× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকরোনা আপডেটকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজান
ঢাকা, ১৩ জুলাই ২০২০, সোমবার
জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ড

কারফিউ, ন্যাশনাল গার্ড অগ্রাহ্য করে বিক্ষোভ অব্যাহত যুক্তরাষ্ট্রে

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১ জুন ২০২০, সোমবার, ১২:৫৭

জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। কারফিউ, ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের অগ্রাহ্য করে স্থানীয় সময় রোববার রাস্তায় নেমে এসেছে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। অব্যাহত রয়েছে লুটপাটও। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। অন্তত ১৫ অঙ্গরাজ্যে মোতায়েন করা হয়েছে ন্যাশনাল গার্ড সেনাদের। এদিকে, ফ্লয়েডের পরিবারের পক্ষে কাজ করা এক আইনজীবী জানিয়েছেন, ফ্লয়েডের হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত ছিল। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

খবরে বলা হয়, গত সোমবার মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনেপোলিস শহরে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু হয় ৪৬ বছর বয়সী ফ্লয়েডের।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, ডেরেক চভিন নামের এক পুলিশকর্মী রাস্তার উপর উপুর হয়ে শুয়ে থাকা ফ্লয়েডের ঘাড়ে তার হাঁটু চেপে ধরে রেখেছেন। ভিডিওতে ফ্লয়েডকে বারবার শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ার কথা বলতে শোনা যায়। তিনি বলেন, ‘আমি শ্বাস নিতে পারছি না। প্লিজ, আমি শ্বাস নিতে পারছি না।’ কিন্তু ফ্লয়েডের সে আকুতি অগ্রাহ্য করে টানা নয় মিনিট ধরে তার ঘাড়ে হাঁটু চেপে ধরে রাখেন চভিন। এমনকি, এক পর্যায়ে ফ্লয়েড জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তখন অপর এক পুলিশকর্মীকে বলতে শোনা যায়, তাকে ঘুরিয়ে দেয়া উচিৎ, তার মধ্যে কোনো পালস নেই। কিন্তু সে কথায় কান না দিয়ে আরো তিন মিনিট ফ্লয়েডের ঘাড় হাঁটু দিয়ে চেপে ধরে রাখেন চভিন। এতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ফ্লয়েড। ফ্লয়েডের হত্যার বিচার চেয়ে গত মঙ্গলবার থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে। টানা ছয়দিন ধরে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও সংঘর্ষসহ সহিংস বিক্ষোভ জারি রয়েছে দেশটিতে। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে কয়েক ডজন অঙ্গরাজ্যে জারি হয়েছে কারফিউ।কিছু রাজ্যে মোতায়েন হয়েছে সেনা সদস্য। তবে থামেনি বিক্ষোভ। স্থানীয় সময় রোববার বিকেলে মিনেপোলিসে বিক্ষোভকারীদের উপর একটি ট্যাংকার ট্রাক চালানোর চেষ্টা করেছে এক ব্যক্তি। ওই চালককে বের করে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। ট্রাকের আঘাতে কেউ আহত হয়নি বলে জানা গেছে। কয়েক ডজন রাজ্যে কারফিউ জারি করা হয়েছে। ১৯৬৮ সালে মার্টিন লুথার কিং খুন হওয়ার পর মার্কিন ইতিহাসে সর্বোচ্চ কারফিউ জারির ঘটনা এটি। এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ায় লুটপাট জারি রয়েছে। লস এঞ্জেলসে একাধিক শপিং মলে ভাঙচুর হয়েছে। ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউজের নিকটে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে পুলিশ। সহিংসতা দেখা গেছে বোস্টনেও। পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্য করে কাচের বোতল ছুড়েছে বিক্ষোভকারীরা। নিউ ইয়র্কে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৩৫০ জন বিক্ষোভকারী ও ৩০ পুলিশকর্মী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে একটি পুলিশের গাড়ি আগুনে জ্বলতে দেখা গেছে ব্রæকলিনে। নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, শনিবার রাতে অবৈধ কর্মকাণ্ডর জন্য অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে নিউ ইয়র্কের মেয়র বিল ডে ব্লাসিওর ২৫ বছর বয়সী কন্যা চিয়ারাও রয়েছেন।বিক্ষোভ জারি রয়েছে শিকাগো, সিঅ্যাটল, সল্ট লেক সিটি, ক্লিভল্যান্ড ও ডালাসেও। এদিকে, মিনেপোলিসে বিক্ষোভের মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত হয়েছেনহ রয়টার্সের দুই কর্মী। তাদের একজনের শরীরে রাবার বুলেট আঘাত হেনেছে ও আরেকজন ফটোগ্রাফারের ক্যামেরা ভেঙে গেছে। বিক্ষোভে লুটপাটের মধ্যে একাধিক প্রতিষ্ঠান তাদের দোকানপাট বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর