়েছেন। উহান থেকে ভাইরাস এখন বেইজিং ও  সাংহাইতেও ছড়িয়েছে। জাপান, থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়াতেও করোনা ঢুকে পড়েছে। সে জন্য এই সতর্কতা জরুরি। তবে ভারতে এখনো কেউ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হননি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর