× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকরোনা আপডেট
ঢাকা, ৮ এপ্রিল ২০২০, বুধবার

ছাপানো কাগজ থেকে করোনা ছড়ায় না

করোনা আপডেট

মানবজমিন ডেস্ক | ২৫ মার্চ ২০২০, বুধবার, ১১:৪৫

ছাপানো খবরের কাগজ, ম্যাগাজিন, চিঠি অথবা কোনো প্যাকেজ থেকে করোনা সংক্রমণের কোনো প্রামাণ্য তথ্য কখনো পাওয়া যায়নি। বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয় চিকিৎসক এবং বিজ্ঞানীরা এমন মত দিয়েছেন। এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন লিখেছেন ইন্টারন্যাশনাল নিউজ মিডিয়া এসোসিয়েশনের (ইনমা) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিচালক আর্ল জে উইলকিনসন। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডালাস ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইনমা। অনলাইন ইনমাতে আর্ল জে উইলকিনসন লিখেছেন, ছাপানো কাগজ থেকে সংক্রমণের সম্ভাব্যতা সম্পর্কে খুব সামান্য ইনকুয়ারি বা প্রশ্ন পেয়েছে ইনমা। এক্ষেত্রে তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণ করেছেন। এতে তিনি বলেছেন, বিশ্বজুড়ে যে অপ্রত্যাশিত মহামারী ছড়িয়ে পড়েছে সে সম্পর্কে ইনমা অবগত। এর প্রেক্ষিতে তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জার্নাল অব হসপিটাল ইনফেকশন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এলার্জি অ্যান্ড ইনফেকশন ডিজিজেস ও জন ইনস সেন্টারের গবেষণা ও নির্দেশনা অনুসরণ করছেন।
এসব উৎস, সেকেন্ডারি উৎস ও নিজস্ব প্রকাশনা থেকে এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ছাপানো কাগজ বা নিউজপ্রিন্ট বর্তমান সঙ্কটের সময়ে নিরাপদ।  

আর্ল জে উইনকিনসন লিখেছেন, এ সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কভিড-১৯ আক্রান্ত এলাকা থেকে আসা একটি প্যাকেজ গ্রহণ করা নিরাপদ কিনা সে বিষয়ে রিপোর্ট করেছে। তারা বলেছে, একজন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে যাওয়া বাণিজ্যিক পণ্যে এই ভাইরাস টিকে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম এবং এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও কম। যেসব পণ্যবোঝাই প্যাকেট স্থানান্তর হয়েছে, এখান থেকে ওখানে নেয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন পরিবেশে এবং তাপমাত্রায় নেয়া হয়েছে তা থেকে এই ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি কম। হার্টফোর্ড হেলথ কেয়ার আরো পরিষ্কার করে বলেছে, আপনার বাড়িতে যাওয়া সরবরাহ নিয়ে শঙ্কিত হবেন না। জিনিসপত্রের ওপর করোনা ভাইরাস দীর্ঘসময় টিকে থাকতে পারে না।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) বলেছে, যে তলের ওপর করোনা ভাইরাস আছে তা স্পর্শ করলে একজন মানুষ আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে। কিন্তু এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার প্রধান উপায় এটা নয়। এক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সিডিসির বিবৃতিতে স্পষ্ট হয় যে, প্রিন্ট ম্যাটেরিয়াল থেকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা নেই। গত সপ্তাহে নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন নামের গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ (এনআইএইচ), সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি), ইউসিএলএ এবং প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা। তাতে দেখানো হয়েছে, বিভিন্ন সারফেস বা তলের ওপর করোনা ভাইরাস টিকে থাকায় ভিন্নতা রয়েছে। এতে বলা হয়েছে অ্যারোসল, প্লাস্টিক, স্টেইনলেস স্টিল, কপার এবং কার্ডবোর্ডে করোনা ভাইরাসের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবহনের সম্ভাব্যতা সবচেয়ে কম। এর কারণ, এর পারমাণবিক গঠন। এর গঠন ছিদ্রযুক্ত।

অ্যরোসোল কিভাবে এই ভাইরাসের বিস্তার ঘটায় তা পরীক্ষা করেছেন বিজ্ঞানীরা। এক্ষেত্রে বিভিন্ন তলের ওপর কতক্ষণ এই ভাইরাস সংক্রামক থাকে তা পরিমাপ করেছেন। তাতে দেখা গেছে করোনা ভাইরাস সবচেয়ে বেশি সময় স্থায়ী হয় মসৃণ তলে, যা ছিদ্রযুক্ত নয়। গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন যে, করোনা ভাইরাস তিন দিন পরও প্লাস্টিক ও স্টেইনলেস স্টিলে সক্রিয় থাকে। বিষয়টি এমন নয় যে, যখন বাতাসে ছড়ায় এই ভাইরাস তখন তা দ্রুত শক্তি হারায়। কারণ, ভাইরাসটি প্রতি ৬৬ মিনিটে তার কার্যকারিতা অর্ধেক হারায়। তবে যখন তা কোনো  তলের ওপর রাখা হয় তখন তিন ঘন্টা পরে এর এক অষ্টমাংশ কার্যকারিতা থাকে। ৬ ঘন্টা পরে এর টিকে থাকার সম্ভাবনা মাত্র শতকরা ২ ভাগ। ২৪ ঘন্টা পরে কার্ডবোর্ডের ওপর এই ভাইরাস টিকে থাকে না। খুশির খবর হলো, প্লাস্টিক এবং স্টেইনলেস স্টিলে এর কার্যকারিতা কম থেকে আরো কম, যখন তা বাতাসে ছাড়া হয়।
আর্ল জে উইলকিনস লিখেছেন, খবরের কাগজ হলো কার্ডবোর্ডের চেয়েও অনেক বেশি ছিদ্রযুক্ত। এর ওপর ভাইরাসটি বেঁচে থাকার সময় আরো অনেক কম।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর