× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১২ আগস্ট ২০২০, বুধবার
উত্তপ্ত জাতীয় সংসদ

হারুনের ওয়াকআউট

দেশ বিদেশ

সংসদ রিপোর্টার | ২৪ জুন ২০২০, বুধবার, ৮:২২

চলতি বাজেট অধিবেশনে অংশ নিয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিএনপি দলীয় এমপি হারুনুর রশীদ। ওয়াকআউটের আগে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যর্থতার দায়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে দেয়ার দাবি জানান। তিনি তার বক্তব্যে করোনা সংকট মুহূর্তে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নিয়ে জাতীয় ঐক্য গঠন এবং একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ উল্লেখ করলে সংসদে কিছুক্ষণের জন্য উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা এ সময় ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং হৈ-চৈ করতে থাকেন। এ সময় স্পিকারের আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার এডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া হারুনুর রশীদের অসংসদীয় শব্দগুলো সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ ঘোষণা করলে প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন বিএনপির ওই সংসদ সদস্য। এক সপ্তাহ মুলতবির পর গতকাল সকাল ১১টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বল্পসংখ্যক সংসদ সদস্য অধিবেশনে যোগ দেন।  প্রথমেই ঐতিহ্যবাহী ও দেশের প্রাচীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বক্তব্য রাখেন। এরপর প্রস্তাবিত ২০২০-২১ অর্থবছরের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়।

ডেপুটি স্পিকার এডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে বাজেট আলোচনায় অংশ নেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, সরকারি দলের আমিরুল হক মিলন, উম্মে কুলসুম স্মৃতি, মোহাম্মদ শফিউল ইসলাম, বিএনপির হারুনুর রশীদ, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা ও জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। বাজেট আলোচনার সময় বাঁধা এবং খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে দণ্ডিত আসামি বলায় বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক প্রস্তাবিত বাজেটকে গণমুখী ও উন্নয়নমুখী আখ্যায়িত করে বলেন, ১২টি বাজেট আমরা বাস্তবায়ন করেছি। সকল লক্ষ্য আমরা অর্জন করেছি। প্রতিটি বাজেটের লক্ষ্যই ছিল বাংলাদেশের উন্নতি ও অগ্রগতি। করোনার কারণে গত তিন মাস দেশের অর্থনৈতিক চাকা প্রায় স্তব্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু সারাবিশ্বের মানুষ করোনা প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছে। করোনা চিরস্থায়ী হতে পারে না, এটা একদিন স্থবির হবেই। বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা আমরা অবশ্যই অর্জন করবো। তিনি বলেন, বাজেট নিয়ে অনেক সমালোচনা শুনছি। বাংলাদেশ ব্যাংক দৃঢ়ভাবেই বলেছে, ব্যাংকে তারল্যের কোনো সংকট নেই, ঘাটতি ৮৭ হাজার কোটি টাকা নিলে কোনো অসুবিধা হবে না। তাই বাজেট বাস্তবায়ন কোনো অসুবিধা হবে না। করোনার মধ্যেও আমাদের খাদ্যর কোনো ঘাটতি নেই, বরং উদ্বৃত্ত।
জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, অনেক দেশ বাজেট তৈরি করতে পারেনি। কিন্তু সংকটের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী বাজেট দিয়ে জাতিকে গৌরবান্বিত করেছেন। একটা অস্বাভাবিক অবস্থা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এক লাখ কোটি টাকার বেশি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ছাড়া প্রস্তাবিত বাজেট গতানুগতিক। বরাদ্দ বৃদ্ধি না করে স্বাস্থ্য খাতে বাজেট কমানো হয়েছে। করোনা মোকাবিলায় কারিগরি নয়, জনস্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ টিম দ্রুত তৈরি করতে হবে। সার্বজনীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে রাজস্ব অফিস এবং ৫০ লাখের বেশি হাট-বাজারকে রাজস্বের আওতায় আনলে বাজেটের টার্গেট পূরণ হবে। আমরা ধারে ঋণ নিয়ে ঘি খেতে চাই না। যারা দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করে সেকেন্ড হোম করেছে, তাদের টাকা ফেরত আনতে হবে। করোনা পুষে রেখে অর্থনীতি শক্তিশালী হবে না, দুর্নীতি পুষে রেখে উন্নতি হবে না।
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি করোনা সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রাণান্তকর প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে বলেন, করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য খাতে বাড়তি ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। টেস্টিং ও অক্সিজেন সরবরাহ বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে। করোনার আঘাত অর্থনীতিসহ সবখাতেই লেগেছে এবং লাগবে।
বিএনপির হারুনুর রশীদ প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করে বলেন, এমন সময় করোনার আঘাত এসেছে একমাত্র রেমিটেন্স ছাড়া অর্থনীতি ছিল মারাত্মক দুর্বল। চিকিৎসা ও খাদ্য এখন মূল চ্যালেঞ্জ। সুশাসন ও সমন্বয়ের খুবই অভাব রয়েছে। তবে সরকার যে বাজেট দিয়েছে, তা বাস্তবায়নের সক্ষমতা আছে কি না সন্দেহ। করোনাউত্তর দেশের অর্থনীতিকে সামাল দিতে যে ধরনের বাজেট প্রণয়নের দরকার ছিল, তা দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। উন্নয়নের পরিবর্তে মানুষ বাঁচাও রাজনীতি করতে হবে। ব্যাংক লুটেরা, দুর্নীতিবাজ, শেয়ারবাজার লুটেরারা সরকারের অত্যন্ত ক্ষমতাশালী ব্যক্তি। পুলিশ বাহিনীকে সরকারদলীয় বাহিনীতে পরিণত করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় চরম ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। জাতীয় এই সংকট মোকাবিলায় অবশ্যই জাতীয় ঐক্যে প্রয়োজন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নামে সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। সময় শেষ হয়ে গেলে বিএনপির এই এমপি অতিরিক্ত সময় দাবি করলে স্পিকারের আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন বলায় এ শব্দগুলো এক্সপাঞ্জ করে বলেন, ‘আপনি (হারুনুর রশীদ) যে দু’জনের (খালেদা জিয়া-তারেক রহমান) সঙ্গে ঐক্যের কথা বলেছেন, তারা দু’জনই আদালত কর্তৃক দণ্ডিত আসামি। তাদের সঙ্গে ঐক্যের কথা কীভাবে বলেন?’ এ সময় হারুনুর রশীদকে ফ্লোর দিলে তিনি স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি স্পিকারের আসন থেকে আমাদের সভাপতির নামে এসব কথা বলতে পারেন না। এর প্রতিবাদে আমি সংসদ থেকে ওয়াকআউট করলাম। এরপর তিনি সংসদ অধিবেশন থেকে চলে যান।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর