× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১৩ আগস্ট ২০২০, বৃহস্পতিবার

খামারিদের পাশে এনএনটিপি-২

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ৯ জুলাই ২০২০, বৃহস্পতিবার, ৮:৩১

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার নদীভাঙ্গন কবলিত খরমা গ্রামের প্রান্তিক খামারী জালেহা বেগম। গরু-ছাগল আর হাঁস-মুরগী থেকে যে উপার্জন হয় তা দিয়েই সংসার চলে তার। করোনা সংক্রমণকালীন সময়ে তার একটি গাভী লাম্ফি স্কিন ডিজিজে আক্রান্ত হলে বেশ সমস্যায় পড়েন। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার এনএটিপি-২ এর এলইও ডা. শাহরিয়ার মাহমুদ আরমানের সঙ্গে। ওই চিকিৎসক মোবাইল ফোনে তাৎক্ষণিক পরামর্শ দেন এবং পরদিন জালেহার বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা দিলে দুশ্চিন্তামুক্ত হন তিনি। একই বিপদে পড়েছিলেন মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার দরিয়াপুর ইউনিয়নের প্রান্তিক নারী খামারী মোছা. ববিতা খাতুন। তার একটি গাভীর বাছুর প্রসব হলে চিন্তিত হয়ে পড়েন। বাছুরটি জন্মের পর থেকে উঠতে পারছিল না, দুধ খেতে পারছিল না।
এই পরিস্থিতিতে ববিতা কোন চিকিৎসকও খুঁজে পাচ্ছিলেন না। অবশেষে প্রতিবেশির মাধ্যমে জানতে পারেন মুজিবনগরের এনএটিপি-২ এর প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ভেটেরিনারি ডাক্তার মো. আব্দুল করিমের কথা। তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি তাৎক্ষণিক ছুঁটে যান খামারির বাড়িতে। তারপর সমস্যা নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা দিলে ৩০ মিনিটেই বাছুর দাড়িয়ে যায় এবং গাভীর দুধ খাওয়া শুরু করে। উন্নত পালন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রাণিসম্পদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে এমন হাজারো মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নিরলস ভূমিকা রেখে চলেছে ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রাম, ফেজ-২ প্রজেক্ট (এনএটিপি-২) প্রাণিসম্পদ অঙ্গ। করোনা সংক্রমণকালীন সময়েও বাংলাদেশের ২৭০টি উপজেলায় সেবা অব্যাহত রেখেছে এনএটিপি-২-এর কর্মীরা।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পাধীন বিভিন্ন উপজেলার প্রায় তিন হাজার ইউনিয়নে প্রায় ৮০৮২টি কমন ইন্টারেস্ট গ্রুপ (সিআইজি) তে সমবায় কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রাণিসম্পদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে ১৩৫ জন প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা। এ সমবায় কার্যক্রমের আওতায় আছে সিআইজি সদস্যভুক্ত প্রায় দুই লক্ষাধিক সিআইজি কৃষক এবং এর তিনগুন নন- সিআইজি সদস্যভুক্ত কৃষক ও খামারি। মূলত দুটো লক্ষ্য নিয়ে এই প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়েছিল বলে জানান প্রকল্পটির পরিচালক ডা. মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদা। তিনি বলেন. উৎপাদন বৃদ্ধি ও বাজার তৈরি এই দুটি লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রকল্পটির যাত্রা শুরু হয়। লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সুনাম অর্জনে সক্ষম হয়েছে এনএটিপি-২ প্রকল্প। নিঃসন্দেহে প্রকল্পের কর্মীরা এই সফলতার দাবিদার। করোনাকালীন সময়েও তারা তাদের অপরিহার্যতার প্রমাণ দিয়েছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংক, ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এগ্রিকারচারাল ডেভেলপমেন্ট এবং ইউএসএইডের অর্থায়নে প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পটির প্রথম ধাপ বাস্তবায়ন হয়েছে ২০০৭ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত। দ্বিতীয় ধাপে এটি ২০২৩ সাল পর্যন্ত চলবে বলে জানা গেছে। এনএটিপি-২ এর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে, প্রান্তিক খামারি ও কৃষকদের খামারের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য বাজারমূল্য প্রাপ্তিতে বাজারে প্রবেশাধিকারে তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে খামারীদের প্রাণিসম্পদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি অব্যাহত রাখাসহ উৎপাদিত দুধ, ডিম ও মাংস বাজারজাত করণের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ঠিক রাখতে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে এনএটিপি পরিবার। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে প্রাণিসম্পদের উৎপাদন অব্যাহত রাখতে ভ্রাম্যমান দুধ, ডিম বিক্রয় ও খামারিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে এনএটিপি’র প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তাগণ। এ পরিস্থিতিতে গোখাদ্য সমস্যা দূর করতে খামারীদের মাঝে ঘাসচাষ প্রদর্শনী প্রদানের মাধ্যমে উন্নত জাতের ঘাষচাষ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে অথবা টেলিফোনে দিচ্ছে জরুরি চিকিৎসা সেবা।

এনএটিপি-২ প্রকল্পটি প্রান্তিক খামারিদের উন্নয়নে কার্যকরী ভূমিকা রাখছে বলে জানান প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আবদুল জব্বার শিকদার। তিনি বলেন, প্রান্তিক খামারীদের প্রশিক্ষণ ও ইনোভেশন কার্যক্রমের মাধ্যমে খামারের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে এনএটিপি-২ কর্মীরা। পাশাপাশি খামারের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উৎপন্ন দুধ, মাংস ডিম প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বাজারজাতকরণে খামারীদের সহায়তা করছে এই প্রকল্পের কর্মীরা। যা দেশের প্রাণী সম্পদ খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

এনএটিপি-২ এর লাইভস্টক এক্সটেনশন অফিসার্স এসোসিয়েশন এর সভাপতি ডা. ইনাম আহমেদ বলেন, এনএটিপি-২ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ভ্রাম্যমান দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রি কার্যক্রম সারাদেশে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন উৎপাদন কার্যক্রমের সাথে জড়িত খামারিদের উৎপাদিত পণ্য দুধ, ডিম, মাংস সঠিক মূল্যে বিক্রি করতে পারছে অন্যদিকে ক্রেতাসাধারণ ন্যায্য মূল্যে দুধ, ডিম, মাংস কিনতে পারছে।

এনএটিপি’র প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তাগণ পেশাগত দ্বায়িত্ব পালনের অন্যান্য প্রশাসনিক কাজ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করছে বলে জানান সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ডা. মুশফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন উপজেলায় করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের ত্রাণ বিতরণ ও ১০ টাকা কেজি মূল্যে চাল বিক্রয় কর্মসূচিতে ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিরলস ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। এনএটিপি’র প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের এরূপ কর্মকান্ড যেন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকে তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানাই। প্রকল্প হলো যেকোন দেশের উন্নয়নের হাতিয়ার। আর এই প্রকল্পের জনবল অনেক পরিশ্রম করে তাদের জ্ঞান ও লব্ধ অভিজ্ঞতার আলোকে দেশকে উন্নতির শীর্ষে নিয়ে যায়। তাই এই অভিজ্ঞতা থেকে তারা পরবর্তীতে প্রাণিসম্পদ বিভাগ তথা দেশকে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যেতে সক্ষম। প্রকল্প মেয়াদ শেষে দেশের প্রাণিসম্পদের স্বার্থে এই প্রশিক্ষিত জনবলসহ পদ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
মোঃ গোলাম মোস্তফা কা
১২ জুলাই ২০২০, রবিবার, ৬:০৬

রংপুর বিভাগের ৮ টি উপজেলার মধ্যে ৭ টিতে এ ক্রান্তিলগ্নে এ প্রকল্পটি থাকল কিন্তু নীলফামারিতে নেই কেন। এর উত্তর কামনা করছি। নীলফামারীর অসহায় খামারীরা

Mst. Fatima Akter
১০ জুলাই ২০২০, শুক্রবার, ৪:৩৯

এনএটিপি'র প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের এরূপ কাজ দেশের উন্নয়নে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এইরকম অভিজ্ঞ ও দক্ষ জনবল ভবিষ্যতে দেশকে আরও উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিতে সক্ষম।

অন্যান্য খবর