× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার

‘বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশি মুসলিম’

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ২৭ জানুয়ারি ২০২০, সোমবার, ১১:৩১

কলকাতার পার্ক সার্কাসে এবং নয়া দিল্লির শাহিনবাগে নাগরিকত্ব সংশোধন বিল (সিএএ), নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) এবং প্রস্তাবিত এনপিআর বিরোধী বিক্ষোভকারীদের ‘বাংলাদেশি মুসলিম’ বলে আখ্যায়িত করেছেন ভারতে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাহুল সিনহা। তার এ বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। কড়া সমালোচনা করেছেন লেফট ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বোস, কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী, পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য্য প্রমুখ। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বুনিয়াদপুর জেলায় সিএএ’র সমর্থনে এক র‌্যালিতে অংশ নেন রাহুল সিনহা। তার সঙ্গে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি দিলিপ ঘোষ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।  

ওই র‌্যালিতে রাহুল সিনহা বলেন, পার্ক সার্কাস ও শাহিনবাগে যারা অবস্থান নিয়েছিলেন তারা বাংলাদেশী মুসলিম। তিনি অভিযোগ করেন, এসব মানুষ অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে এবং উন্নত জীবনযাপন করছে।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, যারা দেশকে ভাঙতে চায় তারা শাহিনবাগে গিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। তার এমন মন্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে আখ্যায়িত করে এমন বক্তব্য দেয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন লেফট ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বোস। তিনি প্রশ্ন রাখেন, যখন সংবিধান মানুষকে তার অধিকার সমুন্নত রাখার নিশ্চয়তা দিয়েছে, তখন তাকে কি ‘দেশ বিরোধী’ আখ্যায়িত করা যায়। রাহুল সিনহার মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনিও পার্ক সার্কাসের বিক্ষোভ চলাকালে তাতে সংহতি প্রকাশ করেছিলেন। রাহুল সিনহার বক্তব্যের পর তিনি বলেছেন, যারাই বিজেপির বিরুদ্ধে যাবে তাদেরকেই তারা দেশবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করে। তাই পার্ক সার্কাসে যেহেতু গিয়েছিলাম আমি, তাই আমার নামও তাদের দেশবিরোধী নামকরণের তালিকায় উঠার কথা।

লোকসভায় অধীর রঞ্জন বলেন, বিজেপি সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে দেশকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু তারা এটা বুঝতে পারে নি সিএএ, এনআরসি এবং এনপিআরের বিরুদ্ধে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করবে। রাহুল সিনহার বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য্য। তিনি বলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই সে ভারত বিরোধী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশকে ভাগ করছেন। যারা সংবিধানকে অক্ষুন্ন রাখার জন্য প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছেন তারা এ কাজ করছেন না।

ওদিকে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি দিলিপ ঘোষ বলেছেন, সিএএ’র অধীনে শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেয়া হবে। অনেক বছর ধরে শরণার্থীরা এই নাগরিকত্ব দাবি করে আসছিলেন। এ সময় তিনি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের সমালোচনা করেন। বলেন, যখন এনআরসি আসবে তখন তাতে অংশ না নিতে লোকজনকে ভীতি প্রদর্শন করছে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা। তবে অনলাইনে হোক বা অফলাইনে হোক এ সংক্রান্ত ফরম পূরণ করা যাবে। তিনি বলেন, যখন নাগরিকত্ব সংশোধন বিল পাস হয়েছে তখন শরণার্থীদের অবশ্যই নাগরিকত্ব দেয়া হবে। কতদিন তারা এর বিরোধিতা করবে? তৃণমূলকে লক্ষ্য করে এ প্রশ্ন রাখেন দিলিপ ঘোষ। বলেন, যদি তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা এই প্রক্রিয়া বন্ধ করার চেষ্টা করে, তাহলে রাজ্যের মানুষ তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর