× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, বুধবার
প্রথম হওয়াটা বড় বিষয় নয়- যুক্তরাষ্ট্র

রাশিয়া ‘ফার্স্ট’, টিকা চেয়েছে ২০ দেশ, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১১ আগস্ট ২০২০, মঙ্গলবার, ৯:৫৫

নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় থাকা সত্ত্বেও বিশ্বের মধ্যে প্রথম করোনা ভাইরাসের টিকা অনুমোদন দিয়েছে রাশিয়া। মঙ্গলবার এ অনুমোদন দিয়ে প্রেসিডেন্ট  ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, তার এক মেয়ের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে এই টিকা। এর নাম দেয়া হয়েছে ‘স্পুটনিক-ভি’ বা স্পুটনিক-৫। এর নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ থাকলেও রাশিয়া বলেছে, কমপক্ষে ২০টি দেশ থেকে এই টিকার কমপক্ষে ১০০ কোটি ডোজের আবেদন পেয়েছেন তারা। আগে থেকেই রাশিয়া দাবি করেছিল, তারা স্পুটনিক যুগের মতো চমক সৃৃষ্টি করবে। তাতে যুক্তরাষ্ট্র বিস্মিত হবে। কিন্তু বাইরের কোনো দেশের, বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ, অনুমোদন ছাড়াই রাশিয়া সেই টিকার অনুমোদন দিয়েছে। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও হিউম্যান সার্ভিসেস বিষয়ক মন্ত্রী অ্যালেক্স আজার রাশিয়ার এমন অনুমোদনে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। রাশিয়া দাবি করেছে, তারা কোভিড-১৯ টিকায় বিশ্বে প্রথম। মার্কিন মন্ত্রী আজার ‘গুড মর্নিং আমেরিকা’ অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার বলেছেন, টিকা তৈরিতে প্রথম হওয়াটা বড় বিষয় নয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মার্কিন জনগণ ও বিশ্ববাসীর জন্য নিরাপদ ও কার্যকর একটি টিকা। তিনি আরো বলেছেন, এ জন্যই ঐতিহাসিক অপারেশন ওয়ার্প স্পিড উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, যেখানে ৬টি টিকা তৈরিতে পর্যায়ক্রমিক কাজ চলছে। তিনি মনে করেন ডিসেম্বরের মধ্যে এফডিএর গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড কয়েক কোটি ডোজ চলে আসবে। আর আগামী বছরে আসবে শত শত কোটি ডোজ। এর মধ্য দিয়ে তিনি রাশিয়ার ওই দাবিকে উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেছেন, একটি টিকা তৈরিতে স্বচ্ছ ডাটা প্রয়োজন। তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা থেকে আসা ডাটার প্রয়োজন, যা বলবে যে একটি টিকা নিরাপদ ও কার্যকর। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, তারা এই টিকা গ্রহণ করবেন না। সিএনএনের ড. সঞ্জয় গুপ্ত বলেছেন তিনি রাশিয়ার এই টিকা নেবেন না। তার ভাষায়, আমি এই টিকা সম্পর্কে কিছু জানি না। একই কথা বলেছেন ইউএস ফুড এন্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) সাবেক কমিশনার ড. স্কট গোতলিয়েব।
ওদিকে কিভাবে ডিসেম্বরকে টাইমলাইন হিসেবে ধরছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী আজার বলেন, ৬টি টিকার মধ্যে দুটি এখন তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় আছে। এতে এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রমাণ হবে। তবে ড. সঞ্জয় গুপ্ত রাশিয়া উদ্ভাবিত টিকা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, এই টিকার বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। তাই তিনি এই টিকা নিয়ে স্বস্তি বোধ করবেন না। রাশিয়া যখন ইবোলা ভাইরাসের টিকা আবিষ্কার করছিল তখনকার কথা এতে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। কারণ, তিনি ওই সময়ের তিন দফা পরীক্ষার কোনো তথ্য বা ডাটাই জানতে পারেন নি।
যে যতই বিতর্ক করুন বা না করুন রাশিয়া কিন্তু জানিয়ে দিয়েছে বিশ্বের প্রায় ২০ টি দেশ তাদের উদ্ভাবিত টিকার কমপক্ষে এক শত কোটি ডোজের জন্য আবেদন করেছে। এ তথ্য দিয়েছে রাশিয়া ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের প্রধান। ১৯৫৭ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন বিশ্বের প্রথম স্যাটেলাইট সফলতার সঙ্গে উৎক্ষেপণ করে। সেই বিস্ময়কে মনে করিয়ে দিতে এই টিকার নাম রাখা হয়েছে ‘স্পুটনিক-ভি’। রাশিয়া ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের প্রধান কিরিল দমিত্রিয়েভ মঙ্গলবার বলেন, তাদের দেশের গ্যামালিয়া ইনস্টিটিউট আবিষ্কৃত টিকার উল্লেখযোগ্য চাহিদা দেখতে পেয়েছেন তারা বিশ্বজুড়ে। তার ভাষায়, আমাদের বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে এরই মধ্যে আমরা ৫টি দেশে প্রতি বছর এই টিকার ৫০ কোটি ডোজ তৈরি করতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এই উৎপাদন সক্ষমতা আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এখন পর্যন্ত লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ এই টিকার প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে। ফলে আমরা বেশ কিছু চুক্তি চূড়ান্ত করার পর্যায়ে রয়েছি।
ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রে সোমবার করোনায় আক্রান্তের মোট সংখ্যা ৫০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। সেখানে করোনা মহামারি ধীর গতির হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় সেখানে গত সপ্তাহে আক্রান্তের হার শতকরা ১১.৫ ভাগ এবং মৃত্যুর হার শতকরা ৭ ভাগ কমেছে। তা সত্ত্বেও নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্টে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এমন সন্দেহজনক মার্কিন নাগরিক বা বসবাসকারীকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ আটকে দিতে হবে সীমান্তরক্ষীদের- এমন একটি আইন করার কথা বিবেচনা করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে এমন আইন অনুমোদন পাবে কিনা অথবা ঘোষণা করা হবে কিনা তা বর্তমানে অস্পষ্ট। ওদিকে বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে ব্রাজিল ও মেক্সিকোতে একদিনে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ২৭ হাজার মানুষ। এ পর্যন্ত সারা বিশ্বে মারা গেছেন কমপক্ষে ৭ লাখ ৩৫ হাজার মানুষ।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
আনিছুল ইসলাম
১২ আগস্ট ২০২০, বুধবার, ১০:০৭

রাশিয়া কোন ফালতু দেশ নয়।ভয়ের কোন কারন নাই।হাজার হাজার ডোজের রাশিয়ার টিকার ট্রাইল চাই।

Kazi
১১ আগস্ট ২০২০, মঙ্গলবার, ৩:০৩

ভালমন্দ বিবেচনা না করেই অনেক দেশ ঔষধ কিনবে। মহামারীতে মানুষ অন্ধের মত আচরণ করবে।

অন্যান্য খবর