× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকরোনা আপডেটকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজান
ঢাকা, ৫ জুন ২০২০, শুক্রবার

করোনার কষ্টে তাপস শোনালেন ক্রিকেট দুঃখের গল্প

খেলা

ইশতিয়াক পারভেজ | ১৯ মে ২০২০, মঙ্গলবার, ১২:২৪

টেস্ট ছেড়েছেন সেই ২০০৫-এ। এখনো ৩৬ উইকেট পাওয়া ক্রিকেটার বাংলাদেশে পেসারদের মধ্যে অবস্থান ধরে রেখেছেন সেরা পাঁচে। বলছি তাপস বৈশ্যের কথা। খুব একটা বড় হয়নি তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। ঘরোয়া ক্রিকেটও চালিয়ে যেতে পারেননি লম্বা সময়। ক্রিকেট থেকে পাওয়া সুখের চেয়ে দুঃখের বোঝাই যেন ভারি হয়ে গিয়েছিল। আর ২০১৬’র পর নীরবেই যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান পরিবার নিয়ে। সেখানেও আছেন ক্রিকেটের পাশে।
কোচ হিসেবে দিচ্ছেন ক্রিকেট দীক্ষা। বর্তমানে নিউইয়র্কে গৃহবন্দি হয়ে আছেন। অবসরের এই সময়টাতে মাথায় ঘুরে ফিরে আসছে বাংলাদেশ আর সেই ক্রিকেট দুঃখ। যা অকপটে বলেছেন দৈনিক মানবজমিনের সঙ্গে। সেই কথোপকথনের মূল অংশ তুলে ধরা হলো-

প্রশ্ন: কেমন আছেন?
তাপস: লকডাউনে আছি, এর মধ্যে যতটা ভালো। অনেক দিন ধরেই বাসায় বন্দি। জুনের ৩০ তারিখ পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়ছে। সেই পর্যন্ত বাসাতেই থাকতে হচ্ছে। তবে ভালো হয়েছে এই  তো আমার তৃতীয় সন্তান পৃথিবীতে এসেছে মাত্র কিছু দিন হলো। সাকিবের যে দিন মেয়ে হয়েছে সেদিনই। ওদেরই এখন বাসায় সময় দিচ্ছি। আমি এমনিতেই এই সময়টাতে ছুটি নিতাম। আশেপাশে অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে আমাদের পরিচিত। খুব খারাপ লাগে। তবে আমরা ভালো আছি, আরো বড় বিষয় হলো এখানে পরিচিত কোনো ক্রিকেটার করোনা আক্রান্ত হয়নি।

প্রশ্ন: বিদেশে কোচিং করাচ্ছেন, দেশের ক্রিকেটের সঙ্গে তো থাকতে পারতেন?
তাপস: হয়তো থাকতে পারতাম দেশের ক্রিকেটের সঙ্গে। এটি হতো আমার জন্য গর্বেরও। কিন্তু আমার এত যোগাযোগ নেই। এত রাজনীতিও বুঝি না। তাই মনে হয়েছে দেশে হয়তো কাজ করার সুযোগই পেতাম না।

প্রশ্ন: ক্রিকেট ক্যারিয়ারটা লম্বা হলো না কেন?
তাপস: ২০০২ থেকে শুরু তখন বেশ সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু ধীরে ধীরে আর সুযোগ আসতো না। আমাকে দলে রাখলেও বসিয়ে রাখা হতো। কোচ তখন ডেভ হোয়াইটমোর। তিনি এমন একটা পরিবেশ তৈরি করলেন যে আমি এই আছি এই নেই। এমন মুহূর্তে আমাকে মাঠে নামাতো যে আমি অপ্রস্তুত। হ্যাঁ, এটি সত্যি যে ক্রিকেটারকে সব সময় তৈরি থাকতে হয়। কিন্তু তখন বাংলাদেশ ক্রিকেটের বয়সই কত। আমাদের অভিজ্ঞতাও তেমন ছিল না। তাই হঠাৎ করে মাঠে নেমে কী করবো বুঝে ওঠা কঠিন ছিল আন্তর্জাতিক ম্যাচে। আমার মনে আছে ২০০৭ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আমাকে হঠাৎ করে মাঠে নামিয়ে দেয়। অথচ আগের দিন বলেছিল তুমি খেলছ না। আমি অনুশীলনটাও করিনি। আমার সঙ্গে এমন করে করেই আমার ক্যারিয়ারটা শেষ করে দিয়েছে।

প্রশ্ন: ঘরোয়া ক্রিকেটতো ২০১৬তে এসে ছেড়ে দিলেন। সেটি কেন?
তাপস:  আমি অনেক বড় বড় দলে খেলেছি। কিন্তু সেখানেও আমার সঙ্গে অবিচার হয়েছে। দুই এক ম্যাচ খেলার পর আর খেলাই পেতাম না। সর্বশেষ আবাহনীতে খেলেছি। শুরুতে বেশ কয়েকটা ম্যাচ পেলাম। আর খবর নেই। সুজন (খালেদ মাহমুদ) ভাই আমাকে অনেক সাপোর্ট করতো।  সে আমাকে অনেক সুযোগ দিয়েছে। তবে তখন বাংলাদেশে একটা ক্রিকেট ব্যাচ চলে আসলো যে আমাকে ওরা পাত্তাই দিতো না। আমি নাম বলবো না কারো। তবে ওরা তখন থেকে সব দলে খুব প্রভাব দেখাতো। আর একটা বিষয় শুরু হয়ে গেল নতুনদের সুযোগ দেয়া। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম আমার আর এই  দেশে হবে না। শুধু সুজন ভাইকে বলেছিলাম আমি চলে যাচ্ছি। আর চলে এলাম। লম্বা সময় বাসায় বন্দি হয়ে আছি। সেই সব কথা বার বার মনে হয়। খুবই কষ্ট লাগে।

প্রশ্ন: জাতীয় দলে ফেরার কি চেষ্টা করেননি?
তাপস: অনেক কষ্ট করেছি। ২০১১ তে একবার দলে ডাক পেলাম। কিন্তু আমাকে সেই কষ্টের পুরস্কার হিসেবে হংকংয়ে সিক্স এ সাইড খেলতে পাঠিয়ে দেয়া হলো জাতীয় দলের সঙ্গে। তখন নির্বাচক ছিলেন রফিকুল ইসলাম। সে যা করেছে তা বলার মতো না। মাঝে মাঝে মনে হয়, তাকে সামনে পেলে জানতে চাইতাম কেন এমন করলেন আমার সঙ্গে!

প্রশ্ন: দেশের  পেসারদের কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?
তাপস: আমার কাছে মনে হয় পেসাররা এখনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। টেস্টে দেখেন তাদের ধারাবাহিকতা নেই। ওয়ানডেতে কিছুটা আছে কিন্তু সেখানে মনে হয় ওরা যেন শুধু খেলার জন্যই খেলে। ওয়ালশের মতো বড় কোচ এসেছে এটা ঠিক কিন্তু  কোচের কাছ থেকে শিখতে হবে। আর সেটা প্রয়োগ করতে হবে নিজের। এই ধরনের কোচরা  দেখিয়ে দিবে কি করতে হবে। আর তা নিজের আয়ত্ত্বে এনে চর্চা করতে হবে।

প্রশ্ন:  পেসারদের মধ্যে কাকে এগিয়ে রাখবেন?
তাপস: রাহী, ইবাদত দু’জনই টেস্টে ভালো করতে পারে। যদি তাদের সেই ভাবে সুযোগ দেয়া হয় বা পরিচর্যা করা হয়। তাসকিন দারুণ বোলার তবে ইনজুরির জন্য ও পিছিয়ে আছে। সাইফুদ্দিনকে দারুণ লাগে, ওকে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির জন্য সেরা বোলার মনে হয়।

প্রশ্ন: দেশের কথা কতটা মনে পড়ে?
তাপস: ভীষণ মনে পড়ে। কয়েক দিন আগেও স্ত্রীকে বলেছি যে চলো সব ছেড়ে গ্রামে চলে যাই। সেখানেই তো আমার সব। এখানে হয়তো ভালো জীবন পেয়েছি, টাকাও আছে কিন্তু মনের শান্তিটা তো নেই। সেটা দেশেই পাবো।
 

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর