× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১০ আগস্ট ২০২০, সোমবার

রামগঞ্জে করোনা যোদ্ধা সেলিমের গল্প

বাংলারজমিন

রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি | ২ জুলাই ২০২০, বৃহস্পতিবার, ৬:১০

জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর’ স্বামী বিবেকানন্দের এই বাণী নানা সময়ে নানান মানুষের মধ্যে প্রতিফলিত হতে দেখেছি আমরা। তবে বিশাল এ পৃথিবীতে এই মানুষগুলোর সংখ্যা একেবারেই যৎসামান্য। তারপরও এই মানুষগুলো আছে বলেই আহাজারি পৃথিবীটা এখনো বাঁচার স্বপ্ন দেখে। হৃদয়হীনা দরিয়ায় ভালোবাসার মেলবন্ধন তৈরি করা এক শিক্ষকের গল্প বলবো আজ। বলছি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম শোশালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম হোসেনের কথা। উপজেলার ৭নং দরবেশপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ দরবেশপুর গ্রামের চৌকিদার বাড়ির মৃত নুর মিয়া চৌকিদারের মেধাবী ছেলে সেলিম। ৪ ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট সেলিম হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি গ্রামে হোমিও চিকিৎসা দিয়ে সাধারণ মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। দেশব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে করোনা কিংবা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হলে লাশের গোসল, জানাজা ও দাফন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন পরিবারের লোকজন।
প্রতিবেশীদের চাপের মধ্যে গৃহবন্দিও হয়েছেন মৃত ব্যক্তির স্বজনরা। এ অবস্থায় রোদ, বৃষ্টি, ঝড়সহ নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলার পশ্চিম শোশালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম হোসেনের নেতৃত্বে ১৫ জন মানবিক সদস্য কাজ করছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রামগঞ্জ উপজেলা লাশ দাফন কমিটিতে।
সংগঠন সূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত তারা করোনা কিংবা উপসর্গে মৃত মোট ২২ জনের লাশ দাফন করেছে। এর মধ্যে উপজেলার শেফালীপাড়া এলাকার তছলিম উদ্দিন, আশার কোটা এলাকার মমতাজ বেগম, নন্দন পুর এলাকার রহুল আমিন, বদরপুর এলাকার আবুল কাশেম, শ্রীরামপুর এলাকার জাহানারা বেগম, পশ্চিম শোশালিয়া এলাকার কোহিনূর বেগম ও নূরনবী, দরবেশপুর এলাকার শিশু সিফাত, জগৎপুরের সাহাব উদ্দিন, আউগানখীল এলাকার আবদুল হালীম পাটওয়ারী, পূর্ব শোশালীয়া এলাকার রাইছা আক্তার, লামচরের নুরুল হুদা ও ইছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সহিদ উল্যাসহ এ পর্যন্ত ২২টি লাশ দাফন করেছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা লাশ দাফন কমিটির সভাপতি, পশ্চিম শোশালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম হোসেন বলেন, করোনা ভাইরাসের শুরুতে গত মার্চে লক্ষ্মীপুর সিভিল সার্জন অফিসে প্রশিক্ষণ নিয়ে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করে মানবিক বিবেচনায় লাশ দাফনের কাজ শুরু করি। সমস্ত ভয়কে জয় করে অদ্যাবধি পর্যন্ত আমরা সমাজের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। যেখানে মানুষ লাশ দাফন করতে পারছে না, অনেকে ভয়ে জানাজায় আসছেন না, আমরা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। উপজেলার যেখানেই আমাদের খবর দেয়া হবে, আমরা সেখানে গিয়েই মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন করে আসবো।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর