× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ৭ আগস্ট ২০২০, শুক্রবার

চট্টগ্রাম ছাড়ছে প্রবাসী পরিবাররা, আক্রান্ত বাড়ছে গ্রামে

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে | ২৪ জুন ২০২০, বুধবার, ৮:০২

তাহমিনা আক্তার তাহু। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে থাকেন চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও থানার মোহাম্মদপুর আবাসিক এলাকার ভাড়া বাসায়। ছেলেমেয়ে দুটোই পড়ালেখা করে নগরীর স্বনামধন্য বাওয়া স্কুলে।  ছেলে তৃতীয় শ্রেণিতে, মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে। তাহমিনা মঙ্গলবার সকালে বাসা ছেড়ে দিয়ে ট্রাকযোগে আসবাবপত্র নিয়ে চলে যাচ্ছিলেন গ্রামের বাড়িতে। বাসা ছাড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার স্বামী রাকিবুল হাসান কাতার প্রবাসী। সেখানে সেনাবাহিনীতে চাকরি করেন তিনি। কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর থেকে তিনি বেতন না পাওয়ায় টাকা দিতে পারছিলেন না। ফলে ভাড়া বকেয়া পড়ে যায় তিন মাসের।
বাড়িওয়ালা বাসা ছেড়ে দিতে বলেন, তাই গ্রামের বাড়িতে চলে যাচ্ছি।
তাহমিনা বলেন, তাদের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা সদরে। স্বামী রাকিব কাতারের সেনাবাহিনীতে কোম্পানির অধীনে চাকরি করেন। বেশ সুখেই চলছিল তাদের জীবন। তাই ছেলেমেয়েকে একটু উন্নত শিক্ষার আসায় চট্টগ্রাম শহরে আসছিলেন। চট্টগ্রামের স্বনামধন্য বাওয়া স্কুলে পড়ছিলও তারা। কিন্তু বাসা ছেড়ে দেয়ায় এখন ছেলেমেয়ে দুটোর ভবিষ্যৎ অন্ধকার মনে হচ্ছে। অন্যদিকে বেতন না পেয়ে স্বামীও চাকরি ছেড়ে দেশে আসার অপেক্ষায় রয়েছে। শুধু তাহমিনা নয়, তাহমিনার মতো প্রতিদিন ভারাক্রান্ত মনে বোবা কান্না নিয়ে চট্টগ্রাম শহর ছাড়ছে শত শত প্রবাসী পরিবার। এমন তথ্য জানা গেছে, নগরীর বেশ কয়েকটি আবাসিক কল্যাণ সমিতির দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও বাড়িওয়ালা জমিদার বাবুদের সঙ্গে কথা বলে। যাদের করুণ চিত্রও ফুটে উঠে এই তথ্যে।  নগরীর  মোহাম্মদপুর আবাসিক কল্যাণ সমিতির সদস্য মাওলানা আজহারুল ইসলাম জানান, করোনা সংক্রমণ শুরুর পর থেকে মোহাম্মদপুর আবাসিক এলাকায় বসবাসকারী দেড় শতাধিক প্রবাসী পরিবার বাসা ছেড়ে গ্রামে চলে গেছে। প্রবাসী স্বামীরা বিদেশ থেকে টাকা পাঠাতে না পারায় বাড়ি ভাড়া দিতে পারেনি তারা। ফলে বাড়িওয়ালার নির্দেশে বাসা ছেড়েছে তারা। আরো দুই শতাধিক পরিবার বাসা ছাড়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এদের অনেকে বাড়িওয়ালার ভয়ে বাসায় তালা লাগিয়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে লুকিয়ে আছে। চান্দগাঁও আবাসিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি হাসান মাহমুদ জানান, নগরীর বৃহত্তম এই আবাসিক এলাকার অধিকাংশ বাসিন্দা প্রবাসী পরিবারের। বিশেষ করে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, বোয়ালখালী, পটিয়া ও সাতকানিয়া উপজেলার সহস্রাধিক প্রবাসী পরিবার রয়েছে। কিন্তু গত মার্চ মাসে করোনা সংক্রমণ শুরুর আগে থেকে এসব পরিবারে সংকট শুরু হয়। প্রবাসী স্বামীরা টাকা পাঠাতে না পারায় বাসা ভাড়া আটকে যায়। ফলে ৫০০-৬০০ প্রবাসী পরিবার ইতোমধ্যে বাসা ছেড়েছে। অনেক প্রবাসী পরিবার বাড়িওয়ালার কাছে ভাড়া মওকুফ চেয়ে বাসা ছেড়েছে। চট্টগ্রামের অভিজাত নাসিরাবাদ আবাসিক এলাকারও একই অবস্থা। এই আবাসিক এলাকা থেকে ৩০০ প্রবাসী পরিবার বাসা ছেড়েছে বলে জানান আবাসিক কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি হাজী মোক্তার হোসেন। নগরীর মৌসুমী আবাসিক কল্যাণ সমিতির সদস্য নজির হোসেন বলেন, গত তিন মাসে আবাসিক এলাকা ছেড়ে গেছে ৪০০ থেকে ৪৫০ প্রবাসী পরিবার। খুলশী আবাসিক কল্যাণ সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুর রহমান জানান,  গত দুই মাসে শতাধিক প্রবাসী পরিবার আবাসিক এলাকা ছেড়েছে। আবাসিক কল্যাণ সমিতির নেতারা জানান, ভাড়া দিতে না পারায় বাসা ছাড়লেও ভাড়াটিয়ার অভাবে প্রতিটি আবাসিক এলাকার খালী বাড়িগুলোতে একের পর এক টুলেট ঝুলছে। ভাড়াটিয়া মিলছে না। যা গত তিন দশকেও দেখা যায়নি। এতে বিপাকে পড়েছেন বাড়িওয়ালারা। কারণ অধিকাংশ বাড়িওয়ালার আয়ের উৎস এই বাড়ি ভাড়া। নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার হাজী ভবনের মালিক নজরুল ইসলাম বলেন, ৬ তলা ভবনের আমার চারতলার ৮টি ফ্ল্যাটই খালি। এখানে প্রবাসী পরিবার থাকতো। কিন্তু ভাড়া দিতে না পারায় গত তিন মাসে তারা বাসা ছেড়ে গ্রামে চলে গেছে। এতে আয় কমেছে। এ নিয়ে মহাসংকটে পড়েছি। গরিব এই দেশটা কখন যে করোনামুক্ত হবে আল্লাহই ভালো জানেন।
এদিকে অর্থ সংকটে প্রবাসী পরিবারগুলো শহর ছেড়ে যাওয়ার কারনে গ্রামে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, করোনা যেহেতু সংক্রমণ রোগ, সেহেতু শুরু থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার উপর জোর দেয়া হয়। সেক্ষেত্রে প্রবাসী পরিবারগুলো শহর ছেড়ে গ্রামে গেলে সেই সামাজিক দূরত্ব আর বজায় থাকে না। তাছাড়া পরীক্ষা ছাড়াই গ্রামে গিয়ে আক্রান্ত প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা স্বজনদের সংস্পর্শে গেলে তারাও করোনা আক্রান্ত হবেন। এ কারণে গত মে মাস থেকে গ্রামে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এরমধ্যে কোনো কোনো দিন শহরের চেয়ে উপজেলায় আক্রান্তের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর