× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার

কারণ ছাড়াই বাড়ছে চালের দাম

অনলাইন

আলতাফ হোসাইন | ১২ আগস্ট ২০২০, বুধবার, ৯:১১

বোরোর মৌসুম এলে চালের দাম কমবে এটাই স্বাভাবিক। চাল ব্যবসায়ীরাও এমনটা জানিয়েছিলেন। কিন্তু মৌসুম শেষ হওয়ার পর কমা তো দূরের কথা, বরং দফায় দফায় বাড়ছে দেশের প্রধান এই পণ্যটির দাম। অথচ দেশে চালের কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। তাদের কথা, বছর শেষে চাহিদা মিটিয়েও সাড়ে ৫৫ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত থাকবে। সম্প্রতি এক অনলাইন সেমিনারে এমন তথ্য তুলে ধরে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট জানায়, এ বছর সারা দেশে ধানের ফলন গড়ে ৮.৪ শতাংশ বেড়েছে। আর চালের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৩.৫৪ শতাংশ। এরমধ্যে বোরো মৌসুমে ৩.৫৮ শতাংশ বেড়ে চালের উৎপাদন ২ কোটি ২ লাখ ৬০ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে।
কিন্তু উদ্বৃত্তের কথা জানানো হলেও বেশ কিছুদিন ধরেই চালের বাজার অস্থির।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২-৩ সপ্তাহের ব্যবধানে কয়েক দফা বেড়েছে চালের দাম। এ ছাড়া বছরজুড়েই বাজার ছিল ঊর্ধ্বমুখী। সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবেই, গত এক বছরের ব্যবধানে মোটা চালের (ইরি-স্বর্ণা) দাম বেড়েছে ১৮ শতাংশের বেশি। আর সরু চালের (নাজির শাইল-মিনিকেট) দাম বেড়েছে ৮.৭৪ শতাংশ।

রাজধানীর পাইকারি বাজারগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঈদের আগে ও পরে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে দুই টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মিনিকেট চালের দাম ঈদের আগে ছিল প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। ঈদের পরে তা বেড়ে হয়েছে ৬৫ টাকা পর্যন্ত, যা গত বছর ছিল ৪৭ থেকে ৫৬। ব্রি-২৮ চাল আগে ছিল ৪০ থেকে ৪২ টাকা। কয়েক দফায় তা বেড়ে এখন ৪৮ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর মাঝারি মানের চাল পাইজাম/লতা বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৫০ টাকায়। খুচরা বাজারে যা বিক্রি হচ্ছে ৫৩ থেকে ৫৪ টাকা কেজি। ৫৪ টাকার নাজিরশাইল এখন ৫৮ থেকে ৬০ টাকা কেজি। দাম আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ক্রেতারা মনে করেন, ব্যবসায়ীদের কারসাজিই দাম বৃদ্ধির মূল কারণ। বাজারে সরকারি নজরদারি না থাকায় অতিরিক্ত মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা আরো জেঁকে বসছে বলে মনে করেন তারা। তবে খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিল মালিকরা ধান কিনে মজুত করায় চালের দাম বাড়ছে। তারাই দাম বাড়িয়েছে বলে জানায় ব্যবসায়ীরা। আর মিল মালিকরা তা বরাবরই অস্বীকার করছেন।

ঢাকা রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ সায়েম মানবজমিনকে বলেন, ধানের উৎপাদন বেশি হয়েছে এবং উদ্বৃত্ত থাকবে এটা ঠিক। কিন্তু চালকল মালিকরা শত শত কোটি টাকা ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে টনকে টন ধান কিনে মজুত করে রাখছেন। তাদের ব্যাপারে  তো কেউ কিছু বলেন না। তারাই দাম বাড়ায় আর বদনাম হয় আমাদের মতো থার্ড পার্টি ব্যবসায়ীদের। তাদের ব্যাপারে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

মিলাররা চালের দাম বাড়াচ্ছেন এমন অভিযোগ অস্বীকার করে নাহিদ অ্যারোমেটিক অটো রাইচ মিলের মালিক আহম্মেদ আলী সরদার স্বপন মানবজমিনকে বলেন, দেশের বর্তমান বাজারে চালের যে দাম তা কোনোভাবেই বেশি হতে পারে না। এটি স্বাভাবিক মূল্য। বরং আরো দাম বাড়লে দেশের কৃষকদের জন্য ভালো হতো। আমার মতে চালের কেজি ১০০ টাকা হওয়া উচিত। তাহলে দেশ বাঁচবে, কৃষক বাঁচবে। কিন্তু দাম আমরা বাড়াই না। এটা এমনিতেই বাড়ে। আমাদের মিলে মোটা চাল ৩৬ টাকা দরে দিচ্ছি আর চিকন চাল ৪২ টাকা। এখন বাজারে গিয়ে তো কিছু বাড়বেই। ব্যবসায়ীদের তো লাভ করতে হবে। এখন বলেন ৩৪ টাকা ৪২ টাকায় যে আমরা বিক্রি করছি এটা কি বেশি দাম হলো। তবুও আমরা লসের মধ্যে আছি। কারণ ধানের দাম বেশি।

তিনি আরো বলেন, মণপ্রতি ১ হাজার টাকার উপরে ধান কিনে কি আর লাভ হয় আমাদের। এরমধ্যে আবার বিভিন্ন চাঁদা। পুলিশকে চাঁদা দিতে হয়। এ ছাড়া শ্রমিক খরচসহ আমাদের তো আরো খরচ আছে। সেই হিসাবে এখন যে চালের দাম তা স্বাভাবিক বলেই মনে হয়। ধান কিনে মজুত করার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের এমনিতেই প্রতিদিন মিলে ৪ থেকে ৫ হাজার মণ ধান লাগে। হাজার হাজার মণ ধান কিনতে হয়। এখন সেগুলো যদি গুদামজাত করে রাখা হয় তাকে আপনি মজুত করা বলবেন? তিনি বলেন, বর্তমানে বাজারে সবকিছুর দাম বেশি। তাহলে চালের দাম বাড়লে সমস্যা কী? বরং চালের দাম বাড়লে দেশের কৃষকদের জন্য ভালো, দেশের জন্যও ভালো।

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ব্রির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, দেশে খাদ্য ঘাটতির কোনো আশঙ্কা নেই। চালের উৎপাদন গতবছরের তুলনায় প্রায় ৩.৫৪ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বোরো ও আমন মৌসুমের উদ্বৃত্ত উৎপাদন থেকে হিসাব করে জুন পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে ২০.৩১ মিলিয়ন টন চাল ছিল। আগামী নভেম্বর পর্যন্ত ১৬.৫০ কোটি মানুষের চাহিদা মিটানোর পরেও ৩৬-৭৮ দিনের চাল উদ্বৃত্ত থাকবে। বর্তমানে সরকারি গুদামে ১০ লাখ ৭ হাজার টন চালের মজুত আছে। গত বছর ছিল ১৫ লাখ ২১ হাজার টন।

গত রোববারের ওই সেমিনারে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, একটা গ্রুপ রয়েছে যারা সুযোগ পেলেই চালের দাম বাড়িয়ে দেয়, কৃত্রিম সংকট তৈরি করার চেষ্টা করে। কিন্তু আমাদেরকে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের স্বার্থকেই গুরুত্ব দিতে হবে। দেশে খাদ্যের ঘাটনি নেই জানিয়ে তিনি বলেন, তবুও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে সীমিত পরিমাণে চাল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। একই অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাকও বলেন, আউশ-আমনে চলমান বন্যার ক্ষয়ক্ষতি ও আমনের উৎপাদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজন হলে সীমিত আকারে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে। যদি আমনের ফলন ভালো না হয়, বন্যা প্রলম্বিত হয়, বন্যার ক্ষয়ক্ষতি ঠিকমতো কাটিয়ে ওঠা না যায়, তবে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর