× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকরোনা আপডেটকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজান
ঢাকা, ৪ জুলাই ২০২০, শনিবার

‘বাসভাড়া বৃদ্ধি মরার ওপর খাড়ার ঘা’

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার | ৩১ মে ২০২০, রবিবার, ৫:০৬

বাসের ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক, এটা করোনায় বিপর্যস্ত জনগণের  মড়ার ওপর খাড়ার ঘা মন্তব্য করে অবিলম্বে এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তরা এ মন্তব্য করেন।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাসদ নেতা কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র অন্যতম সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা কমরেড মানস নন্দী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশরেফা মিশু, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য কমরেড আকবর খান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক কমরেড হামিদুল হক। সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন, সিপিবির সহকারী সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন, সিপিবি প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল্লাহ আল কাফি রতন।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যু যখন উর্ধ্বমুখী, তখন প্রয়োজন ছিলো আরো কঠোর লকডাউন। কিন্তু সরকার স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং টেকনিক্যাল কমিটিসহ সকলের মতামত উপেক্ষা করে অফিস-আদালত, দোকানপাট, গণপরিবহনসহ সবকিছু খুলে দিয়ে জনগণকে আরো মৃত্যু ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। গত ২ মাস সরকার শ্রমজীবীসহ সাধারণ মানুষের খাদ্য আর্থিক নিরাপত্তাসহ কার্যত কোন দায়িত্ব না নিয়ে ৪ কোটি চরম দারিদ্র মানুষকে বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলেছে।

বক্তারা বলেন, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকসহ লক্ষ-কোটি কর্মক্ষম মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে।
এসময় সরকারের পক্ষ থেকে খাদ্য, নগদ অর্থসহ নানা সহযোগিতা নিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর দরকার ছিলো। কিন্তু সরকার নিজেদের দায়িত্ব পালন না করে সকলের মতামত উপেক্ষা করে লকডাউন তুলে নিয়ে সকল গণপরিবহন চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার বলেছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চলবে অর্থাৎ ৫০শতাংশ সিট খালি রাখবে। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা বলে, যে সরকার প্রশাসন, বিআরটিএ ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচলে এবং লাইসেন্সবিহীন চালকের গাড়ি চালানো বন্ধ করতে পারে না, তারা কিভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গাড়ি চালাবে তা বোধগম্য না। তদুপরি সম্পূর্ণ অযৌক্তি ও অন্যায়ভাবে একতরফা মালিকদের স্বার্থ রক্ষায় বাসের ভাড়া ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যা কর্মহীন ও বেকার হয়ে পড়াসহ করোনায় বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষের জন্য মড়ার ওপর খাড়ার ঘা হিসেবে বাড়তি চাপ তৈরি করবে।

বক্তাগণ বলেন, বাসের ভাড়া পূর্বেই যা বৃদ্ধি করা হয়েছিল সেটাই ছিল অযৌক্তিক। সেই সময়ও জনগণ তা মানে নি। নতুন করে বাস ভাড়া বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক তৃতীয়াংশে নেমে আসার পরও আমাদের দেশে তেলের দাম কমানো হয়নি। ফলে জ্বালানির দাম কমালে ভাড়া বৃদ্ধির প্রয়োজন হবে না। নেতৃবৃন্দ বাসের ভাড়া বৃদ্ধি না করে বিভিন্ন সড়কে সরকারি টোল আদায় বন্ধ, পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমানোর দাবি করেন। তারপরও যদি মনে করেন বাস মালিকদের ক্ষতি হবে তাহলে পোষাক খাতসহ অন্যখাতে যেমন প্রণোদনা দেয়া হয়েছে তেমন প্রণোদনা বা ভর্তুকী সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হোক। কোন মতেই জনগণের উপর মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপানো যাবে না। বক্তাগণ আগামী ২০-২৫ জুন পর্যন্ত লকডাউন জারি এবং জনগণের খাদ্য ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদানেরও দাবি জানান।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
তপু
৩১ মে ২০২০, রবিবার, ৯:৩৯

বাস ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কারা নিলো?কে কী উপঢৌকন পেয়েছে নাগরিক হিসেবে আমি জানতে চাই।

অন্যান্য খবর