× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১০ আগস্ট ২০২০, সোমবার

ভাঙ্গনের কবলে শ্রীমঙ্গলের চা বাগান

বাংলারজমিন

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি | ১ জুলাই ২০২০, বুধবার, ১০:১৯

 শ্রীমঙ্গলে এক প্রভাবশালী কর্তৃক পাহাড়ি ছড়া দখল করে বসত বাড়ির দেয়াল নির্মাণে খবর পাওয়া গেছে। ছড়া দখল করে দেয়াল নির্মাণে ছড়ার গতিপথ সংকীর্ণ হয়ে পড়ায় অতি বৃষ্টিজনিত জলাবদ্ধতা ও মাটি ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে ছড়ার দু’পাশ। এতে পার্শ্ববতি রাবার ও উজানের বিস্তৃর্ণ চা বাগান ব্যাপক ভাঙ্গনের মুখে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে জেমস ফিনলের পক্ষে দফায় দফায় অভিযোগ করে কোন প্রতিকার মিলছে না। আর এ সুযোগে ওই প্রভাবশালী কর্তৃক ছড়া পারের পাহাড়ি মাটি কেটে প্রাকৃতিক ছড়ার গতিপথ পরিবর্তনের প্রমান পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের রামনগর বস্তি এলাকার জনৈক মানিক মিয়ার ছেলে মো. জামাল মিয়া গত কয়েক বছর ধরে কাকিয়াছড়া নামে এই ছড়ার প্রায় ২০ ফুট ভেতরে বাসার সীমানা দেয়াল নির্মাণ কাজ শুরু করে। এতে মূল ছড়ার মুখ বন্ধ হয়ে পানি প্রবাহে বাধা পড়লে গত ১৭ অক্টোবর ফুলছড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. নিয়ামুল হক শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে দেয়ালটি নির্মানধিন অবস্থায় থাকার কথা বলা হয়। অভিযোগের পরপরই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুর রহমান মামুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। জানা গেছে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চলে আসার পর জামাল মিয়া দেয়াল নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন।
ছড়ার উপর সু উচ্চ দেয়াল নির্মাণের ফলে ছড়ার পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করলে জামাল মিয়া ছড়ার অপর অংশের পাহাড়ি জমির মাটি কেটে দেয়ালের ভেতরের অংশ ভরাটের কাজে ব্যবহার করেন। এরপর বাগান কর্র্তৃপক্ষ প্রতিকার চেয়ে গত ৫ মে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবারো আবেদন করেন। সরেজমিন দেখা গেছে, প্রাকৃতিক ছড়ার গতিপথ পরিবর্তনের ফলে সেখানকার রাবার বাগান ও উজানে বিস্তৃর্ণ চা বাগানে মাটি ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙ্গনের পাশাপাশিা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারনে বাগানের চা গাছ ঝুকির মধ্যে পড়েছে।
ফুলছড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক নিয়ামুল হক জানান, ‘উজান থেকে নেমে আসা প্রাকৃতিক এই ছড়ার উপর দেয়াল নির্মাণের ফলে সেখানকার রাবার বাগান ও উজানে সৃজিত চা বাগান হুমকির মুখে পড়েছে। এতে চা বাগানে মাটি ভাঙ্গন ও জলাবদ্ধতায় চা চারা গাছ মরে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। তিনি বলেন, পুরো ছড়াটি ফিনলে কোম্পানীর রাবার বাগানের জায়গার উপর দিয়ে গেছে। এর একপাশে রাবার বাগান এবং অপর প্রান্তের ছড়ার তীর কয়েক ফুট পযর্ন্ত জায়গা কোম্পানীর। তবে প্রাকৃতিক সৃষ্ট ছড়ার ১০ ফুটের মধ্যে সব ধরনের স্থাপনা নির্মাণে বাধ্যবাধকতা থাকলেও উক্ত জামাল মিয়া কোন কিছুর তোয়াক্কা করছেন না। এনিয়ে আমরা ২ দফা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে অভিযোগ করের কোন প্রতিকার পাচ্ছি না’।
এব্যাপারে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার’কে মুঠোফানে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুর রহমান মামুন বলেন, ‘ফিলনে থেকে অভিযোগ করার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারকে বলা হয়েছিল দখলদারের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ নোটিশ করার। কিন্তু এর কিছু দিন পর সার্ভেয়ার বদলি এবং পাশাপাশি সময়ে করোনা সংক্রমন দেখা দেয়ায় এনিয়ে আর আগানো সম্ভব হয়নি। তবে প্রাকৃতিক ছড়ায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নির্মিত এই দেয়াল উচ্ছেদে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে’ বলে তিনি জানান।
ছড়া দখল করে বাসার সীমানা দেয়াল নির্মাণের কথা স্বীকার করে জামাল মিয়া দাবী করে বলেন, ‘তৎকালিন বালিশিরা ডিভিশনের ডিজিএম সাজ্জাদ সারোয়ার ও ফুলছড়া চা বাগানের ম্যানেজার মুসাব্বির সাহেবের মৌখিক অনুমতি নিয়ে গত ৭ বছর আগে এই দেয়াল নির্মাণ করি। তখন তারা কেউ বাধা দেয়নি’। তিনি জানান, ‘আমার বাসার সীমানার ভাঙ্গন ঠেকাতে ছড়ার অংশে ডিসি খাস খতিয়ানের জায়গায় দেয়াল দেই। সরকারী খাস জায়গায় দেয়াল দিলে কোম্পানীর কি?

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর