× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকরোনা আপডেট
ঢাকা, ৮ এপ্রিল ২০২০, বুধবার

সম্মিলিত ভর্তি পরীক্ষা চায় না ডাকসু

শিক্ষাঙ্গন

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার | ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শনিবার, ৯:৪৩

সম্মিলিত ভর্তি পরীক্ষার বিপক্ষে মত দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। শনিবার ডাকসুর কার্যনির্বাহী সভায় এ মত দেয় শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধি প্যানেল। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা বজায় রাখতে ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন দেন। সভাসূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডাকসুর সভাপতি ও ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম, ভিপি নুরুল হক নুর, জিএস গোলাম রাব্বানী, এজিএস সাদ্দাম হোসেনসহ ডাকসু প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট ১২ বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়াও সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যবহার নিয়ে আপত্তি তোলেন ডাকসুর এক সম্পাদক। পরে অন্য ডাকসু নেতারাও তার বক্তব্যের সঙ্গে সম্মতি জানান বলে জানা গেছে।

সভার প্রথম এজেন্ডা হিসেবে পূর্ববর্তী সভার কার্যবিবরণী পড়ে শোনান সদস্য রাকিবুল ইসলাম। দ্বিতীয় এজেন্ডা তোলেন জিএস গোলাম রাব্বানী।
এ এজেন্ডাটি ছিল ডাকসুর মাধ্যমে ব্যয়কৃত অর্থের অডিট সম্পন্নকরণ। এ বিষয়ে বক্তব্য দেন কোষাধ্যক্ষ শিবলি রুবাইয়াত। তিনি জানান অডিট সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যেই দুইজন শিক্ষককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পেমেন্ট অনলাইনের মাধ্যমে দেয়ার বিষয়টি ছিল তৃতীয় এজেন্ডা। মোবাইল ব্যংকিংয়ের মাধ্যমে সকল ফি পরিশোধের পক্ষে সমর্থন জানান সবাই। এটি বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ, ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগ ও ডাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদককে দায়িত্ব দেয়া হয়। তারা আলোচনা করে এ বিষয়টি ঠিক করবেন। চতুর্থ এজেন্ডা ছিল পরিবহনসংক্রান্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন খাতে নতুন তিনটি বাস যুক্ত হবে। এছাড়া কুমিল্লা বিশ্বরোড থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত নতুন এ বাসের ব্যবস্থা করা হয়। ষষ্ঠ এজেন্ডা তোলেন ডাকসুর স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী। এ এজেন্ডার আওতায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ, মুক্তিযুদ্ধ ভাস্কর্য সংস্কার ও ইতিহাস সংরক্ষণে ভাস্কর্যের গায়ে পাদটীকা স্থাপনের বিষয়ে আলােচনা হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সম্পাদককে দায়িত্ব দেয়া হয়। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও সুযোগ নিশ্চতকরণ নিয়ে ছিল সপ্তম এজেন্ডা। এটি উথাপন করেন ডাকসু সদস্য যোশীয় সাংমা চিবল। এটি বাস্তবায়নে প্রথমেই প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরি করার দায়িত্ব দেয়া হয় চিবলকে। ভিসি ও ডাকসুর সভাপতি প্রতিবন্ধীদের সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতকরণের বিষয়ে নিশ্চয়তা দেন।

অষ্টম এজেন্ডা ছিল ডাকসুর অভিষেক অনুষ্ঠানের পরিবর্তে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেয়ার বিষয়ে। সবার আলোচনার ভিত্তিতে আগামী মার্চ মাসের ১ থেকে ৬ তারিখের মধ্যে নবীন বরণের সিদ্ধান্ত হয়। ক্যাম্পাসে পলিথিন ও প্লাস্টিক এর ব্যবহার বন্ধে করণীয় ছিল নবম এজেন্ডা। এটি উত্থাপন করেন ডককসুর সদস্য মাহমুদুল হাসান। এর অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসে প্লাস্টিক-পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। সভার দশম এজেন্ডা ছিল বিভিন্ন বিভাগে অতিরিক্ত উন্নয়ন ফি আদায় সংক্রান্ত। ডাকসু সদস্য তানভীর হাসান সৈকত বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং সমর্থন জানান সভার আরও কয়েকজন সদস্য। তানভীর হাসান সৈকত বলেন, ভিসি এটিকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন এবং পরবর্তী ডিনস কমিটির মিটিংয়ে এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা করার কথাও জানিয়েছেন।

এগারোতম এজেন্ডা তোলেন ভিপি নুর। তিনি আবাসিক হলসমূহে প্রশাসনিকভাবে সিট বন্টনের কথা বলেন। এর সাথে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে সিট দেয়ার বিষয়টি যোগ করেন ডাকসু সদস্য তানভীর হাসান সৈকত। আবাসন সংকট সমাধানে বাঙ্ক বেড স্থাপনের বিষয়ে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর পাশাপাশি যেসকল শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব শেষ তাদের ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে হল ছাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সভার শেষ এজেন্ডা হিসেবে ক্যাম্পাসে ভ্রাম্যমাণ দোকান নিয়ন্ত্রনের বিষয়টি তোলেন ডাকসুর সদস্য মাহমুদুল হাসান। এ সমস্যা সমাধানে ক্যাম্পাসে নির্দিষ্ট কিছু সংখ্যক দোকানকে অনুমতি দেয়া ও তাদের পরিচয়পত্র প্রদানের ব্যপারে সিদ্ধান্ত হয়।

এছাড়াও সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রাব্বানীর আচরণে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন ডাকসু সদস্যরা। ডাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আরিফ ইবনে আলী বিষয়টি উত্থাপন করলে অন্যান্য সদস্যরাও একই অভিযোগ করেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর