× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ৯ আগস্ট ২০২০, রবিবার

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী ফারজানা হত্যায় ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্টে বহাল

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা থেকে | ১৫ জুলাই ২০২০, বুধবার, ৮:২০

কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকর শিশু ছাত্রী ফারজানা আক্তার (১২) ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আবদুর রশিদ ও বশিরুল আলম নামের দুই আসামির ফাঁসির রায় হাইকোর্টে বহাল রাখা হয়েছে। গতকাল দুপুরে উচ্চ আদালতের রায়ের ওই নথি হাতে পেয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক শাহ কামাল আকন্দ ও আদালত সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিগত ২০১০ সালের ১৬ই জুন সকালে জেলার দেবিদ্বার উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের স্কুল ছাত্রী ফাজানা আক্তার বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে একটি বাঁশঝাড়ের নিচে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আবু বকর সিদ্দিক দেবিদ্বার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি হত্যা হামলা দায়ের করেন। ২০১৪ সালের ১৪ই আগস্ট কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেসমিন আরা বেগম ওই মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি আবদুর রশিদ (২৭) ও বশিরুল আলম (২৭) কে ফাঁসির আদেশ এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানার রায় দিয়েছিলেন।
 কুমিল্লার আদালত সূত্রে জানা যায়, ওই মামলায় দুই আসামীর ফাঁসির রায় দেয়ার পর উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে আসামী পক্ষ হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারী আপিল নং ৬৫০২/১৪, জেল আপীল নং ১৩১/১৪ ও ১৩২/১৪ এবং ডেথ রেফারেন্স ৫৭/১৪ দায়ের করে। কিন্তু আপীল না মঞ্জুর করে এর নিস্পত্তিতে হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ সম্প্রতি দুই আসামীর ফাঁসির রায় বহাল ও বলবৎ রাখে। মঙ্গলবার দুপুরে মামলার তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা (বর্তমানে ওসি ডিবি- ময়মনসিংহ) পুলিশ পরিদর্শক শাহ কামাল আকন্দ পিপিএম (বার) উচ্চ আদালতের নথি হাতে পেয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘শিশু ফারজানাকে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত দুই আসামী আবদুর রশিদ ও বশিরুল আলম নৃশংসভাবে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছিল, গ্রেপ্তারের পর উভয় আসামি আদালতে ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিল।
তিনি আরও বলেন ‘মামলার তদন্তে ও নিম্ন আদালতের রায়ে ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই উচ্চ আদালত চাঞ্চল্যকর এ মামলার আপিল নিস্পতিতে এক পর্যবেক্ষণে তদন্ত কর্মকর্তা কর্তৃক সঠিক তদন্তে ২৪ ঘণ্টার মধেই রহস্য বের করা ও নিম্ন আদালতে বিচার কাজের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে ন্যায় বিচারের স্বার্থে দ্রুততম সময়ে দন্ডপ্রাপ্তদের ফাঁসির রায় কার্যকর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।’ এদিকে শিশু ফারজানার পরিবারও উচ্চ আদালতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ২ আসামির ফাঁসি বহাল রাখার খবরে খুশি, তারাও অবিলম্বে ২ ঘাতকের ফাঁসি কার্যকরের দাবি করেছেন।
সেই দিনের ঘটনা: ২০১০ সালের ১৬ই জুন বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে ফারজানাকে দেবিদ্বার উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের একটি বাঁশঝাড়ের নিচে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে বাঁশঝারের নিচ থেকে ফারজানার লাশ উদ্ধার করে জ্বীন তাকে মেরে ফেলেছে বলে এলাকায় অপপ্রচার চালায় আসামিরা। একপর্যায়ে তার লাশ আসামি আবদুর রশিদের বাড়ির পাশের বাঁশঝাড়ে উলঙ্গ ও মুখে টাওয়াল বাধা অবস্থায় পাওয়া যায়।  এ ঘটনার ২ দিন পর শিশুটির বাবা আবু বকর সিদ্দিক তার পার্শ্ববর্তী বাড়ির মৃত আবদুল হাকিমের পুত্র আবদুর রশিদ (২৭) ও আ: হাকিমের পুত্র বশিরুল আলমকে (২৬) আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দেবিদ্বার থানার তৎকালীন এসআই (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা -ডিবি ময়মনসিংহ) শাহ কামাল আকন্দ পিপিএম (বার) তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ১৯শে আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানীর পর আদালত ১৪ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৪ সালের ১৪ আগষ্ট কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেসমিন আরা বেগম ওই মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি আবদুর রশিদ (২৭) ও বশিরুল আলম (২৭) কে ফাঁসির আদেশ এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানার রায় দিয়েছিলেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর