× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকরোনা আপডেট
ঢাকা, ৪ এপ্রিল ২০২০, শনিবার

খুলনায় চায়ের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে | ২৪ মার্চ ২০২০, মঙ্গলবার, ৮:০২

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে খুলনা জেলায় নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার ব্যতীত অন্যান্য সাপ্তাহিক হাট ও গরু-ছাগলের হাট বন্ধ থাকবে। খুলনা নগরীতে বিকাল পাঁচটার পর চায়ের দোকান খোলা রাখা যাবে না। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব একটি দুর্যোগ তৈরি করায় জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে জরুরি অবস্থার ন্যায় সক্রিয় রাখতে হবে। দাকোপের আংটিহারায় ভারত হতে আগত ক্লিংকারবাহী জাহাজ হতে নাবিকদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে না নামার বিষয়টি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত খুলনা জেলা কমিটির সভায় এ সকল সিদ্ধান্ত জানানো হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে গতকাল সকালে সার্কিট হাউজ সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় খুলনা সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ, পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. এহসান শাহ, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিসহ জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় খুলনার বিভিন্ন উপজেলা হতে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা ডিভিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় যুক্ত হন এবং করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে উপজেলা পর্যায়ে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে আরো জানানো হয়, সরকারের বিশেষ উদ্যোগে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণ কিট ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা উপরকণসমূহ উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছাবে। জনসাধারণকে সহজ বাংলায় কোয়ারেন্টিন বিষয়টি বুঝিয়ে বিদেশ ফেরতদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা হচ্ছে।
কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিদের প্রয়োজনের সময় চিকিৎসাকেন্দ্রে আনার জন্য আলাদা এম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখার বিষয়ে এ সময় নির্দেশনা দেয়া হয়। সরকারি খাদ্য গুদামে ১৭ লাখ টন ধান ও সাড়ে ৩ লাখ টন গম মজুত থাকায় দেশে খাদ্য সংকট হওয়ার সুযোগ নেই। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে। সরকারি চাকরিজীবীদের নিজ কর্মস্থলে অবস্থানের সরকারি নির্দেশনার বিষয়ে সভায় উপস্থিত সকলকে জানানো হয়।
পাওয়া যাচ্ছে না মাস্ক, স্যানিটাইজার ও হেক্সিসল
এদিকে খুলনার বাজারে এখনো চরম সংকট মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ হেক্সিসলের। বাড়তি বিক্রির সুযোগে এবং সংকটের অজুহাতে এসব পণ্য চড়া দামে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। বাড়তি দামের কারণে বিভিন্ন দোকানে গিয়ে ফিরে আসছেন ক্রেতারা। তবে ব্যবসায়ীদের এমন বাড়তি মুনাফার অভিযোগেও টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের। নগরীর হেরাজ মার্কেটের বেশকিছু ওষুধের দোকানে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ হ্যাক্সিসল পাওয়া যায়নি। দুই-একটি দোকানে তা’ মিললেও বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। একই অবস্থা নগরীর অন্যান্য ওষুধের দোকানগুলোরও। এ ছাড়া কয়েকদিন আগেও বিভিন্নস্থানে হকাররা মাস্ক বিক্রি করেছে। ধুলাবালি থেকে বাঁচতে চলতি পথে পথচারীরা এসব মাস্ক কিনে নিতেন। কিন্তু এখন এই দৃশ্য খুব কমই দেখা যাচ্ছে। যে গুটিকয়েক হকার বিক্রি করছে তারা চড়া দামেই বিক্রি করছে। পাঁচ টাকার একটি সাধারণ মাস্ক বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি ড্রাগ হাউজের বিক্রয় প্রতিনিধি বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে গত ২০-২৫ দিন ধরেই মাস্কের চাহিদা বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে দামও। আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে কিনতে ও বিক্রি করতে হচ্ছে। এক বক্সে ৫০টি মাস্ক থাকে। এক বক্স মাস্ক ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকায় কিনতে হচ্ছে। প্রতি পিস মাস্কের ক্রয়মূল্য পড়ছে ১২-১৪ টাকা। ফলে পূর্বের পাঁচ টাকার মাস্ক ১৫-১৮ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। আর ভালো মানের ২৫-৩০ টাকার মাস্ক এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৪০ টাকায়। এ কারণে দোকানে ওই মাস্ক আনা হচ্ছে না। নগরীর বিএল কলেজের ছাত্র মনিরুল ইসলাম বলেন, আমি গত শনিবার ২০ টাকার একটি মাস্ক ৬০ টাকা দিয়ে কিনেছিলাম। পরে সন্ধ্যায় আরো দুইটি কিনতে গিয়েছিলাম। কিন্তু সব জায়গায় মাস্ক পাওয়া যাচ্ছে না। স্যানিটাইজার কিনতে গিয়ে দেখি ছোটটি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও এর দাম আগে ছিল ২০ টাকা।
আর বড়টার দাম নেয়া হচ্ছে ২৯০ টাকা। নগরীর খালিশপুর এলাকার বাসিন্দা পারভেজ আলম বলেন, মাস্কের দাম বেড়ে গেছে। আগে ওয়ানটাইম মাস্ক ৫ টাকায় পাওয়া যেত। এখন সেই মাস্ক ২০ টাকায় বিক্রি করছে। আর মাস্ক সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে সেই দামেই কিনতে হচ্ছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর