× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১৬ জুলাই ২০২০, বৃহস্পতিবার

ছিনতাইকারীর গুলিতে আহত সেই পোস্টমাস্টার করোনায় আক্রান্ত

বাংলারজমিন

ঘাটাইল ( টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি | ৬ জুন ২০২০, শনিবার, ২:৩০

মোঃ মজিবর ররহমান। পোষ্টাল ডিপার্টমেন্টে প্রায় ৩০ বছরের অধিক সময় ধরে কর্মরত আছেন। চাকুরীর সুবাদে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে সরকারের এই জনগুরত্ব পূর্ণ কাজটি যথাযথ ভাবে সুনামের সঙ্গে করে আসছিলেন।সততা ও ন্যায়ের পথে থেকে অন্যায়ের কাছে কখনোই মাথা নত করেনি। জীবনের শেষ বয়সে এসে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে ব্যাপক হোচট খেয়ে বর্তমানে তিনি ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালের বিছায় শুয়ে মৃত্যূর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। পায়ে গুলি বৃদ্ধ অবস্হায় এক মাসেরও কাছাকাছি সময় ধরে হাসপাতালে অবস্হান করে পায়ের গুলি বের করতে পারেনি। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্ত চাপ সহ নানা জটিল রোগে ভুগছেন তিনি। টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বল্লা সাব পোষ্ট অফিসে পোষ্টমাষ্টার হিসাবে তিনি কর্মরত ছিলেন।গ্রামের বাড়ি ঘাটাইল উপজেলার ১নং দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের চৈথট্র গ্রামে। সংসারের এক মাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তিটি গুলিবিদ্ধ অবস্হায় নতুন করে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
তাঁকে প্রথমে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হলেও করোনা শনাক্তের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। গত ১৭ মে পোস্টমাস্টার মজিবুর রহমান উপজেলা পোস্ট অফিস থেকে এফডিআর ও সঞ্চয়পত্রের ৫০ লাখ টাকা তুলে মোটরসাইকেলে বল্লা পোস্ট অফিসে যাচ্ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পোস্ট অফিসের রানার রফিকুল ইসলাম। তাঁরা বেলা দুইটার দিকে বল্লা গোরস্থান পাড়া তাঁত বোর্ডের কাছে পৌঁছালে অপর একটি মোটরসাইকেলে তিন ব্যক্তি এসে তাঁদের পথরোধ করেন। কথা বলার একপর্যায়ে তাঁরা পোস্টমাস্টার মজিবুর রহমানের পায়ে এলোপাতাড়ি গুলি করে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যান। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুলি পায়ের ভেতরে থাকায় অস্ত্রোপচারের জন্য তাঁকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পর তাঁর পায়ে ট্রাকশন দেওয়া হয়।
মজিবুর রহমানের ছেলে মেহেদী হাসান ওরফে মুন্না জানান, অস্ত্রোপচারের আগে মজিবুর রহমান কোভিডে আক্রান্ত কি না, তা পরীক্ষার জন্য গত ২৭ মে তাঁর নমুনা নেওয়া হয়। ২৯ মে পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ আসে। তারপর তাঁকে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এখন সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন আছেন। ১২ জুন আবার নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করা হবে। করোনামুক্ত হলে অস্ত্রোপচার করে পায়ের গুলি বের করা হবে।ছিনতাইয়ের ঘটনার পর পোস্ট অফিস পরিদর্শক শেখ হোসেন জোবায়ের বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় মামলা করেন। পরে গোয়েন্দা পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য তানজিদুল ইসলাম ওরফে জিসানকে গ্রেপ্তার করে। জিসান ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ২২ মে আদালতে জবানবন্দি দেন। তাঁর জবানবন্দিতে এই টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতার জড়িত থাকার বিষয়টি বের হয়ে আসে।
এ ব্যাপারে তার পরিবার ও সমাজের লোকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মজিবরের মত লোক আমাদের অত্র অঞ্চলে আর একটিও খুজে পাওয়া যাবে না।অত্যান্ত শান্ত ও নম্র স্বভাবের মজিবরকে কোন দিন মানুষের সাথে ঝগড়া বিবাদ ও কথা কাটাকাটি হতে দেখিনি। অল্প কিছু দিন পরেই সে রিটার্ডে আসবে। সুখের সংসার মজিবরের। অথচ এক বিপদ কাটতে না কাটতেই নতুন করে করোনার বিপদ মাথায় এসে চেঁপে বসেছে। জানিনা এ যাত্রায় আমাদের মাঝে পুনরায় ফিরে আসবে কি না। মজিবর রহমানের স্ত্রী কান্না জড়িত কন্ঠে দেশ বাসির কাছে ভাল এই মানুষটির জন্য দোয়া চেয়েছেন। এবং এমন অন্যায়ের সাথে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
রিপন
৬ জুন ২০২০, শনিবার, ৬:০০

যেখানেই অপরাধ, ছিনতাই, পরস্বাপহরণ, সেখানেই ঘুরেফিরে অবশেষে একটিমাত্র দলকেই জড়িত দেখা যায়, - পরস্বাপহারী আউয়ামি লুটপাট সিনডিকেট সুদি লিক।

অন্যান্য খবর