× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১০ আগস্ট ২০২০, সোমবার

স্ট্যাটাস নিয়ে শ্রীপুরে আওয়ামী লীগে কাদা ছোড়াছুড়ি

বাংলারজমিন

ইকবাল আহমদ সরকার, গাজীপুর থেকে | ২ জুলাই ২০২০, বৃহস্পতিবার, ৬:১২

মরহুম সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট রহমত আলীকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গাজীপুরে আওয়ামী লীগ কর্মীর একটি স্ট্যাটাসকে ঘিরে চলছে তোলপাড়। দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বেরিয়ে আসছে। নোংরা ভাষায় ও এক পক্ষ আরেক পক্ষকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছেন। এর জের- উত্তেজনা মাঠ পর্যায়েও ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।
গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজের কট্টর সমর্থক আওয়ামী লীগ কর্মী হালিম পালোয়ান। তিনি নির্মাণাধীন একটি সড়কের ছবি দিয়ে সম্প্রতি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। হালিম পালোয়ান নির্মাণাধীন সড়কের ছবি পোস্ট করে স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, ‘এই রাস্তাটা ত্রিশ-চল্লিশ বছর আগের রাস্তা। মাটি রাস্তাটা কার্পেটিং করার জন্য সাবেক এমপি রহমত আলী দাদাকে দুবার আমাদের দমদমা স্কুলের মাঠে নিয়ে এসেছিলাম। একবার দিয়েছিলাম সোনার চাবি, আরেকবার দিয়েছিলাম সোনার নৌকা।
উনার মনটা এতই ছোট ছিল, সবুজ ভাই (বর্তমান সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন সবুজ) যখন উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন তখন তিন তিনবার এই রাস্তার ফাইলটা দেখেই ফেলে দেন। তখন দাদা (রহমত আলী এমপি) ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সভাপতি। এই রাস্তাটা দাদা (রহমত আলী) করতে দেন নাই। কারণ, এই গ্রামে আমাদের প্রিয় নেতার (ইকবাল হোসেন সবুজের) জন্ম। হে দাদা- অনেক কষ্টে বলতে হয়, দোয়া করি আপনি জান্নাতে শুয়ে শুয়ে দেখুন আমাদের দমদমা গ্রামের ছেলেই (সবুজ) রাস্তাটা কার্পেটিং করাচ্ছে।’ হালিম পলানের এই স্ট্যাটাস দেখে তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠেন মরহুম রহমত আলী এমপি সমর্থক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের লোকজন। আবার লেখাটির পক্ষেও বাহবা দিচ্ছেন অনেকে। এতে পক্ষে-বিপক্ষে লেখালেখির ঝড় বইছে। এই স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়ায় মার্জিয়া আক্তার ইভা লিখেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট রহমত আলী সাহেবের হাতের ছোঁয়া নেই এমন কোন ওয়ার্ড বা ইউনিয়ন নেই। সুতরাং তাকে নিয়ে কোন মন্তব্য না করাই ভালো। মনিরুজ্জামান মনির লিখেছেন, যেহেতু মৃত মানুষ আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারবে না, তাই এসব লেখা অনভিপ্রেত। জীবিত থাকা অবস্থায় প্রতিবাদ করা উচিত ছিল। হালিম পালোয়ান কে উদ্দেশ্য করে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নাসির উদ্দিন জর্জ লিখেছেন, সভ্যতা বলতে একটা শব্দ আছে, ভুলে যাওয়া ঠিক না। রহমত আলী সাহেব চলে যাওয়ার পর শ্রীপুরে আর তাঁর মতো নেতার জন্ম হবে না। সম্মান না করেন আপনার বিষয়, কিন্তু অপমান করবেন এটা কি সঠিক কাজের মধ্যে পড়ে? আমিনুল কাদের লিখেছেন, মৃত মানুষটার প্রতি তীর্যক মন্তব্য কারো কাছ থেকে প্রত্যাশা করি না। যদি এমপি সবুজ সাহেব এই স্ট্যাটাসটা দেখেন, তবে মনে হয় ¯ট্যাটাসকারীকে তিনি ভৎসনাই দেবেন। একজন রহমত আলী তৈরি হওয়া এত সহজ নয়। কবরে শুয়ে শুয়ে এরূপ ভাষা প্রয়োগ রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রকাশ করে। স্কুল শিক্ষিকা দীপা বিনতে আজিজ কাওরাইদ ইউনিয়নের কয়েকটি সড়কের দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে  ইকবাল হোসেন সবুজ এর অতীতের কিছু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি যা বাস্তবায়ন হয়নি তা উল্লেখ করে লিখেছেন, রহমত আলী দাদা যা করেছেন সেইটুকুই অন্য কেউ করে দেখুক কত কাঠখড় পোড়াতে হয়। দাদার (রহমত আলীর) মত নেতা আগামী ১০০ বছরেও তৈরি হবে না। নুরুল আমিন লিখেছেন, রহমত আলী সাহেব একটা ব্রান্ড, উনার মত কি সবুজ হতে পারবে? রফিকুল ইসলাম রফিক লিখেছেন, গাজীপুরের লাখো জনতার ভালবাসার নাম সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও এমপি মরহুম অ্যাডভোকেট রহমত আলী। উনার নামে অযৌক্তিক, মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দেওয়ার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। হোসাইন দেলোয়ার লিখেছেন, মিস্টার হালিম পালোয়ান আপনার এমপি সবুজ সাহেব এমন মহাজাগতিক কিছু করে ফেলেন নাই, যে সাবেক এমপি রহমত আলী সাহেবের দেখতে হবে উন্নয়ন, তাও পরপারে বসে। একজন মৃত ব্যক্তিকে সম্মান দিতে না পারেন, এভাবে তো বলতে পারেন না। অ্যাডভোকেট রহমত আলীর আমলের অনেক উন্নয়ন কার্যক্রমের ফিরিস্তি তুলে ধরে অনেকেই হালিম পালোয়ানের এই স্ট্যাটাস এর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান। আবার এর উল্টো চিত্র ও রয়েছে। অনেকেই স্ট্যাটাস এর প্রশংসাও করেছেন। আব্দুস সাত্তার লিখেছেন, ঠিক বলেছেন, প্রহলাদপুর ইউনিয়নের উন্নয়নের পরিবর্তে আরও বাধাগ্রস্ত করেছিলেন। সজিব আহমেদ লিখেছেন, ভালোবাসার আরেক নাম ইকবাল হোসেন সবুজ।সাজ্জাদ ইসলাম লিখেছেন, গাজীপুর-৩ আসনে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হচ্ছে। তার একমাত্র কারণ হচ্ছে আমাদের জননেতা ইকবাল হোসেন সবুজ এমপি। মনোয়ার হোসেন লিখেছেন, সত্যিই কখনো আড়াল করা যায় না। রহমত আলী সাহেব চেয়েছিলেন এই এলাকায় যেন কোন নেতা-নেত্রীর জন্ম না হয়। নতুন সূর্য উদিত হয়েছে, অবহেলিত এলাকাবাসীকে কিছু দেওয়ার জন্য। আশা করি আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার পাব। রাকিব শেখ হালিম পালনকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, আপনি না বললে হয়তো এই ইতিহাসটা জানতে পারতাম না। তবে দুই পক্ষের বাড়াবাড়ির প্রেক্ষিতে মইনুল হাসান লিখেছেন, রাজনীতিতে অসুস্থ মানসিকতা পরিত্যাগ করা উচিত। শ্রীপুরের বর্তমান অভিভাবক ইকবাল হোসেন সবুজ সাহেব আর মরহুম রহমত আলী সাহেবকে সবাই শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। প্রতিহিংসামূলক অশোভন অনেক কথাই উঠে এসেছে মরহুম সংসদ সদস্য আর বর্তমান সংসদ সদস্য এই দুজনের পক্ষে-বিপক্ষে। এইসব বক্তব্য ঘিরেই দুপক্ষের বিরোধ আরো স্পষ্ট হয়ে উঠছে, চাপা উত্তেজনা ও রয়েছেছে। ভবিষ্যতই হয়তো বলতে পারবে এর রেশ কোথায় গিয়ে ঠেকবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর