× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকরোনা আপডেটকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজান
ঢাকা, ১৩ জুলাই ২০২০, সোমবার

সবকিছু খুলে দিয়ে সরকার কানে তুলো দিয়েছে

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২ জুন ২০২০, মঙ্গলবার, ৮:১৬

করোনা মহামারির ভয়াবহতা বিবেচনায় না এনে সবকিছু খুলে দিয়ে ‘সরকার কানে তুলো দিয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল সোমবার দুপুরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপি মহাসচিব এই মন্তব্য করেন। গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, কাল থেকে দেখছি, যে রেলগাড়ি চলছে এবং  ট্রেনগুলোতে সেই গাদাগাদি করে মানুষ আসছে। এরমধ্যে আপনারা দেখেছেন যে, বাসে রীতিমতো মারামারি হচ্ছে বাসে উঠার জন্য, জায়গা পাওয়ার জন্য। এটা সম্ভব না বাংলাদেশে এভাবে গণপরিবহনকে নিয়ন্ত্রণ করবেন? যেখানে আপনি অফিস খুলে দিয়েছেন, অফিস খুললে তো লোকজন আসবেই। লঞ্চেও একই অবস্থা হয়েছে। এখন সরকারের অবস্থা হচ্ছে যে, ‘কানে দিয়েছি তুলো’। তারা কানে তুলো দিয়েছে।
যা খুশি বলেন- আমাদের কিছু যায় আসে না। আমরা তো আছি।
তিনি বলেন, বার বার করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাদের (সরকার) নিয়োজিত যে টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটি রয়েছে তারাও বলছেন যে, এটা (সবকিছু খুলে দেয়া) একটা সুইসাইডাল। এটা করলে একটা ভয়ঙ্কর অবস্থা তৈরি হবে। তারা সেই কথা শুনেননি। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর যে ব্যক্তিগত চিকিৎসক যিনি আছেন আবদুল্লাহ (অধ্যাপক এম আবদুল্লাহ) সাহেব, তাকে এডভাইজার হিসেবে নেয়া হয়েছে। তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন যে, এটা ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করবে, সংক্রমণ আরো ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাবে। এটা পরিষ্কার যে, তারা (সরকার) ব্যর্থ হয়েছে এই করোনাভাইরাসের উদ্ভূত যে পরিস্থিতি সেটাকে সামাল দিতে। আমরা মনে করি, এটা আরো সময় নিতে পারতো। ভারতে দেখেন, তারা সব রাজ্যের চিফ মিনিস্টার, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিদের সঙ্গে কথা বলেছেন। কথা বলে আরো একমাস লকডাউন বাড়িয়েছেন। যে কথাটা আমি বার বার বলেছি, দায়িত্বশীলতা নেই বলেই সরকার এভাবে তুঘলকি কারবার করছেন। যেটা জনগণকে পুরোপুরিভাবে মহাবিপদের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকারের একলা চলো নীতি পুরোপুরিভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ৭৭ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ দেয়া হবে, কোনো ইনসেনটিভ না। এটা কিন্তু একটা কৌশল। যে কৌশল আপনি দেখছেন খুনোখুনিও হচ্ছে। এক ব্যাংকের ডিরেক্টর আরেক ব্যাংকের ডিরেক্টরকে ধরে নিয়ে আসছে বাসায়, তাকে বন্দুক ধরছে। তারা আবার এয়ার এম্বুলেন্সে করে দেশ থেকে চলেও যাচ্ছে। হোয়ার ইজ গভর্মেন্ট, সরকার কোথায়? আজকে এই কারণে এতো ভয়াবহ পরিণতির দিকে যাচ্ছে সেজন্যই।
তিনি বলেন, আমরা কিছু বললেই তো বলে যে, আমরা উস্কানি দেয়ার চেষ্টা করছি, আমরা সমালোচনা করছি। একজন তো প্রায় বলেন যে, বিষোদ্গার করবেন না। আরে বিষোদ্গার করে আপনারা যে অবৈধভাবে সরকার দখল করে আছেন সেটা বলছি না। আমরা বলছি যে, আপনারা ব্যর্থ হয়েছেন এটা পারছেন না করতে, এই জিনিসটা করা উচিত ছিল। এই জিনিসগুলোই আমরা বার বার করে বলছি। কিন্তু ওই যে, কানে দিয়েছি তুলো। যা খুশি বলেন- আমাদের কিছু যায় আসে না। আমরা তো আছি। আমি বলি, থাকে না। জনগণের চাহিদা যদি পূরণ করা না যায়, জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা যদি পূরণ না করা যায়, আর যদি ভয়াবহ দুর্যোগ নেমে আসে তাহলে কিন্তু থাকে না, চিরকাল থাকে না।”
বাস ভাড়া বৃদ্ধি অমানবিক সিদ্ধান্ত
বাস ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে ‘অমানবিক’ অভিহিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘এটা সম্পূর্ণভাবে একটা অমানবিক কাজ করা হয়েছে। আর এমনিতেই মানুষের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। বাসে কারা উঠে? কম আয়ের সাধারণ মানুষেরাই বাসে উঠে। তাদের বাস ভাড়া বাড়িয়ে দিলো। কার স্বার্থে বাড়িয়েছে? মালিকদের স্বার্থে বাড়িয়েছে। মালিকদেরকে আবার প্রণোদনা দিচ্ছে, অনুদান দিচ্ছে। পুরো বিষয়টা হয়েছে লুটপাটের জন্য, পুরোপুরি লুটপাট। শুধুমাত্র দুর্নীতির চরমভাবে সুযোগ নিচ্ছে সবাই।
করোনাভাইরাসের কারণে কৃষি ও কৃষকদের নাজুক-দুর্বিষহ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ১০ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।
এসবের মধ্যে আছে, আগামী একবছর পোল্ট্রি ও ডেইরিসহ সকল ধরনের কৃষি ঋণের কিস্তি সুদসহ মওকুফ, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও ভর্তুকি সহ প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ, কৃষিপণ্যসহ আম, লিচু কাঁঠাল, পেয়ারা প্রভৃতি ফল সরকারি উদ্যোগে বাজারজাত নিশ্চিতকরণ, কৃষকদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, কৃষকদের উৎপাদিত ধানের বিপরীতে কমপক্ষে তিন মাসের সমপরিমাণ টাকা বিনা সুদে প্রদান, কৃষকদের কাছ থেকে বেশি পরিমাণ ধান ক্রয়ে অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ, প্রান্তিক চাষ ও ক্ষেত মজুরদের জন্য বিশেষ সুদবিহীন ঋণ ও কৃষকদের উপরে হয়রানি বন্ধ করে তাদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ও চাল ক্রয়ের ব্যবস্থা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে বিএনপির অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের নেয়া কর্মসূচি ঘোষণা করেন মির্জা ফখরুল। ১০ই জুন প্রতিটি জেলায় প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে চলতি মৌসুমে বোরো ধান ক্রয়ের দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি পেশ, আর্থিক ও পরিবহন সংকটে যেসব কৃষক ধান বিক্রি করতে পারছে না তাদেরকে কৃষক দল থেকে সহায়তা প্রদান এবং প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে চলমান ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু, সদস্য সচিব হাসান জাফির তুহিন, সদস্য মেহেদি হাসান পলাশ, অধ্যাপক শামসুর রহমান শামস, বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন নসু, চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান ও শামসুদ্দিন দিদার উপস্থিত ছিলেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর