× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১ অক্টোবর ২০২০, বৃহস্পতিবার

ক্ষতবিক্ষত গোয়াইনঘাটের সড়ক

বাংলারজমিন

মিনহাজ উদ্দিন, গোয়াইনঘাট (সিলেট) থেকে | ১০ আগস্ট ২০২০, সোমবার, ৭:৫৬

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ৪ দফা বন্যায় মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সবক’টি সড়কে। উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী এসব সড়কের অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ। সড়কসমূহে শুধু গর্ত আর গর্ত। কোথাও কোথাও বিশাল ভাঙন, ফাটল দেখা দিয়েছে। ব্রিজ, কালভার্টসমূহের মাটি সরে গিয়ে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধও আছে কোনো সড়কের। পুরো গোয়াইনঘাটজুড়ে এলজিইডির করা ১৬২ কিলোমিটার সড়ক  প্রায় স্থানে ভেঙে গিয়ে ক্ষতবিক্ষত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। সরজমিনে গত বৃহস্পতিবার গোয়াইনঘাটের গোয়াইনঘাট-রাধানগর-জাফলং সড়ক, সিলেট-সালটিকর-গোয়াইনঘাট সড়ক, সিলেট-সারী-গোয়াইন সড়ক প্রধান প্রধান সড়কসমূহে পরিদর্শন করে সড়কসমূহে বন্যায় ভাঙন সৃষ্ট ভয়াবহতা লক্ষ্য করা যায়। এ ছাড়াও গোয়াইনঘাট-সোনারহাট সড়ক, গোয়াইনঘাট-হাতিরপাড়া-ফতেহপুর সড়ক, গোয়াইনঘাট-সাতাইন-কোওর বাজার উপজেলা সড়কসহ গ্রামীণ সড়কসমূহেরও একই অবস্থা বিরাজ করছে।
এসব সড়কের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে গোয়াইনঘাট-রাধানগর-জাফলং সড়কের অবস্থা। উক্ত সড়কের বেশক’টি ব্রিজের এপ্রোচ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় গোয়াইনঘাটের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সড়কটিতে সিলেটের এলজিইডির তরফে মোবাইল মেইনটেন্যান্স খাত হতে বড় অঙ্কের বরাদ্দ হলেও ২ দফা নামে কিছু বালু এবং পরিত্যক্ত ইটের রাবিশ ফেলা হয় জনসাধারণ চলাচলের জন্য, যা ইতিপূর্বে বন্যার পানির তোড়ে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। এমতাবস্থায় সড়কটিতে যাত্রী,পথচারী চলাচলে মারাত্মক দুর্ভোগ ভোগান্তি ভোগ করতে হচ্ছে। সিলেট-সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়কের দামারি, পেকেরখাল, টুকুইরসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কটিতে গর্ত আর ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। সারী-গোয়াইন সড়কের ১৬ কিলোমিটার সড়কেও বিভিন্ন স্থানে গর্ত ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। সড়কটির ভাঙনের নেপথ্যে রয়েছে আলীরগাঁও ইউনিয়নের কাকুনাখাই এলাকায় গড়ে ওঠা বিতর্কিত হিদাইরখাল বাঁধ। সারী অববাহিকায় হিদাইরখাল নদীর উৎসমুখে স্বার্থান্বেষী মহল কর্তৃক অবৈধ এই বাঁধ তৈরি করে পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ করে রাখার কারণে সড়কটির সঙ্গে অতিরিক্ত পানি গিয়ে ধাক্কা খাওয়ায় ও বিভিন্ন স্থানে কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দিয়ে ঘর বাড়ি নির্মাণ করায় পানির প্রবাহের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উক্ত সারী-গোয়াইন সড়কটির পাশাপাশি বিতর্কিত বাঁধটি শুধু গোয়াইনঘাট-রাধানগর-জাফলং সড়কেরও ক্ষয়ক্ষতির কারণ বলে মনে করেন সচেতন এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে কথা হলে জাফলংয়ের ব্যবসায়ী সুরুজ মিয়া জানান, বন্যায় সবক’টি সড়কে মারাত্মক ভাঙন দেখা দিছে, গোয়াইনঘাট-রাধানগর-জাফলং সড়কের অবস্থা একেবারে নাজুক। ব্রিজসমূহের এপ্রোচ সরে গিয়ে গর্তের কারণে ১৫ দিন ধরে সরাসরি উপজেলার সঙ্গে জাফলংয়ের যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সিএনজিসহ যানবাহন ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে দ্বিগুণ। গোয়াইনঘাট প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাংবাদিক এম এ মালিক বলেন, পর পর ৪ দফা বন্যায় গোয়াইনঘাটের সর্বত্রই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। কৃষি, মৎস্যের পাশাপাশি বিশেষ করে পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় গোয়াইনঘাটের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা একেবারে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। প্রায় সবক’টি সড়কই যেন ক্ষতবিক্ষত রূপ ধারণ করেছে। সড়কসমূহ দ্রুত সংস্কারে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি। গোয়াইনঘাটের উপজেলা প্রকৌশলী রাসেন্দ্র চন্দ্র দেব জানান, দফায় দফায় বন্যার কারণে গোয়াইনঘাটের সর্বত্রই সড়কসমূহের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। সবক’টি সড়কের চিত্র ও তথ্যাবলী আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। এ ব্যাপারে কথা হলে গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুস সাকিব বলেন, পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় গোয়াইনঘাটের সড়ক, কৃষি, মৎস্যসহ সবক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সার্বিক চিত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং এখানকার সর্বোচ্চ জনপ্রতিনিধি সরকারের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপিকেও অবহিত করেছি।
আশা করা যায়, গোয়াইনঘাটের সড়কসমূহের স্থায়ী সমাধানে একটা ইতিবাচক উদ্যোগ অচিরেই পাওয়া যাবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর