× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, বুধবার

বিশ্ববাজার ধরতে ১ কোটি কম্প্রেসার উৎপাদনের লক্ষ্য ওয়ালটনের

এক্সক্লুসিভ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | ২৫ জুলাই ২০২০, শনিবার, ৭:৪৩

পণ্য উৎপাদন পর্যায়ে মান নিয়ন্ত্রণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে সর্বাধুনিক ইউরোপিয়ান প্রযুক্তি আর দক্ষতার সমন্বয়ে দেশে বিশ্বমানের কম্পেসার ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ উৎপাদন করছে ওয়ালটন। ফলে বিশ্ববাজারে কম্প্রেসারসহ ওয়ালটনের প্রযুক্তি পণ্যের আগ্রহ বাড়ছে। কম্পেসারের সর্বোচ্চ গুণগতমান ও দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিতের মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতেও পরিকল্পনা অব্যাহত রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। ইতিমধ্যেই কম্পেসার রপ্তানি শুরু করেছে ওয়ালটন। তাই চাহিদা বাড়ায় ২০২৫ সালের মধ্যে বার্ষিক ১ কোটি কমেপ্রসার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। জানা গেছে, সম্প্রতি ইউরেশিয়া অঞ্চলের বিজনেস হাব হিসেবে খ্যাত তুরস্কে কম্পেসার রপ্তানি শুরু করেছে ওয়ালটন। এর মধ্য দিয়ে দেশটির সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সূচনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তুরস্কের খ্যাতনামা প্রযুক্তিপণ্য বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান কার্গির সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।
এর ফলে তুরস্কসহ সমগ্র ইউরোপে ওয়ালটন পণ্যের বাজার সমপ্রসারণের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হয়েছে বলে মনে করে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া ইরাক, স্লোভাকিয়া, অস্ট্রিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওয়ালটন কম্প্রেসার এবং যন্ত্রাংশ রপ্তানি হচ্ছে।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কম্প্রেসার কারখানার বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৪ মিলিয়ন বা ৪০ লাখ। ২০২৫ সালের মধ্যে এ উৎপাদন সক্ষমতা ১০ মিলিয়ন বা এক কোটিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে ওয়ালটনের। এতে করে নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিশ্ববাজারে আরো বেশি কমেপ্রসার রপ্তানি করতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি। দেশে বছরে চাহিদা রয়েছে ৩০ লাখ পিস কমেপ্রসার।
ওয়ালটন কমেপ্রসারের সিইও প্রকৌশলী মীর মুজাহেদীন ইসলাম জানান, নিজস্ব কারখানায় জার্মান প্রযুক্তিতে বিশ্বের সবচেয়ে ‘সাইলেন্ট ও ডিউর‌্যাবল’ কম্প্রেসার তৈরি করছে ওয়ালটন। আমাদের কারখানায় রয়েছে স্টিল, জিংক, অ্যালুমিনিয়াম ও কপার কাস্টিং, ফাউন্ড্রি, মেটাল প্রসেসিং এবং গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ। আছে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সর্বাধুনিক প্রযুক্তির টেস্টিং যন্ত্রপাতি ও ল্যাব। বর্তমানে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির নতুন আরেকটি সিরিজের কম্প্রেসার উৎপাদনে কাজও শুরু করা হয়েছে। নতুন এ সিরিজটির উৎপাদন শুরুর পর রপ্তানির পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে বলে আশাবাদী তিনি। তিনি বলেন, নিজস্ব কারখানা চালুর পর থেকেই জার্মানিভিত্তিক বিশ্বের একটি খ্যাতনামা কম্প্রেসার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটনের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণ যন্ত্রাংশ নিচ্ছে। এটা বাংলাদেশের জন্য বড় একটি অর্জন। এ খাতে চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তিনি বলেন, কম্প্রেসার তৈরি পুরোটাই প্রযুক্তিনির্ভর। সামান্য ত্রুটি হলেই পণ্যের মান এদিক-সেদিক হতে পারে। এটাই চ্যালেঞ্জ। এছাড়া চীনা নিম্নমানের কম্প্রেসার আমাদের বাজারের জন্য গ্রাহকদের মাঝে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হতে পারে। কারণ একটা ফ্রিজের মূল প্রাণ হলো কম্প্রেসার।
সূত্র মতে, ওয়ালটন দেশের প্রথম, এশিয়ার অষ্টম এবং বিশ্বের ১৫তম দেশ হিসেবে কম্প্রেসার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ২০১৭ সালের ৬ই এপ্রিল। গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে সর্বাধুনিক কম্প্রেসার ম্যানুফ্যাকচারিং প্লান্ট গড়ে তোলে প্রতিষ্ঠানটি। সেখানে কাজ করছেন দেশি-বিদেশি দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রকৌশলীরা। পণ্যের গুণগতমানের বিষয়টি মাথায় রেখে শতাধিক প্রকৌশলীকে ইউরোপ থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে বলে জানান মীর মুজাহেদীন ইসলাম।
‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগযুক্ত এ কম্প্রেসারের দু’টি ক্যাটাগরি রয়েছে। একটি ফ্রিজের কম্প্রেসার, অন্যটি এসি’র। প্রতিষ্ঠানটি ফ্রিজের ১২ বছরের গ্যারান্টি দিয়ে থাকে। এসি’র কম্প্রেসারে এ সময়সীমা ১০ বছরের। গ্রাহকদের সুবিধার কথা ভেবে ওয়ালটন ফ্রিজের কম্প্রেসারে দুই বছরের বেশি গ্যারান্টি দিচ্ছে। আগে ফ্রিজের কম্প্রেসারে ১০ বছরের গ্যারান্টি সুবিধাটি ছিল। ফ্রিজের কম্প্রেসারে দীর্ঘস্থায়ী গ্যারান্টির বিষয়টি ওয়ালটন ফ্রিজের প্রতি গ্রাহকের আস্থা আরো সুসংহত হওয়ার প্রত্যাশা প্রতিষ্ঠানটির।
প্রকৌশলীরা জানান, কম্প্রেসার হচ্ছে রেফ্রিজারেটরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যন্ত্রাংশ। ফ্রিজের স্থায়িত্বের বিষয়টি কম্প্রেসারের সর্বোচ্চ গুণগতমানের ওপর নির্ভর করে। তাই গ্রাহকদের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে ওয়ালটন ফ্রিজে ব্যবহার করা হচ্ছে গুণগতমানের কম্প্রেসার। আগের তুলনায় কম্প্রেসারের অ্যাকুইরেসি এবং কুলিং সিস্টেমে বেশি পারফেকশন এনেছে ওয়ালটন। কমেপ্রসারে বিল্ট-ইন অটোমেটিক ভোল্টেজ প্রটেকশন সিস্টেম থাকায় বিদ্যুৎ প্রবাহের তারতম্যেও তেমন কোনো প্রভাব পড়ে না।
ওয়াটন জানায়, বর্তমানে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, রাশিয়া এবং ইউরোপের দেশগুলোতে ওয়ালটন পণ্যের বাজার সমপ্রসারণে ব্যাপকভাবে কাজ চলছে। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতনামা ব্র্যান্ডের কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে রপ্তানি আদেশ পাচ্ছে ওয়ালটন। বিশ্বের প্রায় ৩৫টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে ওয়ালটন পণ্য। ওয়ালটনের বিভিন্ন পণ্য সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক টেস্টিং ল্যাব ‘এসজিএস’-এর কাছ থেকে অর্জন করেছে সিই, আরওএইচএস, ইএমসি ইত্যাদি সনদ। যেগুলো ইউরোপের বাজারে পণ্য রপ্তানির জন্য অত্যাবশ্যক।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর