× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকরোনা আপডেট
ঢাকা, ৯ এপ্রিল ২০২০, বৃহস্পতিবার

করোনা আক্রান্ত মৃত বাবাকে নিয়ে সন্তানের আবেগঘন স্ট্যাটাস

করোনা আপডেট

শুভ্র দেব | ২৩ মার্চ ২০২০, সোমবার, ৮:১৮

মিরপুরের উত্তর টোলারবাগে করোনা আক্রান্ত হয়ে ৭৩ বছর বয়সী বৃদ্ধের মৃত্যু নিয়ে রহস্য কাটছে না। স্থানীয়রা বলছেন, বিদেশ ফেরত জামাতার সংস্পর্শে এসে তিনি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। আর তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, গত কয়েক মাসে বিদেশ ফেরত কারো সংস্পর্শে ওই বৃদ্ধ আসেননি। এমন পরিস্থিতিতে আইইডিসিআর ওই ব্যক্তি কিভাবে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন তার তদন্ত শুরু করেছে। সরকারের এই সংস্থাটি ওই বৃদ্ধ যেসব স্থানে চলাচল করেছেন তার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করছে। তার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে আলোচনা করে জানার চেষ্টা করছেন তিনি কার কার সঙ্গে মিশতেন। এরকম পরিস্থিতিতে ওই বৃদ্ধের ছেলে ইকবাল আব্দুল্লাহ তার ফেসবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘পিতার মৃত্যু এবং সন্তানের ব্যর্থতা- আমি কখনো ভাবিনি যে আমার পিতার মৃত্যুর ঘটনা আমাকে এই ভাবে লিখতে হবে।
কিন্তু কিছু মিডিয়ার মিথ্যা রিপোর্ট দেখে আমি বাধ্য হলাম ফেসবুকে কিছু সত্য প্রকাশ করতে।
গত ১৬ তারিখে আব্বা অসুস্থ বোধ করলে আমাদের ড্রাইভার ঐ দিন বিকালে উনাকে কল্যাণপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঐ সময় আমরা ভাইরা সবাই অফিসে। আমি অফিস থেকে বাসায় এসে শুনলাম ডাক্তার সাসপেক্ট করছে, উনার করোনা হয়েছে এবং কোভিড-১৯ টেস্ট এর জন্য সাজেস্ট করেছে। অতঃপর ঐ রাত্রেই আমরা উক্ত টেস্ট এর জন্য আইইডিসিআর এর হান্টিং নাম্বারে ফোন দেয়া শুরু করি।
প্রায় দেড় ঘণ্টা পর তাদের সাথে আমরা যোগাযোগ করতে সামর্থ্য হই, তারা আমাদের জানায় যেহেতু অসুস্থ ব্যক্তি বিদেশ ফেরত না এবং বিদেশ ফেরত কোনো ব্যক্তির সংস্পর্শে উনি আসেননি সেহেতু এই টেস্ট উনার জন্য প্রযোজ্য নয়। আমি তাদের বলেছিলাম, উনি নিয়মিত মসজিদে যান এবং ঐখান থেকে এই ভাইরাস আসতে পারে কি না। তারা আমাদের বললেন যে, এই ভাইরাস বাংলাদেশের কমিউনিটিতে মাস লেভেলে এখনো সংক্রমিত হয়নি। সুতরাং আপনারা চিন্তা করবেন না, এটা সাধারণ শ্বাস কষ্টের প্রব্লেম।

ঐ রাতেই আনুমানিক সাড়ে ১০ টায় আমি উনাকে শ্যামলীর একটি বড় হাসপাতালে নিয়ে যাই এবং আমাদের পরিচিত একজন স্পেশালিষ্ট ডক্টরকে দেখাই। উনি আমাকে বলেন, রোগীর নিউমোনিয়া হয়েছে, উনাকে নিউমোনিয়ার ট্রিটমেন্ট দিতে হবে, তবে বাংলাদেশের কোনো হাসপাতাল এই রোগী ভর্তি নিবে না, আপনারা বাসায় ট্রিটমেন্ট করেন। আমি ঐ রাতে বাসায় চলে আসি এবং আব্বাকে নেবুলাইজার এবং মুখে খাওয়া এন্টিবায়োটিক দিতে থাকি।

পরের দিন ১৭ তারিখ দুপুরে আমি আব্বাকে নিয়ে যাই শ্যামলীর ঐ হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে। তারা রোগী দেখে বলেন যে, রোগীর অবস্থা ভালো না, উনাকে আইসিইউ সাপোর্ট দিতে হবে কিন্তু তাদের আইসিইউ তারা দিতে পারবে না। এরপর আমি কেয়ার হাসপাতালে কথা বলি। ওরা বলে ওদের আইসিইউ খালি আছে। আমরা দ্রুত আব্বাকে নিয়ে কেয়ার হাসপাতালে যাই এবং আইসিউতে ভর্তি করি। ১৫ মিনিট পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের বললেন, এই রোগী তারা রাখতে পারবে না। অতঃপর আমরা রোগী নিয়ে কল্যাণপুরের একটি হাসপাতালে যাই। তারা আমাদেরকে কেবিন দিয়ে সাহায্য করে কিন্তু তাদের আইসিইউ খালি নেই।

আমি তখন স্কয়ারে ফোন দিলাম আইসিইউ এর জন্য। কিন্তু স্কয়ার আমাদেরকে বললো, রোগী ছাড়া শুধু কাগজ পত্র নিয়ে আসতে। তারা কাগজ পত্র দেখে ভালো মনে করলে রোগী ভর্তি করবে। রাত আনুমানিক সাড়ে ১২ টায় হাসপাতালের ডাক্তার আমাকে বললেন এই রোগীর আইসিইউ লাগবে, আপনারা দ্রুত আইসিইউ এর ব্যবস্থা করেন। আমি বিভিন্ন হাসপাতালে কথা বলতে থাকি, কোথাও আইসিইউ খালি নেই। অতঃপর ডেল্টা হাসপাতাল তাদের আইসিইউ দিতে রাজি হয়। আমি এবং আমার ছোট ভাই রাত ৪ টার সময় আব্বাকে নিয়ে ডেল্টাতে আসি এবং দুপুর ১২টার পর থেকে আব্বা লাইফ সাপোর্টে চলে যান। ১৮ তারিখ দুপুর থেকে আমরা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইইডিসিআর এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হই। অতঃপর ১৯ তারিখ বিকালে আইইডিসিআর রাজি হয় এবং রাতে টেস্ট করে এবং পরের দিন ২০ তারিখ দুপুরে তারা আমাদেরকে জানায় যে রিপোর্ট পজেটিভ। আমাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলে ১৫ দিন।

রিপোর্ট পজেটিভ আসার পর থেকে ডেল্টা হাসপাতাল আমাদের প্রেশার দিতে থাকে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়ার অনুমোদন দেওয়ার জন্য। কিন্তু আমরা অনুমতি না দিয়ে তাদের বলতে থাকি ট্রিটমেন্ট চালিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু তারা আর রোগীর কাছেও যায় নি এবং আমাদেরকে আইসিইউ এর ভেতর ঢুকতেও দেয়নি। যাই হোক আমার আব্বু অবশেষে ২১ তারিখ ভোর তিনটার সময় ইন্তেকাল করেন।

পিতার সঠিক ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা করতে এমনকি তার জানাজাতে উপস্থিত থাকতে আমরা সন্তান হিসেবে ব্যর্থ। সন্তান হিসেবে, একজন পুত্র হিসেবে এর চেয়ে কঠিন কষ্ট আর কিছুই হতে পারে না। আমরা বুকে পাথর বেঁধে বাসায় অবস্থান করছি সরকারের আইন মেনে ১৫ দিনের জন্য। কিন্তু কিছু পেইজ এবং ফ্রন্ট লাইনের মিডিয়া আমাদেরকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে যে, আমার ভগ্নিপতি বিদেশ থেকে আমাদের বাসায় এসেছে, যেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা।

আমার দুই ভগ্নিপতি। বড় বোন এবং তার হাজবেন্ড চিটাগাং এর দুটি সরকারি কলেজের অধ্যাপক। অন্য ভগ্নিপতি জাপান থাকে। তিনি গত এক বছরের মধ্যে দেশে আসেনি। আমার বাবা যেদিন আইসিউতে লাইফ সাপোর্ট এ চলে যান সেদিন আমার বড় বোন এবং দুলাভাই চিটাগাং থেকে আমাদের বাসায় আসেন এবং বর্তমানে তারাও আমাদের সাথে হোম কোয়ারেন্টিন পালন করছে।

আমাদের এই বিপদের সময় দয়া করে আমার পরিবার সম্পর্কে মিথ্যা রিপোর্ট করবেন না। এখন পর্যন্ত আমাদের পরিবারের বাকি সদস্যরা সুস্থ আছে। কারো মধ্যে করোনার লক্ষণ দেখা দেয়নি। আমার ছোট ভাই এবং ড্রাইভার অসুস্থ বোধ করায় কভিড-১৯ টেস্ট করানো হয়েছে যার ফল নেগেটিভ এসেছে। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন যেন আল্লাহ আমাদের হেফাজত করেন এবং হেফাজত করেন বাংলাদেশের সবাইকে আমিন’’..
গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা ওই ব্যক্তির বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। তার ব্যাপারে তদন্ত চলছে। কিভাবে তিনি আক্রান্ত হয়েছেন সেটি খোঁজে বের করা হবে। এজন্য সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তিনি কার কার সঙ্গে মিশেছেন। কোথায় কোথায় গিয়েছেন সেটি জানার চেষ্টা চলছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Amik Janat
২৩ মার্চ ২০২০, সোমবার, ১০:৩১

I do not in the first place believe this test from IUDCR or whatever. Even if there were traces of Corona virus in him, it is not quite sure if it was COVID-19. That gentleman in all probability had breathing problem resulting from cold infection that may have ended in pneumonia. A ridiculous panic stricken behavior of so called doctors or hospitals denying him medical support in time led to his demise. Corona virus is a family of virii and not al of them are deadly. Many of us can have some form of corona virus and it is not a problem unless it is COVID-19. This new corona virus (COVID-19) is a newly mutated corona virus aka pathogen and not many doctors around the the world have much experience except probably the Chinese (by now) and many European doctors are working with the Chinese to deal with it. I doubt very much if these doctors in Dhaka really knew what they wete dealing with! What a joke!! May Allah(swt) have mercy on the departted soul of this gentleman.

মোঃ শাহীন আলম
২২ মার্চ ২০২০, রবিবার, ৭:৪৫

আমার মনে হয়, কোন হাসপাতাল থেকে তিনি আক্রান্ত হয়েছেন। কারণ হাসপাতালগুলো এখন আক্রান্ত।

ফাহাদ
২২ মার্চ ২০২০, রবিবার, ৫:২৭

এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমই আমাদের শেষ করবে, শুধুই বেচারাদের বদনামের ভাগিদার করলো, এক তো তাদের মধ্যে একটা চরম মানসিক কষ্ট যাচ্ছে তার উপর এই মিথ্যাচা!!! যার করেছে আল্লাহ এদের হেদায়েত দান করুক ।

খোরশেদ আলম চৌধুরী
২৩ মার্চ ২০২০, সোমবার, ১:১৬

মরহমের বিদেহী আত্নার মাগফেরাত কামনা করছি।শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

Muhammad Hasanuzzama
২২ মার্চ ২০২০, রবিবার, ১১:১৬

বাবার মৃত্যু নিয়ে ছেলের হৃদয়মথিত বিবরণ খুবই বেদনাবিধুর। এতে মনে করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে যে, বাংলাদেশ করোনা উপসর্গ এবং চিকিৎসা নিয়ে একেবারেই ভুল পথে হাঁটছে। শুধু লোকদেখানো ব্রিফিং ছাড়া কিছুই হচ্ছে না। এখন আর কি? ভাগ্যকে মেনে নেয়া ছাড়া বিকল্প নেই।

Khokon
২২ মার্চ ২০২০, রবিবার, ৮:১৩

I'm sorry. In fact very sad news, there is nothing to hide. Presents coronavirus everybody is fear of it, first of all goverment failor, there is no knowdge about this virus and no medicine and no instruments about it. But what goverment is doing ? Nothing ? Our foreign minister sometimes saying, they have already asked Chinese goverment corona's instruments, again saying looking for now transport etc. Prime minister before said, they have provided everything there is nothing to fear , if corona comes to her she can face of it ? Now corona's arrival, she is busy for stock for one year foodstuff and already is stock ? Then what we need more ?? IEDCR they are not responding wether you're come from abroad or local !! Everything is in order ? This our digital Bangladesh for general people !! But if you have goodluck, you are minister then for your treatment ready helicopter for Singapore within our for best treatment.

নাছিরউদ্দীন
২২ মার্চ ২০২০, রবিবার, ৮:০০

আল্লাহ মরহুমকে শহীদ হিসেবে কবুল করুন এবং পরিবারের সদস্যদের হেফাজত করুন। আমীন।

alam
২২ মার্চ ২০২০, রবিবার, ৭:৫৫

Every body needs treatment.

A K M Mohiuddin
২২ মার্চ ২০২০, রবিবার, ৮:৫৫

এই হচ্ছে আমাদের সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীদের 'পূর্ণ প্রস্তুতির' আসল চেহারা।

অন্যান্য খবর