× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১ অক্টোবর ২০২০, বৃহস্পতিবার

বদরগঞ্জ পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে ১১ কাউন্সিলরের অনাস্থা

বাংলারজমিন

বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি | ১০ আগস্ট ২০২০, সোমবার, ৮:৪০

রংপুরের বদরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র উত্তম কুমার সাহার অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, কর্মচারী নিয়োগে প্রায় আড়াই কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ১১ কাউন্সিলর অনাস্থা এনেছেন। গতকাল (৯ই আগস্ট) সকালে রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসানের কার্যালয়ে গিয়ে তারা ১৩টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করে মেয়রের বিরুদ্ধে ওই অনাস্থার আবেদন করেন। মোট ছয় পৃষ্ঠার ওই অনাস্থাপত্রে মেয়র উত্তম কুমার সাহার বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতির চিত্র, অতিগোপনীয় বেশ কিছু অজানা তথ্য তুলে ধরেন কাউন্সিলররা। এ সময় তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে মেয়র উত্তমের সব অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তি দাবি করেন। অনাস্থার অনুলিপি দেয়া হয় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় এমপি ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ মোট ১২টি দপ্তরে। অনাস্থাপত্র দেয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন, কাউন্সিলর একরামুল হক, ইউনুস আলী, খায়রুল আনাম কোহিনুর, নীলকান্ত পাইকাড়, খোকন কুমার দাস, মিজানুর রহমান, তহিদুল ইসলাম বাবু, মোকছেদুর রহমান, মোকছেদুল আলম, আজিমা বেগম ও মিতু রানী দাস।
অনাস্থাপত্রে ১৩টি অভিযোগে কাউন্সিলররা উল্লেখ করেন, মেয়র উত্তম সাহা পৌরসভার হিসাব-নিকাশ দেন না। কথায় কথায় কাউন্সিলরদের হুমকি-ধমকি এমনকি মারধর করার ভয়ভীতি দেখান। ২০১৬ সাল থেকে চলতি বছরের ২০শে জুন পর্যন্ত তিন দফায় কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।
এর মধ্যে চলতি বছরের ২০শে জুন নিয়োগ পরীক্ষার আগে যাদের বিরুদ্ধে ঘুষ দিয়ে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ ওঠে তারাই নিয়োগ পান। ওই নিয়োগে একইদিনে দুপুরে লিখিত পরীক্ষা, সন্ধ্যায় মৌখিক ও রাতের মধ্যেই তড়িঘড়ি করে নিয়োগ পরীক্ষার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে সরকারের দেয়া ডেঙ্গু নিধন কার্যক্রমের ৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন মেয়র উত্তম সাহা। এছাড়াও সাম্প্রতিক মহামারি করোনার ক্রান্তিকালে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণের তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা নয়ছয় করেছেন মেয়র উত্তম সাহা। এ নিয়ে মেয়রের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ করেন কাউন্সিলররা।
এদিকে অর্থের বিনিময়ে মেয়র উত্তম সাহা বয়স সীমার চাকরিবিধি অমান্য করে বেশ কয়েকজন কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে কোটি টাকা নিয়ে গত ২০শে জুন ছয় কর্মচারী নিয়োগ দেয়ার ঘটনায় ১১ কাউন্সিলর পৌরভবন মিলনায়তনে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। ওই সাংবাদিক সম্মেলনে মেয়রের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরায় মেয়র উত্তম সাহা খোকন কুমার দাস ও একরামুল হককে দুস্কৃতিকারী দিয়ে খুন-জখম করার হুমকি দেয় বলে অনাস্থাপত্রে উল্লেখ করা হয়।  
কাউন্সিলর মিজানুর রহমান ও খোকন কুমার দাস বলেন, ‘সুনির্দিষ্টভাবে ১৩টি অভিযোগ তুলে অনিয়ম-দুর্নীতির মহারাজা মেয়র উত্তম সাহার আসল চরিত্র আমরা তুলে ধরেছি। তিনি পৌরসভাকে নিজের সম্পত্তি মনে করেন। এমনকি তিনি প্রায় সময়ই আমাদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে অমানবিক আচরণ করতেন। নারী কাউন্সিলরদের সঙ্গে অশালীন ব্যবহার করতেন। এতে আমরা তার ব্যবহারে অতিষ্ঠ। তিনি বলতেন কাউন্সিলরদের দরকার নেই। আমি একাই পৌরসভা চালাবো।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর