× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ৭ আগস্ট ২০২০, শুক্রবার

মানিকগঞ্জে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১১ ইউপি সদস্যের অনাস্থা

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার, মানিকগঞ্জ থেকে | ২৪ জুন ২০২০, বুধবার, ৮:০৩

অশোভন আচরণ, দুর্নীতি, ইউপি সদস্যদের গায়ে হাত দেয়াসহ  নানা অভিযোগ এনে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার বাল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী রেজার বিরুদ্ধে ১১ জন ইউপি সদস্য অনাস্থা এনেছেন। কিন্তু  উপজেলা প্রশাসনকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হলেও দীর্ঘ এক মাস পেরিয়ে গেলেও অনাস্থা বিষয়ে লিখিত অভিযোগের কোনো তদন্ত হয়নি। ফলে ক্ষুব্ধ ইউপি সদস্যরা বাধ্য হয়ে গতকাল দুপুরে মানিকগঞ্জ প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে চেয়ারম্যানের  বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবসহ অপসারণ কার্যকর করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাল্লা ইউপি সদস্য মোতাহার হোসেন। লিখিত বক্তব্যে জানানো হয় বাল্লা ইউপি চেয়ারম্যান কাজী রেজা সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। তিনি নিজের ইচ্ছামতো ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনা করেন। কোনো কিছু জানতে চাইলে ইউপি সদস্যদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, গায়ে হাত তোলার মতো ঘটনা ঘটিয়েছেন। এ ছাড়া মাসিক মিটিং না করে একক সিদ্ধান্ত ও অনিয়মসহ দুর্নীতি করছেন।
এ ছাড়া বিগত দিনে টিআর, কাবিখা, কাবিটা, এলজিএসপি অর্থ, গৃহহীনদের ঘর বরাদ্দ, মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ বিভিন্ন কার্ডের বিপরীতে চেয়ারম্যান সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। অপরদিকে ২০১৯ সালে একটি বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান (এনজিও)  দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চলতি ও বকেয়া ট্যাক্সের  আদায় করা ১২ লাখ টাকা পরিষদের তহবিলে জমা না দিয়ে চেয়ারম্যান কাজী রেজা আত্মসাৎ করেছেন। গত ১৭ই মে ইউপি সদস্যরা জরুরি সভা করে চেয়ারম্যান কাজী রেজার বিরুদ্ধে অনাস্থা আনাসহ তার অপসারণ দাবি করেন। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য মোতাহার হোসেন, মজিবুর রহমান, মজিবুর পীরসাহেব, মহিদুর রহমান খান, আব্দুল করিম, নূরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, মনির হোসেন, বাসিয়া বেগম, সামসুন্নাহার ও বিলকিস বেগম। অনাস্থা প্রস্তাব আনার পর চেয়ারম্যানের লোকজন ইউপি সদস্যদের হুমকি ধামকি দিচ্ছেন।  ইউপি সদস্য মোতাহার হোসেন জানান, গৃহহীনদের ঘর নির্মাণে তাকে একটি প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে। প্রকল্পের প্রথম কিস্তির ৭৫ হাজার টাকা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কথা বলে চেয়ারম্যান কাজী রেজা ৪০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। এখন  গৃহ নির্মাণের ঠিকাদার ওই ৪০ হাজার টাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন। অপর ইউপি সদস্য  বিলকিস বেগম বলেন- গৃহ নির্মাণে একটি প্রকল্পের তাকেও সভাপতি করা হয়েছে। কিন্তু দুই কিস্তির টাকা উত্তোলন করা হলেও তৃতীয় কিস্তির ৭৫ হাজার টাকা তার স্বাক্ষর জাল করে চেয়ারম্যান কাজী রেজা উত্তোলন করেছেন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ইউপি সদস্যরা অভিযোগ করেন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থার বিষয়টি  জেলা প্রশাসক নির্দেশ দেয়ার পরও হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এখনো তদন্ত করেননি।  দুই একদিনের মধ্যে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনীত অনাস্থা প্রস্তাব তদন্ত না হলে ইউপি সদস্যরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অনশন করতে বাধ্য হবেন।  মানিকগঞ্জ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ফৌজিয়া খান বলেন,  বাল্লা ইউপি সদস্যদের অভিযোগের বিষয়টি পাওয়ার পর হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু কেন এখনো তদন্ত হয়নি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলতে পারবেন।
হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিনা  ইয়াসমিন জানান, বাল্লা ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন আছে। গৃহ নির্মাণের নামে চেয়ারম্যান তার (ইউএনও) নামে টাকা আদায় করেছে এমন অভিযোগ ইউপি সদস্যরা তার কাছে করেনি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর