× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকরোনা আপডেটকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজান
ঢাকা, ১৩ জুলাই ২০২০, সোমবার
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন

পোশাক শ্রমিকদের নিয়ে ধারণা পাল্টানোর চেষ্টা করেছেন বাংলাদেশি নারী নির্মাতা

শেষের পাতা

মানবজমিন ডেস্ক | ৬ জুন ২০২০, শনিবার, ৮:২১

বাংলাদেশি নারী নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেনের সর্বশেষ সিনেমা ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ শুরুই হয় একটি ভয়াবহ আতঙ্ক ও ঘাবড়ে যাওয়া দৃশ্য দিয়ে। এতে দেখা যায়, একজন গার্মেন্টসকর্মী আগুন জ্বলছে এমন কারখানার মধ্যে আটকা পড়ে আছেন। তিনি নিরুপায় হয়ে প্রাণপনে চিৎকার করে যাচ্ছেন। কিন্তু নেমে যাওয়া সিঁড়ি ধোঁয়ায় ছেয়ে গেছে।
এ দৃশ্য নিয়ে রুবাইয়াত জানান, প্রতিটি পোশাক শ্রমিকের সব থেকে বড় ভয় হলো ভবন ধসেপড়া কিংবা এতে আগুন লাগা। এই দৃশ্যের জন্য যেই নারীকে বাছাই করা হয়েছিল তাকে খুব বেশি নির্দেশনা দিতে হয়নি। আমরা এ সিনেমায় যত পার্শ্বচরিত্র নিয়েছি তাদের বেশিরভাগই কোনো না কোনো সময় পোশাক শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন। তারা সবাই তাদের চাকরি হারিয়েছেন এবং চাকরি থাকাকালীন এসব ভীতির কথা তারা এখনো ভুলতে পারেননি।
চাকরিতে প্রবেশের সময় থেকেই সবাই এসব ভয়াবহ ঝুঁকির কথা মাথায় নিয়ে ঢুকতেন। সিনেমায় তাই যে আবেগ দেখা গেছে তা একদমই বাস্তব।
হিউম্যান রাইটস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের জন্য অনলাইনে প্রচারিত হচ্ছে রুবাইয়াত হোসাইনের এই সিনেমাটি। এতে শিমু আখতার নামের এক পোশাক শ্রমিকের জীবন তুলে ধরা হয়েছে। এ চরিত্রে অভিনয় করেছেন রিকিতা নন্দিনী শিমু। সিনেমার প্রধান বিষয়বস্তু হচ্ছে, শিমু আখতার ও তার সহকর্মীদের প্রাপ্য মজুরি নিয়ে সংগ্রাম। একই সঙ্গে যেসব ব্রান্ড তাদের সস্তা শ্রমের ভিত্তিতে ব্যবসা করছে তাদের ভূমিকা তুলে ধরা। সিনেমায় রুবাইয়াত দেখাতে চেয়েছেন, কখনো কখনো সমাজের চাপে মানুষ কীভাবে ক্রোধান্বিত হয়ে উঠতে পারে। এই রাগ সবারই হতে পারে কিন্তু আমি দেখিয়েছি, কীভাবে এটি পরিবর্তন আনতে সক্ষম।
বাংলাদেশের অল্প যে কয়েকজন নারী নির্মাতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের সিনেমাকে নিয়ে আসতে পেরেছেন তাদের মধ্যে একজন রুবাইয়াত হোসেন। তার সিনেমা মেড ইন বাংলাদেশে একজন বাংলাদেশি নারী পোশাক শ্রমিকের জীবনের কষ্টগুলো তুলে আনা হয়েছে। তার প্রথম সিনেমা মেহেরজান নিষিদ্ধ হয়েছিল বাংলাদেশে। জাতীয়তাবাদের সমালোচনা ও যুদ্ধ বিরোধী মনোভাবের কারণেই এ সিনেমা নিষিদ্ধ হয়। তার দ্বিতীয় সিনেমা ‘আন্ডার কন্সট্রাকশন’ বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।
মেড ইন বাংলাদেশ নিয়ে এই নির্মাতা বলেন, আমি চেয়েছিলাম পোশাক শ্রমিকদের নিয়ে মানুষের থাকা ভুল ধারণা ভেঙে দিতে। মানুষ মনে করে, এসব নারীরা শুধু শিকারই হয়ে যাবে। কিন্তু তারা শুধু নিষ্পেষিত হচ্ছে না তারা এখন সাহসী হয়ে উঠছে। তাদের মধ্যে রয়েছে তারুণ্য ও জীবনীশক্তি। তাদের মধ্যকার সেই সৌন্দর্য্য ও মর্যাদাবোধ ফুটিয়ে তোলাই এই সিনেমার উদ্দেশ্য। এই সিনেমা তৈরি করতে গিয়ে তিনি শতাধিক পোশাক শ্রমিকের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। এজন্য গবেষণা করেও সিনেমার স্ক্রিপ্ট তৈরিতে তিনি ৩ বছর ব্যয় করেছেন।
রুবাইয়াত বলেন, আমাদের জীবনের গতি নির্ধারণের অন্যতম উপাদান হচ্ছে ক্রোধ। আমি সব সময় ভাবতাম, নিজেকে ছোট করে দেখাই একজন মেয়ে হিসেবে আমার জন্য যথেষ্ট নয়। ছোট বেলা থেকেই আমি ও আমার বোন ভাবতাম কবে আমাদের একটি ভাই হবে এবং আমরা একটি আদর্শ পরিবার গঠন করতে পারবো। মেড ইন বাংলাদেশ বানাতে গিয়ে প্রতিটি সেক্টরে তিনি নারীদের দিয়ে কাজ করিয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি নারীদের যত বেশি সম্ভব সুযোগ দেয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। রুবাইয়াত মনে করেন, এখনো বাংলাদেশে নারীদের সিনেমা তৈরির সুযোগ কম। এ সম্পর্কিত কোনো বৈঠকে গেলে দেখা যায় পুরো আলোচনার মধ্যে তিনি একাই নারী। তিনি বলেন, এই অবস্থার পরিবর্তন আসছে। আমি কোনো নারী ফটোগ্রাফি ডিরেক্টর খুঁজে পাইনি। কিন্তু একদিন অবশ্যই পাবো।
সিনেমায় দেখানো হয়, কীভাবে একজন শ্রমিককে কম অর্থে অধিক কাজ করানো হয়। একটি দৃশ্যে দেখা যায়, শ্রমিকরা হিসেব করে বের করেন যে তারা প্রতিদিন ১৬০০টি শার্ট তৈরি করেন। যার দু’টি বা তিনটির যে বিক্রয়মূল্য তা তাদের মাসিক বেতনের থেকেও বেশি। এখানেই আন্তর্জাতিক ব্রান্ডগুলোর নেতিবাচক ভূমিকার কথা তুলে ধরা হয়। রুবাইয়াত বলেন, আমরা দেখেছি যে, এখনো কোভিড-১৯ মহামারি চলাকালীনও প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল করা হয়েছে। ফলে কারখানাগুলো বন্ধ হতে শুরু করেছে, শ্রমিকরা চাকরি হারাচ্ছে। ব্রান্ডগুলো অর্থ না প্রদান করলে শ্রমিকদের বেতন দেয়া যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, আমার সিনেমা দেখার পর অনেকেই বলবেন, আমরা আর বাংলাদেশ থেকে পোশাক কিনবো না। কিন্তু এটি সমাধান নয়। কারণ দেশে এখন নারীরা সম্মান পাচ্ছে এবং তাদের খারাপ অবস্থা মেনে নেয়া হচ্ছে না। এর বাইরে থাকছে খুবই অল্পসংখ্যক কিছু কারখানা। এখন শুধু এসব নারীদের তাদের অধিকারের জন্য আরো সমর্থন দরকার। যারা তাদের বানানো পোশাক পরছেন তাদেরকেও এগিয়ে আসতে হবে বলে মনে করেন এই নারী নির্মাতা।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর