× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১ অক্টোবর ২০২০, বৃহস্পতিবার

শ্যালকের হাতে খুন হন আবাসন ব্যবসায়ী আবুল খায়ের

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১০ আগস্ট ২০২০, সোমবার, ৯:১৮

আবাসন ব্যবসায়ী আবুল খায়েরকে হত্যা করেছে তারই শ্যালক মিলন। এ ঘটনায় মিলনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মিলন দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ থেকে খায়েরকে হত্যা করেছে। আবুল খায়ের ও মিলন এক সময় ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন তাদের সম্পর্কটা দীর্ঘ সাতাশ বছরের এক সময় তাদের কারও জীবন সুখকর ছিল না। বন্ধু আবুল খায়ের লেখাপড়া জানতেন তবুও নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন। তার সঙ্গে একই কাজ করতো মিলন। ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হওয়াতে খায়েরের সঙ্গে নিজের বোনের বিয়ে দিয়েছিল মিলন। একসময় খায়ের নির্মাণ শ্রমিকের কাজ ছেড়ে নির্মাণ প্রতিষ্ঠান সজীব বিল্ডার্সের কাজ শুরু করেন।
এই প্রতিষ্ঠানের এমডির দায়িত্ব পালন করেন আবুল খায়ের। লাভজনক ব্যবসা হওয়াতে অল্প কিছু দিনের ভেতরে তার বাড়ি-গাড়ি ও প্রচুর টাকা হয়ে যায়। কিন্তু ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি মিলন। সে নির্মাণ শ্রমিকই রয়ে যায়। এ ছাড়া মিলনের বোনের সঙ্গে খায়েরের সম্পর্কটাও ভালো যাচ্ছিলো না। বোনকে শারীরিক নির্যাতনও করেছিল ভগ্নিপতি। এতে করে মিলনের মনে জমতে থাকে ক্ষোভ। এ রকম ছোট বড় অনেক ক্ষোভ ও কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ভগ্নিপতিকে হত্যা করে মিলন।
মিলন পুলিশকে জানিয়েছে, সে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়নি। ঘটনার সময় মেজাজ হারিয়ে সে আবুল খায়েরকে প্রথমে লোহার রড দিয়ে পরে কাঠের টুকরা দিয়ে আঘাত করেছে। কারণ মিলন সজীব বিল্ডার্সে দৈনিক ৬০০ টাকা মজুরিভিত্তিতে রড বাইন্ডার হিসেবে কাজ করতেন। আবুল খায়েরের সঙ্গে তার ব্যবসায়ীক লেনদেনও ছিল। নির্মাণ ব্যবসা করেই তারা তাদের জীবিকা নির্বাহ করতেন। যে প্রজেক্টে কাজ চলছিল সেখানকার ঠিকাদার ছিলেন আবুল খায়ের আর মিলন ছিলেন শ্রমিক। তিনি আবুল খায়েরের কাছে আট লাখ টাকা পেতেন বলে দাবি করেছেন। ভবন নির্মাণে যে মুনাফা আসতো তার একটি টাকাও তাকে দিতেন না আবুল খায়ের। মিলন পুলিশকে আরো জানিয়েছে, প্রায়ই সে বোনের বাসায় যাতায়াত করতো। বোন ও ভগ্নিপতির মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। সেটি ভেবেই ভগ্নিপতিকে ওই নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে আসে। কিন্তু সেখানে যাবার পর তাদের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা  ও কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে মিলন তার ভগ্নিপতিকে আঘাত করে।
পুলিশ জানিয়েছে, ৬ই আগস্ট বিকাল বেলা ভগ্নিপতি আবুল খায়েরের সঙ্গে কথা বলার জন্য নির্মাণাধীন একটি ভবনে ডাকে মিলন। তার আগে বিকাল তিনটার দিকে আবুল খায়েরের মোবাইলে ফোন আসে। তারপরই তিনি বাসা থেকে বের হয়ে যান। অন্যদিন তিনি সন্ধ্যার মধ্যে বাসায় ফিরলেও ওই দিন আর ফেরেননি। তাই খায়েরের স্ত্রী রূপালী বেগম রাতে একাধিকবার তার মোবাইলে ফোন দেন। কিন্তু ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। রাতে পুলিশকেও বিষয়টি জানান। তবুও খায়েরের কোনো খবর মিলেনি। পরের দিন সকালে বসুন্ধরা এম ব্লকের একটি নির্মাণাধীন ভবনে স্বামীর বন্ধুদের নিয়ে যান রূপালী। সেখানে গিয়ে তিনি তার স্বামীর মোটরসাইকেল দেখতে পান। পরে দ্বিতীয় তলায় গিয়ে দেখেন সেখানে উপুড় হয়ে আবুল খায়েরের রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে। পরে ভাটারা থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। মরদেহ উদ্ধারের পরদিন নিহত আবুল খায়েরের মেয়ে খাদিজা আক্তার স্বর্ণা (২০) বাদী হয়ে ভাটারা থানায় হত্যা মামলা করেন।
আবাসন ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন নিয়ে পুলিশের গুলশান বিভাগ গতকাল সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে গুলশানের ডিসি সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, আমরা পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও বিভিন্ন তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে নিশ্চিত হই মিলনই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। আবুল খায়ের হত্যার পর মিলনের চাঁদপুর চলে যাওয়া এবং চাঁদপুর থেকে আবার ঢাকা আসায় সন্দেহ বাড়ে। পরে শনিবার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে মিলনকে গ্রেপ্তার করেছে ভাটারা থানা পুলিশ। মিলন ভগ্নিপতিকে হত্যার দায়ও স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর