× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ৭ আগস্ট ২০২০, শুক্রবার

চীন-ভারত দ্বন্দ্বে কী হবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা?

এক্সক্লুসিভ

অনিম আরাফাত | ৩০ জুন ২০২০, মঙ্গলবার, ৮:১১

লাদাখে লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোলে মুখোমুখি ভারত ও চীনের সেনাবাহিনী। উত্তেজনা কমে কমে করেও কমছে না। এ মাসের প্রথম অংশে সীমান্তে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হয়। হতাহতের ঘটনা ঘটেছে চীনের পক্ষেও। তবে দেশটি এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। এ নিয়ে গত দুই সপ্তাহ ধরে চীন-ভারত সীমান্তে যে উত্তেজনা চলছে তাতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের গন্ধও পাচ্ছেন কেউ কেউ। যদিও প্রথম থেকেই আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় ইস্যুটি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। জার্মানি দুই দেশকে উত্তেজনা এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
তবে এ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে সরাসরি চীনের নীতির কঠিন সমালোচনা করলো। একইসঙ্গে এ অঞ্চলে চীনা হুমকি মোকাবিলার কথাও জানিয়েছে দেশটি।

কিন্তু প্রশ্ন কীভাবে চীনের হুমকি মোকাবিলায় ভারতকে সাহায্য করবে যুক্তরাষ্ট্র? মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পমেপও জানিয়েছেন, চীনকে নিয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী তার সেনাদের অবস্থান পুনরায় পরিবর্তন করতে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের কারণ হিসেবে পমেপও ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের ওপর ক্রমবর্ধমান চীনা হুমকির কথা জানান। বৃহসপতিবার ব্রাসেলসে একটি সম্মেলনে প্রথমবারের মতো চীন-ভারত সীমান্ত সংঘর্ষ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান প্রকাশ্যে আনেন পমেপও। এতে তিনি লাদাখে ভারতীয় সেনা হত্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি তার প্রতিবেশী দেশকে যুদ্ধের উস্কানি দিয়ে যাচ্ছে। একইসঙ্গে দক্ষিণ চীন সাগরেও চীন আগ্রাসন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন পমেপও।

চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মিকে থামাতে যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বজুড়ে তার সেনা অবস্থানে পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে। ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে এশিয়ায় মোতায়েন করাই এর লক্ষ্য। রাশিয়ার হুমকি থেকে ইউরোপকে বাঁচাতে মহাদেশটির বিভিন্ন রাষ্ট্রে হাজার হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল একসময়। কিন্তু কমিউনিস্ট পার্টি চীনকে বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক ও সামরিক সুপার পাওয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রও মার্কিন স্বার্থের জন্য চীনকে রাশিয়ার থেকেও বড় হুমকি হিসেবে দেখতে শুরু করেছে। তাই যুক্তরাষ্ট্র এখন চীনকে ঘিরে তার কৌশল শক্তিশালী করতে চায়। এরইমধ্যে জার্মানিতে থাকা ৫২,০০০ মার্কিন সেনার মধ্যে অর্ধেকই সরিয়ে অন্যত্র মোতায়েন করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

চীন ইতিমধ্যে দক্ষিণ চীন সাগরে নিজের প্রভাব বৃদ্ধি করেছে। এখানে চীনা স্বার্থের বিরুদ্ধে যারা কথা বলেছে তাদের জন্যও হুমকি হয়ে উঠেছে দেশটি। এদিকে, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের মিত্রও কমতে শুরু করেছে। এর পেছনে ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির অভাব যেমন দায়ী তেমনি অঞ্চলটিতে চীনের প্রভাব বৃদ্ধিও বড় ভূমিকা রেখেছে। নেপালে কমিউনিস্ট পার্টি ক্ষমতায় বসার পর থেকেই ভারতের সঙ্গে সমপর্কে টানাপড়েন শুরু হয়েছে দেশটির। একে একে উঠে এসেছে বিভিন্ন ইস্যু। যার সর্বশেষ হচ্ছে ভারতের সঙ্গে থাকা বিতর্কিত ভূমিকে নিজেদের মানচিত্রে অন্তর্ভুক্তকরণ। ভারতের দাবি, চীনের প্ররোচনাতেই নেপাল এ পথে আগাচ্ছে। ভুটানও ভারতীয় রাজ্য আসামে পানি প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছে বলে খবর দিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম। দেশটি নেপালের পথেই হাঁটছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দেশটির গণমাধ্যমগুলো। যদিও শেষ পর্যন্ত ভুটান এমন দাবি অস্বীকার করেছে। জানিয়েছে, এটি সাময়িকভাবে প্রবাহ বন্ধ রেখেছে, শিগগিরই তা খুলে দেয়া হবে।

এখন চীনকে থামাতে ভারতের বড় ভরসার জায়গায় পরিণত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। চীনের সঙ্গে যদি ভারতের বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষ হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র যদি তাতে ভারতের পক্ষে থাকে তাহলে তা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকেও মোড় নিতে পারে। কারণ, এ অঞ্চলে জাপান ও অস্ট্রেলিয়াও তখন চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দেবে। আবার পাকিস্তান ও উত্তর কোরিয়ার সমর্থন পাবার সম্ভাবনা রয়েছে চীনেরও। কিন্তু প্রতিবেশী ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের সঙ্গে চীনের সমপর্ক ভালো না। পমেপও তার বক্তব্যে এসব দেশের কথাও উল্লেখ করেছেন। তাই এসব দেশে মার্কিন সেনা বৃদ্ধি হতে পারে চীনকে ঘিরে ধরতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পদক্ষেপ। তাইওয়ানের সঙ্গেও ভালো সামরিক সমপর্ক রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। উত্তেজনার প্রেক্ষিতে সেখানেও সেনা পাঠাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। কারণ তাইওয়ানের জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠেছে চীন। সমপ্রতি দেশটির আকাশে চীনা যুদ্ধবিমানের প্রবেশ এ হুমকিকে আরো দৃঢ় করেছে। বর্তমানে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী তাইওয়ানের কাছে মোতায়েন রয়েছে। প্রতিটি বিমানবাহী রণতরীতে ৬০টিরও বেশি করে বিমান রয়েছে। এ ছাড়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে রয়েছে মার্কিন সেনাঘাঁটি। দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ১৫টি ছোট-বড় মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে। এতে আছে ২৮ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা। অপরদিকে জাপানে আছে আরো ২৩টি ঘাঁটি। সেখানে আছে সব মিলিয়ে ৫৪ হাজার মার্কিন সেনা। যুক্তরাষ্ট্রের ৭ম বৃহত্তম নৌবহরও জাপানে অবস্থান করছে। নৌবহরটিতে আছে ৫০টি যুদ্ধজাহাজ ও ২০ হাজার নৌসেনা। দক্ষিণ কোরিয়ার গুয়াম দ্বীপে ৫০০০ মার্কিন সেনা রয়েছে। দ্বীপটি মার্কিন বিমান বাহিনীর স্থায়ী ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর