× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১২ আগস্ট ২০২০, বুধবার

১৫ বছরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষাঙ্গন

মোঃ জয়নাল আবেদিন | ২৮ মে ২০২০, বৃহস্পতিবার, ৫:৩৩
ফাইল ছবি

লালমাটির সবুজ ক্যাম্পাস, তার মাঝে ছোট বড় পাহাড়ের হাতছানি। পাহাড়ের সাথে দালানের সুমধুর মিতালি। এ যেন গভীর মন হরণের বন্ধুত্ব। যতদূর চোখ যায় শুধু নীলাচলের মতই মন কাড়ে। এরই মাঝে লালমাই পাহাড়ের  পাদদেশ ঘিরে মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে আছে মধ্য-পূর্বাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

দেশের মধ্য-পূর্বাঞ্চলের এ সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠটি প্রাকৃতিক এক অপরূপ সৌন্দর্য্যের আবাসস্থল কুমিল্লার কোটবাড়িতে উঁচু নিচু পাহাড়, টিলা আর সবুজের বুকে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৬ সালের ২৮শে মে পথচলা শুরু হয় বিশ্ববিদালয়টির। ১৪ বছর পেরিয়ে আজ ১৫ তম বছরে  পদার্পণ করছে দেশের অন্যতম এ বিশ্ববিদ্যালয়টি।

 বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে চলমান করোনা ভাইরাসে এ সংকটময় পরিস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপিত হচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয়টির এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
না হয় ঝাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে আয়োজন করা হতো দিবসটি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ভিসি অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী। তিনি বলেন, এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের জন্য বছরের প্রথমেই একটা পরিকল্পনা নিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু বর্তমানে করোনা ভাইরাসের এ পরিস্থিতিতে আমাদের সবারই তো হাত-পা বাঁধা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সকল ভিসিদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানোর পরিকল্পনাও আমরা নিয়েছিলাম। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা আগামীতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে দিবসটি উদযাপন করব।

করোনা ভাইরাসের এ মহামারীতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে এবং বাসায় অবস্থানের পরামর্শ দিয়ে ভিসি বলেন, আমরা এখনও পর্যন্ত ভাগ্যবান যে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের কেউ এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়নি। আমরা সবাই অনেক সচেতন বলেই সম্ভব হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাই সুস্থ থাকুক সেই প্রত্যাশাই করছি।

৫০ একর জায়গা নিয়ে দৃষ্টিনন্দন লালমাই পাহাড়ে প্রাচীন সভ্যতার নির্দশন শালবন বিহারের কোল ঘেঁষে দেশের ২৬ তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের। ৭টি বিভাগে ৩০০ জন শিক্ষার্থী, ১৫ জন শিক্ষক ও ৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়টি। বর্তমানে এ বিদ্যাপীঠে ৬ টি অনুষদে ১৯টি বিভাগে প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করেছে বিভিন্ন বিভাগের ১০টি ব্যাচ। যারা অনেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে দেশ তথা মানবজাতির কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। যাদের পদচারণা দেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাসহ দেশের বাহিরেও বিদ্যমান।

২০১৮ সালের অক্টোবরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়নের ১৬৫৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার মেগা প্রকল্প পাশ হয়। যেখানে নতুন করে আরও ২০০ একর ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পর্যন্ত উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ছয় জন। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয়টির ৬ষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবহনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ৫ টি নীল বাস এবং বিআরটিসির ১০ টি ভাড়া বাসসহ সর্বমোট ১৫টি বাসের ব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্যও যাতায়াতের জন্য বাস, মিনিবাস ও মাইক্রোবাসের ব্যবস্থা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৪ টি আবাসিক হল রয়েছে। যেখানে ছাত্রদের জন্য তিনটি, ছাত্রীদের জন্য রয়েছে একটি আবাসিক হল। এছাড়াও শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য রয়েছে একটি ডরমেটরি। তাছাড়া একটি ছাত্রী হল এবং শিক্ষকদের জন্য একটি ডরমিটরি ও একটি গেস্টহাউজ নির্মাণাধীন রয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর