× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকরোনা আপডেট
ঢাকা, ২ এপ্রিল ২০২০, বৃহস্পতিবার

হাসপাতালে রোগী কমছে

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার | ২৪ মার্চ ২০২০, মঙ্গলবার, ৭:৪৭

করোনা আতঙ্কে ঢাকার হাসপাতালে রোগী কমেছে। ঢাকার সবকটি সরকারি হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের সংখ্যা অন্যান্য সময়ের তুলনায় এক তৃতীয়াংশ হয়েছে। নতুন রোগীদের সংখ্যা যেমন কমেছে ঠিক তেমনি পুরাতন রোগীরাও হাসপাতাল ছাড়ছেন। অনেক রোগী পূর্ণ চিকিৎসা না নিয়েই বাড়ি চলে যাচ্ছেন। এতে করে রোগী শূন্য হয়ে যাচ্ছে হাসপাতালগুলো। এছাড়া ঢাকার সবকটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা কমেছে। অনেক চিকিৎসক ছুটিতে আছেন। আবার অনেকেই সতর্কতার অংশ হিসেবে হোম কোয়ারেন্টিনে অবস্থান করছেন।
যারা হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন তারা অলস সময় কাটাচ্ছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বছরের অন্যান্য সময় গড়ে প্রতিদিন ১৩০০ থেকে ১৪০০ টিকেট বিক্রি হলেও দেশে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়াতে এখন টিকেট বিক্রিতে ধস নেমেছে। আগের তুলনায় এখন অর্ধেক টিকেট বিক্রি হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার বিক্রি হয়েছে ১ হাজার টিকেট। শুক্রবার বিক্রি হয়েছে ৭০০ টিকেট। একই ভাবে গতকাল শনিবারও টিকেট বিক্রির চাপ কম ছিল। জরুরি বিভাগের স্টাফরা জানিয়েছে, করোনা আতঙ্কে এখন রোগীরা হাসপাতালে আসেন না। একান্ত জরুরি রোগী হলে আসছেন। ঢামেকের ৭০১, ৭০২, ৮০১, ৮০২ মেডিসিন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, ওয়ার্ডের চারভাগের তিনভাগ শয্যাই ফাঁকা পড়ে আছে। চিকিৎসকের উপস্থিতি যেমন কম তেমনি নার্সদের উপস্থিতিও কম। যে কয়েকজন নার্সদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে তারা অলস সময় কাটাচ্ছেন। মেডিসিন ওয়ার্ড ছাড়া কিডনি বিভাগ, নিউরোসার্জারিসহ আরো কিছু ওয়ার্ড ঘুরে একই অবস্থা দেখা গেছে। করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য অস্থায়ী আইসোলেশন কক্ষ তৈরি করা হলেও এখানে কাউকে চিকিৎসা দিতে দেখা যায়নি। জরুরি বিভাগের কয়েক গজের মধ্যে খোলামেলা পরিবেশে করোনা রোগীদের চিকিৎসার এরকম ব্যবস্থা করা নিয়ে অভিযোগ আছে। কারন এই কক্ষের পাশ দিয়ে হাজার হাজার রোগী, তাদের স্বজন এবং হাসপাতালের স্টাফরা চলাচল করেন। এরকম একটি স্থানে আইসোলেশন কক্ষ তৈরির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া নতুন ভবনের বামপাশে ১০ বেডের আরেকটি আইসোলেশন কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। সেখানেও কোনো রোগীকে এখন পর্যন্ত চিকিৎসা দেয়া হয়নি।
ঢামেকের জরুরি বিভাগের চিকিৎস ডা. ফিরোজ বলেন, আগের চেয়ে রোগীর চাপ কম। সবার মধ্যে একটা আতঙ্ক বিরাজ করছে। জরুরি রোগী ছাড়া অন্য রোগীদের আনাগোনা কম। তবে এখানে আগত রোগীদের ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ খুবই সতর্ক। মাস্ক ছাড়া কাউকে হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। চিকিৎসক নার্সরাও সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিয়ে সেবা দিচ্ছেন।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় একই অবস্থা। হাসপাতালটির বিভিন্ন বিভাগের ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে প্রতিটা ওয়ার্ডেই রোগীর স্বল্পতা রয়েছে। অন্যান্য সময় একটি সিট পাওয়ার জন্য হাহাকার থাকলেও এই সময়ে বেশিরভাগ সিটই রোগী শূন্য। পাশাপাশি টিকেট বিক্রিও কমেছে। পরীক্ষা নিরীক্ষার কক্ষগুলোতে একই অবস্থা। কমেছে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের আনাগোনা। এই হাসপাতালের নার্সরা জানিয়েছেন, রোগীদের মধ্যে করোনা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
মুগদা জেনারেল হাসপাতালও ধীরে ধীরে রোগী শূন্য হচ্ছে। সতর্ক অবস্থানে থেকে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন চিকিৎসক-নার্সরা। হাসপাতালের অধিকাংশ ওয়ার্ডে রোগী কমেছে। হাসপাতালের পরিচালক ডা. শহিদ মো. সাদিকুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, মানুষকে ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে, তাই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হচ্ছে না। জরুরি অসুস্থতাবোধ না করলে কেউ হাসপাতালে আসছে না। তাই ইনডোর ও আউটডোরে রোগী কমেছে। তবে আউটডোরে সর্দিজ্বর ও কাশির রোগী বেড়েছে। তাদেরকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে সচেতনতাই জরুরি। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে সতর্ক থাকতে হবে। বাইরে ঘুরাফেরা কমাতে হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর